বাইশারীতে জনপ্রতিনিধিসহ স্থানীয়দের বিরুদ্ধে মামলায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া

download-6.jpg

শামীম ইকবাল চৌধুরী,নাইক্ষ্যংছড়ি(বান্দরবান)থেকে::
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারীতে কথিত নারী নির্যাতন সংক্রান্ত মামলার ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। জনপ্রতিনিধিসহ স্থানীয় দশ ব্যাক্তির বিরুদ্ধে তদন্ত না করেই মামলা নেয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বাইশারী ইউনিয়নের করলিয়ামুরা ঘোনাপাড়া গ্রামের ছৈয়দ আলমের স্ত্রী ছেনোয়ারা বেগমের সাথে স্থানীয় কালু মিয়ার ছেলে আব্দু শুক্কুরের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত ও সামাজিক বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। ফলে উভয় পক্ষ পাল্টা মামলায় জড়িয়ে পড়ে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিরোধীয় জমি নিজের দাবী করে স্থানীয় আব্দু শুক্কুর বাদী হয়ে ছেনোয়ারার বিরুদ্ধে বান্দরবান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১১৪/১৭ একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় সার্ভেয়ার ও পুলিশ ঘটনাস্থল পরির্দশন করে বাদীর পক্ষে প্রতিবেদন দাখিল করেন।
পরে এই ঘটনার জের ধরে ছেনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে আব্দু শুক্কুরসহ অপর দুইজনের বিরুদ্ধে নারী শিশু ৮৭/১৭ মামলা দায়ের করলে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ আরো বৃদ্ধি পায়।
এদিকে এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই গত ১৫নভেম্বর ছেনোয়ারা বেগমকে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর, রক্তাক্ত জখম, চুরি শ্লীলতাহানি ও অপহরণের চেষ্টা করা হয়েছে এমন অভিযোগ উল্লেখ করে দুইজন নারী, বাইশারী ইউনিয়ন পরিষদের এক জনপ্রতিনিধিসহ এলাকার ১০ ব্যাক্তিকে আসামী করে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় জিআর ৩৬৪/১৭ অপর একটি মামলা দায়ের করা হয়। এর পর থেকে এলাকায় নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। স্থানীয়দের মতে, সঠিক তদন্ত না করেই জনপ্রতিনিধিসহ স্থানীয় ১০ ব্যাক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা নিয়েছে পুলিশ।
করলিয়ামুরা জামে মসজিদের ইমাম আবদুর রহমান, স্থানীয় বাসিন্দা সোলেমা খাতুন, খতিজা বেগমসহ অনেকে এ প্রতিবেদককে জানান- আব্দু শুক্কুর ও ছেনোয়ারা বেগমের মধ্যে জমি সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। তাদের এই বিরোধ কাজে লাগিয়েছে সুযোগ সন্ধানী পক্ষ। তাদের মতে, সম্প্রতি ঘটনাস্থল করলিয়ামুরা এলাকায় পুলিশ ও স্থানীয় জনতার মধ্যে সৃষ্ট ঘটনাকেও পুজি করা হয়েছে। তবে, ১৫নভেম্বর রাতে করলিয়ামুরা গ্রামে নারী নির্যাতন, অপহরণের চেষ্টা সংক্রান্ত কোন ঘটনা ওইদিন এলাকায় ঘটেনি।
এ বিষয়ে মামলা রেকর্ডকারী কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর আবু জায়েদ মো: নাজমুন নূর জানান- ‘মামলাটি রেকর্ডের পর তদন্তের জন্য বাইশারী ইনচার্জকে দেয়া হয়েছে। তদন্তকালে স্বাভাবিক ভাবে অনেকে মন্তব্য করতে পারে। তবে আইন তাঁর নিজ গতিতে চলবে’।

Top