ঢাকা উত্তর মেয়র নির্বাচন; আওয়ামী লীগের প্রার্থী আনিসুল হকের স্ত্রী রুবানা হক

received_251188968744605.jpeg

ডেস্ক নিউজঃ

আনিসুল হকের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র পদে নির্বাচনের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। ইসির সহকারী সচিব রাজীব আহসান জানিয়েছেন, ৩০ নভেম্বর থেকে ৯০ দিন, অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে মেয়র পদে উপ নির্বাচন শেষ করতে হবে। কমিশন সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে অন্তত ৪৫ দিন হাতে রেখে তফসিল ঘোষণা করতে পারে।
সরকারের মেয়াদপূর্তির শেষ বছরে এসে এই নির্বাচন রাজনীতির ময়দান উত্তপ্ত করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ওই নির্বাচনে দেশের দুই বৃহৎ রাজনীতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দলীয় মনোনয়ন কে পাচ্ছেন তা নিয়ে এখনই চলছে জল্পনা-কল্পনা।
গত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এই আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছিলেন আনিসুল হক। তার সঙ্গে মনোনয়ন দৌড়ে ছিলেন মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া ও ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম রহমতউল্লাহ। তাদের মনোনয়ন না দিয়ে দলের বাইরে থেকে ব্যবসায়ি আনিসুল হককে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দিয়ে রাজনীতিতে চমক সৃষ্টি করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আনিসুল হকের মৃত্যুতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশ নির্বাচনে এবারও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দৌড়ে আছেন মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া ও ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম রহমতউল্লাহ। তবে আভাস পাওয়া গেছে আওয়ামী লীগের সমর্থক কিন্তু সক্রিয় রাজনীতি করেন না এমন কাউকে এবারও মেয়র পদে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে। আওয়ামী লীগের একটি নির্ভরশীল সূত্র জানায় আনিসুল হকের স্ত্রী রুবানা হক বা তার ছেলে নাভিদুল হক কিংবা এই পরিবারের কাউকেই মনোনয়ন দিতে পারেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। তবে রুবানা হকের মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তিনি ব্যক্তিগতভাবে বেশ পরিচিত।সজ্জন হিসেবে খ্যাতিও আছে তার।
২০১৫’র নির্বাচনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন আবদুল আউয়াল মিন্টু। সঙ্গে তার ছেলেও মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছিলেন। মিন্টুর মনোনয়ন বাতিল হয়ে গেলে তার ছেলে তাবিথ আউয়াল বিএনপির প্রার্থী হন। নির্বাচনের দিন প্রথম প্রহরেই কারচুপির প্রতিবাদে সরে দাঁড়ান তাবিথ। তবে সম্পতি বিশ্বব্যাপী আলোড়ন তোলা প্যারাডাইস পেপার্স কেলেঙ্কারিতে নাম এসেছে মিন্টু পরিবারের। যার মধ্যে রয়েছে আব্দুল আউয়াল মিন্টু ও তাবিথ আওয়ালও। এমতাবস্থায় বিএনপি এই পরিবার থেকে কাউকে মনোনয়ন দেবে কি-না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। এছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক ডেপুটি মেয়র আব্দুস সালাম এবং ঢাকা মহানগর বিএনপির উত্তরের সভাপতি ও বিভিন্ন মামলায় মালয়েশিয়ায় পলাতক এমএ কাইয়ুমের নাম রয়েছে আলোচনায়। এছাড়া কেন্দ্রীয় কোনো কোনো নেতার নামও রয়েছে আলোচনায়।

২০১৫ সালের দুই প্রার্থীর কেউই দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেননি। এবার দুই দলকে দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে হবে। কেননা স্থানীয় সরকার নির্বাচন নতুন আইনে দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের বিধান রয়েছে। তাই ডিএনসিসির এই নির্বাচন জাতীয় নির্বাচনের মহড়াই হবে বলে মনে করা হচ্ছে। রংপুর, গাজীপুর ছাপিয়ে রাজনীতির কেন্দ্র বিন্দু হবে ঢাকা।

Top