মুক্তিযুদ্ধের টেলিফিল্ম ‘মাঝি’

20171121_182519.jpg

নজরুল ইসলাম তোফা||
ফুলতলী গ্রামের এক নীতিবান, আদর্শ, জনদরদী ‘পরান’ একজন মুক্তিযুদ্ধা। স্বদেশের ভালোবাসায় ও গভীর টানেই মুক্তিযুদ্ধের মহৎ কাজে অংশ গ্রহন করেছিলেন। যুদ্ধ শেষে অক্ষত অবস্হায় বসতবাড়িতে ফিরে এসেই দেখে ঘরে তার প্রানপ্রিয় প্রিয়তমা অর্থাৎ আপন সহধর্মিনী ধর্ষিত এক কুচক্রী লালসাপরায় ব্যক্তি দ্বারা। এমন ভয়ানক ছোবলেই ক্ষত বিক্ষত হয়েই শেষে তার স্ত্রী মৃত্যুর কোলে কোলে ঢলে পড়ে। এমন কুৎসিৎ ধর্ষনের ষড়যন্ত্রকারীকে যেন এগ্রামের মানুষ মেনে নিতে পারেননি। অবিলম্বেই সে গ্রামবাসীর কাছে তার স্ত্রীর বিচার চান। সেই বিচার চাওয়ায় কিছু অসৎ প্রকৃতির মানুষ তাকে বিতর্কিত করে তোলে। পরান কি করবে ভেবে পায়না উপায়, তার সাজানো সুখের সংসার যে একেবারেই ধ্বংস হয়ে গেল।

শুধুই থাকে তার বাবার দেওয়া একটুকরো ভিটে মাটি ও একমাত্র স্নেহের শিশু কন্যা পুষ্প। পরানের এখন বাস্তব জীবন অনেক কষ্টের। আবার তাকে খুব দারিদ্র্যের মধ্যে জীবন পার করতে হয়। গ্রামের অনেকেই ভালোবাসে পরানকে। তাই পরানকে নদীর ঘাট ডেকে দেয়। তিনি শেষে খেয়া ঘাটের মাঝি হয়ে যান। দারিদ্র্যতার এই সংগ্রামী পরান মাঝি শিশুকন্যা পুষ্পকে নিয়ে কোন ভাবেই বাকিটুকু জীবন পার করবার ইচ্ছে পোষন করেন। অপর দিকে আবার পরান মাঝিকে নিজ গ্রামের একজন সৎ সাহসী লিডার আজম তাকে খুব ভালোবেসেই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু তার বিপক্ষেও একজন খারাপ মানুষ অর্থাৎ এ গ্রামেরই দবির মেম্বরের দৃষ্টি পড়ে। মেম্বর দবির পর পর তিনবার নির্বাচিত মেম্বর হয় ভয়ভীতিও জোর পূর্বক ভাবে। কিন্তু নিজ গ্রামের সেই সৎ, সাহসী লিডার আজমের অনুপ্রেরনায় পরান মাঝি প্রথম মেম্বর হয় বিপুল ভোটে। এতে ক্ষুদ্ধ হয়ে পরাজয়ের গ্লানি সহ্য করতে না পেরে বিজয়ী পরান মাঝিকে সাবেক মেম্বর দবির নির্ম্মম ভাবেই খুন করে। গ্রাম বাসি পরান মাঝির জন্যই খুব মর্মাহত হন। পরান মাঝির লাশটাকে উপজেলার অনেক সাংবাদিক এবং প্রশাসনিক প্রচেষ্টায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদার মতোই যেন দাপন করে। এখানেই এই মৌলিক কাহিনীর সমাপ্তি ঘটলেও ক্লাইমেকসটিই সবচেয়ে বড় বিষয়।সেই দিক লক্ষ রেখেই নির্মাতা নির্মাণ করছেন এক গল্প কেন্দ্রিক টেলিফিল্ম ‘মাঝি’।

মুক্তিযুদ্ধ অবলম্বনে নির্মিত টেলিফিল্মটির রচয়িতা ও নির্মাতা মিনহাজ মল্লিক বলেন, এ পর্যন্ত সবগুলো ফিল্ম বা নাটকের গল্প এবং স্ক্রিপ্ট রাইটিং নিজ হস্তেই করেছেন। তাই এই মাঝি টেলিফিল্মটিও তাঁরই করা। তার চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় টেলিফিল্ম মাঝি অনেক ভালো হবে সে আশা পোষন করেন। তিনি আরও বলেন, ‘মাঝি’ চরিত্রে নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন সুদক্ষ অভিনেতা কাজী সামাদ। তার এই মাঝি চরিত্রের অভিনয়ে পরিচালক রীতি মতো মুগ্ধ। শুটিং স্পটেও তিনি অনেক প্রসংসা পেয়েছেন। দবির নামক চরিত্রে সিংড়ার পল্লী বিদ্যুতের ডিরেক্টর আব্দুল ওয়াদুদ স্বপন। গ্রামের একজন সৎ সাহসী লিডার আজম চরিত্রে এ কে আজাদ। তাছাড়াও সিংড়া উপজেলার অনেক সাংবাদিক এই ‘মাঝি’ টেলিফিল্মে চমৎকারভাবে অভিনয় করেছেন। তারা হলেন, মিজানুর রহমান, রাজু আহমেদ, রাকিব হাসান, এমরান আলী রানা, জাফর সিদ্দিক ও সাংবাদিক সুমন। শিশু শিল্পী চরিত্রে তামান্না। আরও অন্য চরিত্রে আব্দুর রউফ, বকুল, মিজান দুলাল, কাদের, আলম এবং অনেক গ্রাম বাসি চমৎকার অভিনয় করেছেন।

পরিচালক মিনহাজ মল্লিক বলেন, তাঁর এই ‘মাঝি’
টেলিফিল্মটি অনেক কাজের সংখ্যায় ২৪তম। তিনি এই প্রথম মুক্তিযুদ্ধ ভিক্তিক নির্মাণ কাজে অগ্রসর হয়েছেন। নজরুল ইসলাম তোফাকে তিনি বলেন, শ্রদ্ধেয় গুরু বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক আলী আজাদ এবং এস এম সোহেল খানের প্রযোজনা ও তার কাজের সঙ্গে রয়েছেন ‘ভোর হোল দোর খোল’ নাট্যসংঘের নাট্যকর্মী ও তাদেরই অনেক সহায়তায় নির্মিত হয়েছে টেলিফিল্ম মাঝি। এই মাঝি প্রচারিত হবে ‘মোহনা’ টেলিভিশনে ও শুভমুক্তি মহান বিজয় মাসে অর্থাৎ ১৬ই ডিসেম্বরে।

নজরুল ইসলাম তোফা, টিভি ও মঞ্চ অভিনেতা, চিত্রশিল্পী, সাংবাদিক, কলামিষ্ট এবং প্রভাষক ৤

Top