শ্রদ্ধা,স্মরণ ও শোক–স্থপতি তসলিম উদ্দিন চৌধুরী : মুহাম্মদ মাহাবুবুর রহমান

FB_IMG_15107396321317488.jpg

———————
যুদ্ধ তাঁর কাছ থেকে শিখতে হবে। দীর্ঘদিন মুখ দিয়ে খাননি।এক বিশেষ পাউডার নলের মাধ্যমে সরাসরি পাকস্থলিতে নিজেই দিয়ে দিতেন। মরণব্যাধি শরীরকে গিলে ফেলতে চাইছে,তারপরও স্বাভাবিক। খেতে পারতেন না,তথাপি বিয়ে-শাদিতে যেতেন। সমাজ সংস্কার ও চট্টগ্রামের উন্নয়নের জন্য সুস্থ সবলদের চেয়েও সোচ্চার ছিলেন। ছিলেন অনেক বেশি একটিভ।
মাস্ক পরে থাকতেন সব সময়। মুখ দিয়ে না খাওয়া,মাস্ক পরা মুখ-একেবারে আইকনিক হয়ে গিয়েছিলেন। উনাকে নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হবার কারণ ছিল। কিন্তু উনার বীরোচিত প্রতিটি পদক্ষেপের কারণে কেউ উনাকে নিয়ে চিন্তিত হতো না।আমি ভাবতাম-ভদ্রলোক অমর হোক। শেষ পর্যন্ত উনি অমর হয়ে গেলেন। যেভাবেই হোন। উনি অমর হয়ে থাকবেন।
সম্ভবতঃ একবারই উনার সাথে দেখা হয়। । তাও চট্টগ্রাম থেকে বিদায় নেয়ার অনেকদিন পর। বাতিঘরে। হঠাৎ এক ভদ্রলোক সামনে এসে দাঁড়ালেন। নাকের নীচের দিক ও ঠোঁট ঢাকা মাস্ক দিয়ে। তারপরও চেহারার প্রতিটি ভাঁজ সুস্পষ্ট। কপাল তো বটেই। এমন কি চোখের পাতার ভাঁজটুকুও। সুগভীর চাহনি দার্শনিকদের মত। চেহারায় যুদ্ধফেরত যোদ্ধার ছাপ।
নিজেই পরিচয় দিলেন, বললেন,”আপনি নিশ্চয় ম্যাজিস্ট্রেট মাহাবুবুর রহমান। আপনাকে কাছ থেকে দেখার খুব ইচ্ছে ছিল। আপনার মত আরও কিছু মানুষ থাকলে সমাজ ও দেশ পাল্টে যেত। “আমি বেশ লজ্জা পেলাম। উনি খুব আলতো করে আমাকে বুকে জড়ালেন। কিন্তু আমার মন বলেছে সেই আলতো জড়ানোতে প্রচণ্ড ভালোবাসা ছিল।
পাশাপাশি অনেকক্ষণ বসলাম। অনেক কথা বললেন। আমার জন্য দোয়া করলেন -আমি যেন চিফ জাস্টিস হই। কত বড় মন থাকলে আমার মত তুচ্ছ মানুষকে নিয়েও এত বড় আশা করতে পারেন!বাসায় অথবা পূর্বকোণ যেখানে পারি যেতে দাওয়াত দিলেন। কিন্তু সেই দাওয়াত আর রক্ষা করা হল না। ভীষণ খারাপ লাগছে। আল্লাহ্ তাঁর মঙ্গল করুন।
————-
মুহাম্মদ মাহাবুবুর রহমান
বিচারক ভূমি আপীল বিভাগ,পিরোজপুর ৤

Top