সুনামগঞ্জের ১৫ শ্রমিককে মালয়শিয়ায় পাচারের মামলায় চার্জ গঠন

.jpg

মানবাধিকার প্রেস নিউজঃ
গতকাল বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ও মানব পাচার প্রতিরোধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক রোকসানা পারভীন এর আদালত সুনামগঞ্জের ১৫ শ্রমিককে মালেয়শিয়া পাচারের চাঞ্চল্যকর মামলায় চার্জ গঠন করেছেন । মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামী চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া থানাধীন রাজানগর বশির মোহাম্মদ চৌধুরীর বাড়ির মৃত আবুল কাশেম চৌধুরীর পুত্র মোহাম্মদ নাসির চৌধুরী (৪৮) এবং সহযোগী আসামীদ্বয় যথাক্রমে এজাহারভুক্ত শাহ আলম (২৮), পিতা- মোহাম্মদ জসির উদ্দিন, সাং- আলমপুর নোয়াগাঁও, নতুন বাড়ি, থানা- সুনামগঞ্জ, জেলা- সুনামগঞ্জ ও চার্জশীটভুক্ত নয়ন দাশ (৪৭), পিতা হরিমহন দাশ, সাং- ২৪৪ পূর্ব নাসিরাবাদ, আদর্শপাড়া, ৪নং গলি (বেবী সুপার মার্কেটের পিছনে), থানা- পাঁচলাইশ, জিলা- চট্টগ্রাম এর বিরুদ্ধে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন ২০১২ এর ৬/৭/৮ ধারায় উক্ত চার্জ গঠন করা হয় । জামিনে থাকা ১নং আসামী মোহাম্মদ নাসির চৌধুরী এবং চার্জশীটভুক্ত ৩নং আসামী নয়ন দাশের ডিসচার্জ দরখাস্ত শুনানীঅন্তে আদালত খারিজ করেন । ভিকটিম ও সংবাদদাতা সুনামগঞ্জের খাঘুরা গ্রামের মোহাম্মদ আমানউল্লাহর পুত্র মোহাম্মদ আকিজ মিয়া (২৩), উক্ত মামলার বাদী/ সংবাদদাতা হয় । ঘটনার বিবরণে প্রকাশ- সংবাদদাতাসহ আরও ১৪ জন ভিকটিম যথাক্রমে ১। মোঃ সাইফুর রহমান, ২। ফরিদ মিয়া, ৩। মোঃ শাহাব উদ্দিন, ৪। মোঃ মিলন মিয়া, ৫। মোঃ সাকুল মিয়া, ৬। মোঃ ইরফান আলী, ৭। মোঃ রুবেল মিয়া, ৮। মোঃ জাকের আলী, ৯। মোঃ মনসুর আলী, ১০। মোঃ আজাদ মিয়া, ১১। ফয়েজুর রহমান, ১২। রহমত আলী, ১৩। সাজেদুর রহমান, ১৪। শামসের আলী সকলে সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার থানার নোয়াগাঁও এলাকার বাসিন্দা ও পেশায় দিনমজুর এবং কৃষিজীবী হন । পলাতক আসামী শাহ আলম সমুদ্র পথে মালেয়শিয়া নিয়ে ভালো চাকুরী দিবে আশ্বাসে উক্ত শ্রমিকদের প্রত্যেকের নিকট থেকে ২ লক্ষ ২০ হাজার টাকা দাবী করেন । বাদী ও ভিকটিমগণ এত টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলে উক্ত আসামী আপাতত এক হাজার টাকা গাড়ি ভাড়া দিলে চলবে এবং অবশিষ্ট টাকা মালেয়শিয়া পৌঁছে দিলে চলবে আশ্বাস দিলে তারা রাজি হয় । ১২/১০/১৪ ইং তারিখ বিকাল ৪টায় আসামী শাহ আলম প্রত্যেক শ্রমিক থেকে এক হাজার টাকা নিয়ে সৌদিয়া বাসে সুনামগঞ্জ তাদের চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে সন্ধ্যা ৭টায় গাড়ীতে পাঠায় এবং ১নং আসামী নাসির নামক ব্যক্তিকে মোবাইল নাম্বার (০১৮১৬৩৯৩৬৭৬) প্রদান করে। ভিকটিমগণ চট্টগ্রামে পরদিন সকালে আনুমানিক ৮ টায় চট্টগ্রামের জিইসি মোড়ে পৌঁছে । ১ ঘণ্টা অপেক্ষার পরও আসামী নাসির তাহাদের রিসিভ না করায় তারা অপর আসামী শাহ আলমকে ফোন দেয় । শাহ আলমকে বলার পর আরো আধাঘণ্টা পর আসামী নাসির ভিকটিমদের টাইগারপাস মোড়ে যেতে বলে । আনুমানিক আরো তিন ঘন্টা টাইগারপাস মোড়ে অবস্থানের পর নাসির তাদেরকে রেল ষ্টেশন আসতে বলে। রেল ষ্টেশনে এক ঘন্টা অপেক্ষার পর আসামী নাসির আরো একজন লোকসহ তথায় গিয়ে ভিকটিমদের ষ্টেশন রোড়ের একটি আবাসিক হোটেলে রাখতে চাইলে হোটেল ম্যানেজার রাজি না হওয়ায় ভিকটিমদেরকে তিন পুলের মাথায় যেতে বলে আসামী নাসির অজ্ঞাত সহযোগী সহ মোটর সাইকেল নিয়ে চলে যায় । বেলা অনুমান ২ ঘটিকার সময় ভিকটিমগণ ৪টি সিএনজি যোগে তিন পুলের মাথায় পৌঁছে । আসামী নাসির তাদের যেখান থেকে পায়ে হাঁটিয়ে লালদিঘি আবাসিক হোটেল আল ফালাহর ৫ম তলার ২টি রুমে তোলে । ১৩/১০/১৪ ইং ৩.৩০ ঘটিকার সময় লালদিঘির পাড়স্থ ফায়জিয়া আবাসিক হোটেলের সামনে বড় মাইক্রবাসে আসামী নাসির ভিকটিমগণ সহ উখিয়া কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনার প্রাক্কালে তখন বেলা ৩.৪৫ মিনিটের সময় মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ মাইক্রোসহ ভিকটিমদের উদ্ধার করতঃ আসামী নাসিরকে ঘটনাস্থল থেকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে । ডি বি পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে নাসির আসামী শাহ আলম ও আরোও অজ্ঞাত সহযোগীর সহযোগীতায় ষড়যন্ত্র মূলকভাবে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে, ভিকটিমদের দারিদ্রতার সুযোগে সমুদ্র পথে মালেয়শিয়া পাচারের চেষ্টা করে । মামলার আসামী শাহ আলম পলাতক । আসামী নাসির ও নয়নের পক্ষে ডিসচার্জ পিটিশন শুনানী করেন এডভোকেট শহিদুল ইসলাম তালুকদার ও এডভোকেট ভুলন লাল ভৌমিক । রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন বিশেষ পিপি এডভোকেট জেসমিন আক্তার । চাঞ্চল্যকর মানব পাচার মামলাটি ভিকটিম পক্ষকে বিনামূল্যে আইনী সহয়তা প্রদান সহ মনিটরিং করছে মানবাধিকার বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন- বিএইচআরএফ । মানবাধিকার আইনজীবী এডভোকেট দেওয়ান ফিরোজ আহমেদ, মানবাধিকার কর্মী মোহাম্মদ বদরুল হাসান ও কাসিক মাহামুদ শান্তনু চৌধুরী উক্ত মামলার পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ।

Top