র্দীঘ চার যুগ ধরে এনালগ সিস্টেমে কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস; আবহাওয়াবিদের পদশুন্য ৫ বছর

received_1501228049932685.jpeg

আবদুর রাজ্জাক,কক্সবাজার-
সমুদ্র সৈকত নগরী ও ্উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার। আবহাওয়া পূর্বাভাসের দিক দিয়ে ঢাকা ও চট্টগ্রামের পর কক্সবাজারকে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত করা হলেও প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ ৪৮ বছর ধরে এখনো ম্যানুয়েল (হস্তচালিত) বা এনালগ সিস্টেমে চলছে কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের কার্যক্রম। সারাদেশের প্রায় ১০টি স্থানে পরীক্ষামূলকভাবে স্বয়ংক্রিয় আবহাওয়া স্টেশনের মাধ্যমে আবহাওয়া পূর্বাভাস জানা গেলেও কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস এখনো এনালগ। ফলে কক্সবাজারের আবহাওয়া তথ্য পেতে ম্যানুয়েল সিস্টেমে হস্তচালিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে ফলাফল বিশ্লেষণ করতে হয়। এতে করে আবহাওয়া পরিস্থিতির সঠিক তথ্য পেতে বেগ পেতে হয়। এছাড়া কক্সবাজারের মত অতি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবেষ্টিত উপকূলীয় এলাকার আবহাওয়া কার্যালয়ে গত ৫ বছর ধরে নেই আবহাওয়াবিদ। দায়িত্বে ২ জন সহকারী আবহাওয়াবিদ থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে একজন ছুটিতে। অপরজন প্রশিক্ষণ নিতে কক্সবাজারের বাইরে আছেন বলে জানা যায়। এছাড়া একটি জেলার আবহাওয়া অফিসে যত জন কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রয়োজন তার এক তৃতীয়াংশও কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসে নেই।
আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ১৯৬৫ সালে কক্সবাজার শহরের ঝাউতলাস্থ একটি ভবনে আবহাওয়া অফিসের কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে যে ভবনটি জরার্জীর্ণ হয়ে পড়ায়, সেটি ভেঙ্গে নতুন ভবন তৈরির কাজ চলছে। অবশ্য আগামী বছরের মধ্যভাগে উক্ত ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ করে আবহাওয়া অফিসকে স্থানান্তর করবে বলে জানান ঠিকাদাররা। কিন্তু এর মধ্যে কক্সবাজারের আবহাওয়া পূর্বাভাসের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তাদের কোয়ার্টারে অবস্থান করে। সেখানে ম্যানুয়েল (এনালগ) প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে আবহাওয়ার পূর্বাভাস জানানো হয়।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়া সহকারীর সাথে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসে সহকারী আবহাওয়াবিদ আছে ২ জন, আবহাওয়া সহকারী আছে ৩ জন, উচ্চ পর্যবেক্ষক আছে ৪ জন, টি.পি.ও আছে ২ জন এবং ৩ জন বি.এম সহ মোট ১৪ জন কর্মকর্তা রয়েছেন। তারা পরবর্তী ২৪ ঘন্টার জোয়ার-ভাটা, সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত, বাতাসের গতিবেগ, বায়ুর চাপ, তাপমাত্রার পরিমাপসহ যাবতীয় আবহাওয়া পূর্বাভাস সংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত প্রস্তত করেন।
এদিকে সারাদেশে অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় আবহাওয়া স্টেশনের মাধ্যমে আবহাওয়ার সর্বশেষ পূর্বাভাস জানা যাচ্ছে। অথচ কক্সবাজারে যে পদ্ধতিটি অনেক পুরনো ও সময়সাপেক্ষ। বর্তমানে কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসে ব্যারোমিটার, এ্যানিমোমিটার, উয়িন্ট ভ্যান, চুলার, থার্মোমিটার, ড্রাই বাল্ব থার্মোমিটার সহ বেশকিছু হস্তচালিত সরঞ্জাম রয়েছে। এসব যন্ত্রাংশ অনেক পুরনো, তাই বিভিন্ন সময় বিকল হয়ে পড়ে।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসে দীর্ঘ ৫ বছর ধরে কেন দীর্ঘদিন আবহাওয়াবিদ নেই এমন প্রশ্নের উত্তর আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তারাও জানেন না। সূত্রমতে, কক্সবাজারের মত এত গুরুত্বপূর্ণ এলাকার আবহাওয়া অফিসে অন্তত ৪০ জন কর্মকর্তা থাকা প্রয়োজন। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হল আবহাওয়াবিদ ও পর্যবেক্ষকের। বিপরীতে কক্সবাজারে বর্তমানে কর্মকর্তা আছে মাত্র ১৪ জন।
অপরদিকে, কক্সবাজার বিমান বন্দরেও নেই আবহাওয়া পূর্বাভাস জানার জন্য আনুষঙ্গিক যন্ত্র। যার কারণে প্রতিমূহুর্তে বিমান বন্দর কর্তৃপক্ষকে আবহাওয়া পূর্বাভাস জানার জন্যে কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহযোগিতা নিতে হয়। কিন্তু বিমান বন্দরের জন্যে প্রতিমূহুর্তে প্রয়োজন পড়ে বায়ুর চাপ মাপার যন্ত্রের। বিমান বন্দরের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত ২০০৬ সালে স্বয়ংক্রিয় আবহাওয়া স্টেশনের যন্ত্রাংশ আনা হয়েছিল কক্সবাজার বিমান বন্দরে। কিন্তু পরবর্তীতে এসব যন্ত্র বিকল হয়ে পড়লে আর এ ব্যাপারে কোন ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। তারা আরো বলেন, আবহাওয়া অফিসের এক কর্মকর্তা বিমান বন্দরের দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন। তিনি প্রতি ঘন্টায় আবহাওয়া অফিসের মাধ্যমে বিমান বন্দর কর্তৃপক্ষকে আবহাওয়া পূর্বাভাস জানিয়ে দেন। যদিও বিমান বন্দর কর্তৃপক্ষের আলাদা আবহাওয়া পূর্বাভাস জানার যন্ত্রাংশ থাকা প্রয়োজন বলে মনে করেন খোঁদ বিমান বন্দরের কর্মকর্তারা।
কক্সবাজারে প্রতিদিন দেশ-বিদেশের হাজার হাজার পর্যটক বেড়াতে আসেন। এছাড়া কক্সবাজার সমদ্র বেষ্টিত উপকূলীয় এলাকা হওয়ায় এটি আবহাওয়া পূর্বাবাসের জন্যে অতীব গুরুত্বপূর্ণ। সব মিলিয়ে কক্সবাজারকে আবহাওয়া পূর্বাভাসের জন্যে দেশে ৩য় গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে বিবেচিত হয়। অথচ এই কক্সবাজারের আবহাওয়া অফিসের বেহাল চিত্র শংকিত করে জেলাবাসীকে।

Top