ভয়াল ১২ নভেম্বর: নদীর তীরে মোমবাতি জ্বালিয়ে নিহতদের স্মরণ

23515577_1738533566170473_539537338_n.jpg

ছারোয়ার হোসেন হৃদয় :
ভয়াল ১২ নভেম্বর নিহতদের স্মরণে উপকূলের নদী তীরে মোমবাতি জ্বালিয়ে উপকূল দিবস পালন করেছে উপকূল বাঁচাও আন্দোলন (উবা)। রোবিবার সন্ধ্যা ৭টায় উপকূলীয় জেলা নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার তমরদ্দি লঞ্চ ঘাট সংলগ্ন মেঘনা নদী তীর ও খুলনা শহরের ভৈরব নদীর পাঁচ নম্বর লঞ্চ ঘাটে ব্যতিক্রমি এ উদ্যোগটি পালিত হয়।

১৯৭০ সালের এই দিনে প্রলয়ঙ্কারী ঘুর্ণিঝড়ে দেশের দক্ষিণ উপকূলীয় অঞ্চলের অন্তত ১০ লাখ লোক নিহত হয়। দুঃসহ সেই স্মৃতি আজো কাঁদায় উপকূলবাসীকে। ৪৭ বছর আগের এই দিনটিতে ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় পুরো উপকূল।

সেই দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে দিনটিকে উপকূল দিবস হিসেবে পালন করেছে উপকূল বাঁচাও আন্দোলন (উবা)।

সেদিনের সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া ভয়াবহ সেই তাণ্ডবে নিহতদের স্মরণে উপকূল বাঁচাও আন্দোলনের (উবা) উদ্যোগে হাতিয়া দ্বীপের তমরুদ্দিন লঞ্চঘাটে মোমবাতি প্রজ্জলন করে নিহতদের স্মরণ করা হয়।

এতে স্মৃতিচারণ করে সংগঠনের উপদেষ্টা অধ্যাপক নঈম শামীম খান বলেন, আমি তখন ছোট ছিলাম। সেদিন ছিল রোজার দিন। গুড়ি গুড়ি বৃষ্টিসহ টানা বাতাস বইছিল সারাদিন। উপকূলের উপর দিয়ে প্রায় ২০০ কিলোমিটার বেগে বয়ে যায় ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস। আমাদেরকে নিয়ে বাবা মা সবাই চিন্তিত। তারা ভয়ে আমাদেরকে ধানের গোলায় ভরে রাখে যাতে করে আমরা না হারিয়ে যাই। আর জোয়ারে ভেসে গেলেও যাতে গোলাসহ যাতে ভাসি।

তিনি আরও বলেন, সারারাত ঝড় তুফান এই গোলায় বসে কাটিয়ে দিলাম সকালের আলোর চারদিক দেখি গাছের সাথে ঝুলে ছিল হাজারো মানুষের মৃতদেহ। দুর্যোগে গৃহহীন পুরো জেলার মানুষ। আমাদের বাড়িতেও ৫ জন মারা যায়।

এতে উপস্থিত ছিলেন উপকূল বাঁচাও আন্দোলনের (উবা) উপদেষ্টা অধ্যাপক নঈম শামীম খান, হাতিয়া জেলা বাস্তবায়নের আহবায়ক অ্যাডভোকেট ফজলে আজিম তুহিন, উপকূল বাঁচাও আন্দোলনের (উবা) কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাংবাদিক শাহেদ শফিক, সাধারণ সম্পাদক ছারোয়ার হোসেন হৃদয়, হাতিয়া শাখার আহবায়ক আরিফুল ইসলাম আজাদ, সদস্য রাসেল উদ্দিন, নুরুল হাসনাত শাওন, প্রান্ত, শাদাত, নিশাদ, নোমান প্রমুখ।

এদিকে, একই সময়ে সংগঠনের খুলনা শাখার উদ্যোগে শহরের ভৈরব নদীর পাঁচ নম্বর লঞ্চঘাটে মোমবাতি প্রজ্জলন করে দিবসটি পালন করা হয়েছে। কর্মসূচির পরিচালনা করেন এম মোস্তফা কামাল। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সিডিপি খুলনা শাখার সমন্বয়কারী এস এম ইকবাল হোসেন বিপ্লব।

তিনি বলেন, দেশের এক বৃহৎ অংশ উপকূল। সুতরং দেশের স্বাভলম্বী অর্জনে এই উপকূল উন্নয়ন ছাড়া অসম্ভব। সম্ভাবনাময় এত বড় একটি অংশ তারপর ও আমরা সবসময় অবহেলিত ও অধিকার বঞ্চিত।’

তিনি সরকারের নিকট আহবান জানিয়ে বলেন’ উপকূলের উন্নয়নের স্বার্থে বছরের একটি দিন হলেও উপকূল দিবস হিসেবে পালন করা হোক।

উবা’র শাখার আহ্বায়ক এম সাইফুল ইসলাম বলেন, ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বরের মতো যেন আর কোন ভয়াবাহ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস উপকূলবাসী দেখতে না পায়। সরকারের উচিৎ দিনটিকে রাষ্ট্রিয়ভাবে পালন করা।

উপকূলবাসী চরম অবহেলার স্বীকার। সমস্ত উপকূল নিরাপত্তা বেষ্টুনির বাইরে। সামান্য ঘূর্ণিঝড় হলেই লক্ষ লক্ষ টাকার সম্পত্তি নষ্ট হচ্ছে। উপকূলের নিরাপত্তা জোরদার ও সচেতনতা বাড়াতে উপকূল দিবস পালনের দাবিও জানান তিনি।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন খাইরুজ্জামান মন্টু, তানভীর হোসেন তনু, মো. ফরিদ হোসেন, শরিফুল ইসলাম জুয়েল, নাজমুস সাকিব, মো. রাকিব, নাকিবুল ইসলাম প্রমুখ।

Top