রোহিঙ্গারা ভেলায় করে আসছে ৩ দিনে ১ হাজারের বেশী রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ

received_1159063220863916.jpeg

কায়সার হামিদ মানিক,উখিয়া।
মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ কোন ভাবেই থামছে না। প্রশাসনের কড়াকড়িতে নাফ নদীতে নৌকা চলাচল বন্ধ রয়েছে। তাই এবার ভেলায় করে আসছে রোহিঙ্গারা। তিনদিনে ১ হাজারের বেশী রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ ঘটেছে ভেলার মাধ্যমে। আবার অনেকে ছোট নৌকা নিয়ে সরাসরি কক্সবাজার যাওয়ার চেষ্টা ও করছে। সে সঙ্গে স্থল পথে অনুপ্রবেশ ও অব্যাহত রয়েছে।
জানা গেছে, মিয়ানমার থেকে এখনো প্রাণ ভয়ে পালিয়ে আসছে রোহিঙ্গারা। এখন মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর নির্যাতন না থাকলে ও খাদ্য সংকট আর আতংকের জন্য রোহিঙ্গারা আসছে বাংলাদেশে। নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য বাংলাদেশে আসতে এখনো মিয়ানমারের বিভিন্ন চরে হাজার হাজার রোহিঙ্গা অপেক্ষা করছে বলে অনুপ্রবেশকারীরা জানিয়েছে।
গতকাল রবিবার ও উখিয়া টেকনাফ আর ঘুমধুম সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশে করেছে অনেক রোহিঙ্গা। খাদ্য সংকট আর আতংকের কারণেই এখন ও আসছে রোহিঙ্গারা। এমনই জানালেন, অনুপ্রবেশ করা মিজান, রহমান আর হাসিনা। তারা জানান, মিয়ানমারেও চরম খাদ্য সংকট চলছে। নৌকা চলাচল বন্ধ থাকলে ও কিছু নৌকা প্রশাসনের চোঁখ ফাঁকি দিয়ে চলা চল করছে আর বেশী টাকা নিয়ে রোহিঙ্গাদের নিয়ে আসছে। আর যাদের টাকা নেই তারা আসছে ভেলায়। ভেলায় আসা রোহিঙ্গা নুর আহমদ আর কাশেম বলেন,আমাদের টাকা পয়শা নেই, তাই ভেলায় করে এসেছি। প্লাষ্ট্রিকের ঝার, বাশঁ আর রশি দিয়ে অনেক দিন চরে থেকে এ ভেলা তৈরি করেছি। কারন মিয়ানমারে আতংকের মধ্যে থাকতে হয়। ও আল্লাহ আমাদের হাতে টাকা নেই, কিন্তু প্রানত বাচাঁতে হবে। তাই অনেকটা প্রাণ বাঁচাতেই এ ভেলা তৈরি। এখন অনেক ভাল লাগছে নিরাপদে এ দেশে আসতে পেরে।
অনেক রোহিঙ্গা বড় নৌকায় করে বঙ্গোপসাগর দিয়ে সরাসরি কক্সবাজারে যাওয়ার চেষ্টা করছে।
নিরাত্তার কারণে নাফ নদীতে নৌকা চলাচল বন্ধ থাকায় রোহিঙ্গারা নতুন কৌশল অবলম্বন করার কথা জানিয়ে টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তদন্ত শফিউল আজম বলেন, আমরা সর্তক অবস্থায় রয়েছি গত দুই দিনে পুলিশ ১৮৭ জন রোহিঙ্গাকে আটক কওে ক্যাম্পে পাঠিয়েছে।
রোহিঙ্গারা যেন ভেলায় না আসে, সে ব্যাপারে নিরুৎসাহিত করার পাশপাশি এ ব্যাপারে প্রশাসন, পুলিশ, বিজিবি আর কোষ্টগার্ড একসঙ্গে কাজ করছে বলে জানান টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহেদ হোসেন ছিদ্দিক।
রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ এখন ঝুকিঁপূর্ন্য হয়ে যাচ্ছে। সাগর পথ বেছে নেওয়ায় বাড়ছে প্রানহাণীর ঘটনা। গত আড়াই মাসে নৌকা ডুবিতে প্রান হারিয়েছে ১৭৫ রোহিঙ্গা। তারপরও থেমে নেই রোহিঙ্গাদের সাগর পাড়ি দেওয়া।

Top