উখিয়ার সোনার পাড়া বাজার থেকে কোটি টাকার সুপারী যাচ্ছে সারাদেশে

23548320_1157711050999133_334717193_n.jpg

কায়সার হামিদ মানিক,উখিয়া।
উখিয়া উপজেলার জালিয়া পালং ইউনিয়নের সোনার পাড়ায় এবার সুপারীর বাম্পার ফলন। এই অঞ্চলের মানুষের জীবিকার সঙ্গে সুপারীর ভূমিকা থেকে কথাটির প্রচলন বলে ধারণা করা হয়। এই সুপারীর রয়েছে অর্থনৈতিক মূল্য। সারিসারি সুপারী বাগানের গাছ পর্যটন নগরী কক্সবাজার এর উখিয়ার ইনানী সমুদ্র সৈকতকে করেছে আকর্ষনীয়। সময়ের ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন ভাবে পরিবর্তন এলেও এ অঞ্চলের মানুষের জীবনের সঙ্গে সুপারীর সম্পর্ক আজও গভীর। উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের সোনার পাড়া বাজারে সপ্তাহের প্রতি রবি ও বুধবার সারাদিনের জন্য সুপারীর হাট বসে। বিভিন্ন আকার ও জাতের সুপারী মেলে এখানে। ছোট বড় একেকটি জাত একেক গুনে গুণান্বিত। বাজারে বেশি দেখা যায়, স্থানীয় জাতের সুপারী। ব্যবসায়ীরা জানান, উখিয়া-কোর্টবাজার, কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক ও কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাশে সোনার পাড়া বাজার হওয়ায় যোগাযোগ সুবিধার কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন হাটের পাইকারী ও খুচরা ব্যবসায়ীরা এখান থেকে সুপারী কিনে নিয়ে যান। এসব সুপারী তারা দেশের বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করেন। এখানে বড় আকারের ১ পন সুপারী সাড়ে ৬ হাজার টাকা মাঝারী সাড়ে ৫ হাজার ও ছোট আকারের সাড়ে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। উল্লেখ্য, ৮০ টি সুপারীতে ১ পন এবং ১৬ পনে ১ খন হিসেবে ব্যবসায়ীরা বিক্রি করে থাকেন। ভালো দামের আশায় বিক্রেতারা ইনানী সোনার পাড়ার সুপারী বাজারে নিয়ে আসে তাদের উৎপাদিত সুপারী।
সোনার পাড়া সান রাইজ কেজি স্কুলের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আজিজ জানান, প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১ কোটি টাকার সুপারী বিক্রি হয় এই হাটে। প্রচুর জনসমাগমের কারণে সোনার পাড়া বাজারের অন্যান্য ব্যবসার ও উন্নতি হচ্ছে। চট্টগ্রাম, ঢাকা, সিলেট ও রংপুরের ব্যবসায়ীরা এখানে এসে পাথুরে গাঁথা ইনানী সমুদ্র সৈকতের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করে হোটেল-মোটেলে অবস্থান নেয়। যোগাযোগ সুবিধার কারণে ও প্রচুর সুপারীর সমাগত হওয়ায় তারা এ বাজার থেকে সুপারী কেনেন। রংপুর থেকে আসা সুপারী ব্যবসায়ী মনোয়ারুল মোস্তফা সাগর ও মোহাম্মদ ইদ্রিছ এ প্রতিবেদককে জানান, প্রতি বাজারের তারিখে সোনার পাড়া সুপারী হাট থেকে ২০-২৫ লাখ টাকার সুপারী ট্রাক বোঝাই করে কিনে নিয়ে যান। ভালো দাম পাওয়ায় বিক্রেতাদের কাছে ও বেশি সুপারী জড়ো হওয়ায় ব্যবসায়ীদের কাছে বাজারটি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সোনার পাড়া এলাকার মৃত ফজল করিমের ছেলে আমানত উল্লাহ বলেন, আমি ২০ বছর থেকে সুপারী গাছ রোপন করি। পরিচর্যা করি কয়েক বছরের ব্যবধানে সুপারী বিক্রি করে হাজার হাজার টাকা বাড়তি আয় করি। স্থানীয় জালিয়াপালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বলেন, যোগাযোগ সুবিধা ও প্রাচীন বাজার হিসাবে সোনার পাড়ার ব্যাপক নাম ডাক রয়েছে। ফলে সুপারী ব্যবসার সঙ্গে অন্যান্য ব্যবসা সহ হ্যাচারী শিল্প ও এখানে জমজমাট। অন্য দিকে বিভিন্ন যানবাহনে করে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নানা ধরনের ক্রেতা বিক্রেতারা আসেন এ সোনার পাড়া সুপারীর হাটে। কেউ আসেন বাজার দর দেখতে, কেউ আসেন সুপারী বিক্রি করতে। আবার ব্যবসায়ীরা আসেন সুপারী সংগ্রহ করতে। তাই প্রতি রবি ও বুধবার সোনার পাড়ার এই হাটে জমে উঠে বেচা কেনা। বিপুল অর্থ করি সুপারী সোনার পাড়া অঞ্চলে শিল্প হিসাবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল। সুপারীর শিল্পকে ঘিরে কয়েক হাজার পরিবার জীবিকা নির্বাহ করত। সুপারীর পাশাপাশি পর্যটকদের আকর্ষনীয় নারিকেল ও ডাবের পানি। ইনানী সমুদ্র সৈকতে পরিবার নিয়ে আসা ডাঃ খালেদা আক্তারের সাথে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। তিনি জানান, দৈনিক ২ কাপ নারিকেল- ডাবের পানি পান করলে কিডনি জনিত রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। ডায়েরিয়া রোগ প্রতিরোধেও ডাবের পানি ব্যবহৃত হয়। একটি কচি ডাব পর্যটকদের কাছ থেকে নেয়া হচ্ছে ৫০ টাকা। এটার দাম একটু বেশি বলে মনে করেন তিনি।

Top