আজ সেই ভয়াল ৬ই নভেম্বর, যে দিনে হারিয়েছে একসাথে ৭৩জন মাঝি-মাল্লা

23414524_2007037186246997_1806439076_n.jpg

আশরাফ আল আসিফ:
আজ সেই ভয়াল ৬ই নভেম্বর, যে দিনে হারিয়েছে একসাথে ৭৩জন মাঝি-মাল্লা, যে দিনে হারিয়েছেন ৭৩ ফ্যামিলির ৭৩জন অভিভাবককে।
ঠিক আজকের এইদিন থেকে ১বছর আগে অর্থাৎ ৬ই নভেম্বর ২০১৬ইং, ঠিক এই তারিখে হয়েছিল ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড় মোরা, এই ঘূর্ণিঝড় মোরার কবলে পড়ে দূর্ঘটনায় পতিত হয়েছিল কক্সবাজার পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের ৩টি ট্রলারসহ ৭৩ জন মাঝি-মাল্লা, এই মাঝি-মাল্লাদের মধ্যে কারো বাবা, কারো ভাই, কারো স্বামী, এদের মধ্যে এমন ও আছে এক ফ্যামিলি থেকে দুই ভাই, অন্য ফ্যামিলি থেকে সন্তান আর পিতা হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন অনেকে।
বিশেষ সূত্রে জানা যায় গত ১০-৮- ২০১৬, থেকে ২-৯-২০১৬ইং তারিখ পর্যন্ত মা ইলিশ রক্ষায় সকল মাছ ধরার ট্রলারকে সাগরে না যাওয়ার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা ছিল, এরই পেক্ষিতে ২-৯-২০১৬,সরকারি বন্ধ শেষে সারা দেশে একযুগে ট্রলার সাগরে রওয়ানা দেয়, কিন্তু হঠাৎ ৪-৯-২০১৬ এই তারিখে শুরু হয় ঘূর্ণিঝড় (মোরা) এই ঘূর্ণিঝড় চলতে থাকে ৬-৯-২০১৬ পর্যন্ত, এতে সারা দেশের অনেক ট্রলারই ক্ষতিগ্রস্ত হয়, কিন্তু ১নং ওয়ার্ডের তিনটা ট্রলার, সাগরে অনেক খুঁজাখুঁজি করার পরও পাওয়া যায়নি বলে জানান।
এদের মধ্যে ফারুক বহদ্দার তার ট্রলারের সাথে তারই আপন ছোট দুই ভাইসহ ২৬জন মাঝি-মাল্লা এবং নুর ছৈয়দ মাঝির ২৫জন মাঝি-মাল্লা, কামাল বহদ্দারের ট্রলার সহ মোট ২৩ জন মাঝি-মাল্লা, সব মিলিয়ে মোট ৭৪জন নিখোঁজ হয়। এদের মধ্যে বেশির ভাগ ১নং ওয়ার্ডের সাধারণ জেলে।
এমনই একজনের সাথে কথা বলে জানতে পারলাম অনেক কিছু, যে কথা গুলো শুনলে বুক ফেটে যায়, এমনই একজনের নাম রেহেনা আক্তার(২৪) তিনি কেঁদে কেঁদে বলেন, আমি আমার স্বামীকে হারিয়েছি সেই ভয়ংকর মোরার আঘাতে, তবে আমি এখনো বেঁচে আছি শুধু আমার সন্তানদের দিকে চেয়ে, আমার তিন ছেলে মেয়ে এখন শশুর বাড়িতেও ঠাই নেই আমার কারন আমার স্বামী নেই, তাই আমি এখন আমার বাপের বাড়িতে কোন রকম খেয়ে না খেয়ে বেচে থাকাটায় হচ্ছে আমার একমাত্র উপায়।
এই রকম অনেকে আছেন যাদের কথা শুনলে হৃদয় ফেটে যায়, কি হবে তাদের ভবিষ্যৎ? কে নেবে সন্তান হারা মায়ের দায়িত্ব? কে নেবে বাবা হারা সন্তানের দায়িত্ব?
এই স্বজন হারা কয়েকজন মানুষের কাছ থেকে খবর নিয়ে জানা গেছে তাদেরকে ট্রলারের মালিকের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ হিসেবে কোন আর্থিক সহযোগীতা করা হয়নাই এবং সরকারের পক্ষ থেকেও এখনো পর্যন্ত কোন সহযোগীতা পায়নি বলে জানান।
তারা সরকারের কাছে আবেদন করেন,
সরকারের পক্ষ থেকে যেন কিছু সহযোগীতা পায়।
এবিষয়ে কথা বলার জন্য, কক্সবাজার পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আকতার কামালকে মুঠো ফোনে কল দিলে তিনি কল ধরেননি এবং তার অফিসে গিয়েও পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগী স্বজন হারা এই পরিবারগুলু সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

Top