বোমা মেশিনে ওলট পালট জাফলং এর মানচিএ,নাম মাএ অভিযান নেই কোন মামলা।

FB_IMG_15078803835479083.jpg

এম এম রুহেল ,জাফলং থেকে
অপরূপ জাফলং- কথাটি এখন অতীত। অনিয়মতান্ত্রিক ও অবৈধপন্থায় পাথর উত্তোলনের ফলে প্রকৃতির নিজস্বতা হারিয়েছে জাফলং। পাথরখেকোদের লালসায় পিয়াইন নদী হারিয়েছে গতিপথ। খোয়া গেছে নদীর তীর, রাস্তাঘাট, খেলার মাঠ। বাড়িঘর বিলীন করেও থেমে নেই ধ্বংসযজ্ঞ।

এবার পাথর খেকোদের রাক্ষসী থাবায় হারাতে বসেছে কান্দুবস্তি, নয়াবস্তি, জুমপাড় তথা খাসিয়াদের সংগ্রামপুঞ্জির সবুজায়নটুকুও। এখন কেবল এটুকুই ধ্বংসের বাকি। সরেজমিন এমন চিত্র দেখা গেছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এমন ধ্বংসলীলা চালাতে এখন নামানো হয়েছে হাজার খানেক বোমা মেশিন। এসব মেশিন যেনো খাবলে খাচ্ছে জাফলংয়ের অবশিষ্ট বসতি এলাকা।সনের লোক থেকে শুরু করে এলাকার পাতিনেতারা হচ্ছেন এ বাহিনীর সদস্য। তারা নিয়মিত চাঁদা পেয়ে থাকেন। তাই টাস্কফোর্স অভিযান শুরুর একদিন আগে সংবাদ পৌঁছে যায় চক্রের কাছে। সংবাদ পাওয়ার পর যৌথ বোমা বাহিনী চক্র তাদের বোমা মেশিনগুলো নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে ফেলে। দু-একটি অকেজো মেশিন ব্যতীত গর্তগুলোতে পড়ে থাকে অব্যবহৃত যন্ত্রাংশ। টাস্কফোর্স অভিযানে নেমে ফেলে যাওয়া যন্ত্রপাতিসমূহ ধ্বংস বা বিনষ্ট করে। ধ্বংস করা ও পুড়িয়ে ফেলা মেশিনগুলো ৩-৪ হাজার টাকা খরচ করে মেরামত করে তা আবার ব্যবহার করা হয়। অভিযান চলাকালে বোমা চক্রের বেশিরভাগ সদস্য পরিবেশবাদী হয়ে উঠেন। তাদের এই কার্যক্রম দূর থেকে দেখলে মনে হয়, জাফলংয়ের পরিবেশ রক্ষায় তারা অত্যন্ত সক্রিয়!

এলাকার সাধারণ মানুষ জানান, প্রশাসন লোক-দেখানো অভিযান করে থাকে। প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা জানেন, জাফলংয়ে বোমা মেশিন কারা চালায়? বিভিন্ন নামে চাঁদা কারা আদায় করে? চাঁদার ভাগ বন্টন কারা কারা পায়? কখন কীভাবে অভিযান হবে কখন বোমা মেশিন সরিয়ে নিতে হবে? কখন কোথায় স্থাপন করতে হবে? সবই প্রশাসনের জানার মধ্যে। তারা জানান, ৮ বৎসরের বেশি সময় টাস্কফোর্স ২ শতাধিক অভিযানে করলেও এখন পর্যন্ত একটি ও মামলা হয়নি এই চক্রের বিরুদ্ধে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রশাসনের কয়েকজন কর্তাব্যক্তি, সমাজসেবী-শিক্ষানুরাগীরা বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আইন যেমন, অভিযান তেমন।

এলাকার সচেতন মহলের দাবি জাফলংকে সরকারঘোষিত ইকোলজিকেলি ক্রিটিকেল এরিয়া (ইসিএ) বাস্তবায়ন করতে হলে বোমা মেশিন চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। নইলে আগামী ২-১ বৎসরের মধ্যে সিলেটের প্রকৃতীকন্যা জাফলং হবে বিরানভূমি। খুঁজে পাওয়া যাবে না চিরচেনা ঐতিহ্যবাহী গ্রামগুলো। তাদের দাবি, বোমা মেশিন জব্দ করা। তাহলেই জাফলং ফিরে পাবে তার যৌবন, বাস্তবায়িত হবে সরকারঘোষিত ইকোলজিকেলি ক্রিটিকেল এরিয়া (ইসিএ)।

এ বিষয়ে জানতে টাস্কফোর্সের আহ্বায়ক ও গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিশ্বজিৎ কুমার পাল বলেন, টাস্কফোর্সের নিয়ম মোতাবেক অভিযান পরিচালনা করে বোমা মেশিনসহ আনুষাঙ্গিক যন্ত্রপাতি ধ্বংস ও পুড়িয়ে ফেলা হয়। মামলার বিধান না থাকার কারণে চক্রের বিরুদ্ধে মামলা করা যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে জানতে গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) হিল্লুল রায় জানান, এ পর্যন্ত বোমা মেশিন চক্রের বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়নি। কারণ টাস্কফোর্স অভিযানের আইনে শুধু বিনষ্ট ও ধ্বংসের কথা বলা হয়েছে।

Top