আরাহার মৃত্যু ; আমাদের জন্য একটি শিক্ষা -এম.আর.বাবু

.jpg

———–
মেয়ের বাড়ীতে চলছে তুলকালাম। পরিবারের একমাত্র আদরের মেয়ে আরাহা গতাকাল রাত্রে বিষ খেয়ে মারা গেছে। বড়ীতে চলছে শোকের মাতম। সবাই অপেক্ষায় তাদের মেয়ের লাশ কবে বিদেশ থেকে আসবে।

বাড়ীতে সুখের মাতম একমাত্র আদরের মেয়েকে হারিয়ে কান্নার শব্দে ভাড়ী হয়ে গেছে বাড়ী। একদিন এই বাড়ীতেই কত আনন্দ উল্লাস করে বেড়াত আরাহা আজ সে নেই বাড়ীখানা যেন নিস্তব্ধ এক শূন্যস্থান।

সকাল বেলা সাংবাদিকেরা এসে ঘিরে রেখেছে আরাহার বাবাকে বারবার একি প্রশ্ন করেছে আপনার মেয়ের আত্মহত্যার কারণ কী? আপনি এ ব্যাপারে কী কী জানেন। চিঠিতে কী লিখা ছিলো। আরাহার বাবার উত্তর আর যেন কারো মেয়ের সাথে এমন না হয় আর যেন কাউকে আত্মহত্যা করতে না হয়।

আরাহা খুবি মিষ্ঠি একটা মেয়ে ছিলো। বাবা মা আর দুই ভাই আর এক বোন আরাহা এ নিয়ে ছিলো তাদের পরিবার। পরিবারের একমাত্র মেয়ে আরাহা ছিলো সকলের ছোট আর দুই ভাইয়ের এক বোন থাকায় সবাই আরাহাকে খুব আদর করত। এর মধ্যেই ধীরেধীরে বড় হয়ে যায় আরাহা। বিয়ের কথা ঠিক হয় আরাহার খুব ধুমধাম করে পরিবারের একমাত্র মেয়ের বিয়ে দেওয়া হলো আমেরিকা প্রবাসী এক ছেলের কাছে। ছেলে ডাক্তার আমেরিকাতে তার বাবার বিশাল ব্যাবসা রয়েছে, এক ভাই আমেরিকার সেনাবাহিনীতে কর্মরত আর দুই ছোট দুই ভাই বাবার ব্যাবসায় সময় দে। এই হল আরাহার স্বামীর পরিবারের ব্যাকরাউন্ড।

বিয়ের দুই মাস পরেই আরাহা বুজতে পারে স্বামী ডাক্তার নয়। তার কথায় গড়মিল। সন্দেহ বাড়ে কিন্তু ভয়ে কাউকে বলতে পারছেনা কারণ সদ্য বিবাহিত কোন নারীর পক্ষে তার স্বামীর বিরুদ্বে কথা বলা অনেক কঠিন। বিয়ের ছয় মাস পরেই আরাহাকে আমেরিকায় নিয়ে যায় তার স্বামী ইমতিয়াজ। আরাহা সেখানে যাওয়ার পর স্বামীর অনেক গোপন অজানা জানা হলো। ইমতিয়াজ আগে এক বিয়ে করেছিলো সেটা অবশ্য বেশিদিন ঠিকেনি কিন্তু সে কথা গোপন করেই দ্বিতীয় বিয়ে তারমধ্যে ইমতিয়াজ ডাক্তার নয় ইমতিয়াজ এক রেষ্টুরেন্টের ওয়েটার তার বাবা বাংলাদেশে একটি হত্যা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামী। আর ইমতিয়াজের মা ৫ বছর আগেই মারা গেছেন। ইমতিয়াজের কোন ভাই বোন নেই। যা বলেছিলো সব মিথ্যা বলেই আরাহাকে বিয়ে করেছিলো। আরাহার পরিবার ছেলে আমেরিকায় ডাক্তার শুনে ঠিকমত যাছাই না করেই মেয়েকে ইমতিয়াজের হাতে তুলে দিয়েছেন।

প্রতিদিন রাত্রে ইমতিয়াজ মদ্যপ অবস্থায় এসে আরাহাকে মারধোর করত অতচ আরাহাকে কখনো তার বাবা-মা এমনকি তার ভাইয়েরাও কখনো গায়ে হাত তুলে নাই।

আজ আরাহা দেশে ফোন করে সব সত্য কথা বলে দেয়। কিন্তু এসব সত্য জানতে আরাহার পরিবারের অনেক দেরি হয়ে গেছে। আরাহা এখন আমেরিকাতে আরাহার পরিবারের কিছুই করার নেই।

এদিকে আরাহাকে নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে গেছে প্রতিরাত্রে আরাহাকে মারধোর সাথে জোড় করে আরাহাকে মদ পান করানোর চেষ্টা আরহা এই সব পছন্দ করতো না। ইমতিয়াজ কোমড়ের বেল্ট খুলে খুবি নিষ্ঠুরভাবে পিঠাতো আরাহাকে। কিন্তু আরাহার কান্না শুনার কেউ নেই এখানে।

এদিকে ইমতিয়াজ এখন প্রায় রাত্রে অন্য নারীকে বাড়িতে নিয়ে আসে আরাহা বাধা দিলে চলে নির্মম নির্যাতন। এভাবে প্রতিদিন আরাহার উপর নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে গিয়েছে।

এ দিকে আরহাকে দিয়ে বাংলাদেশে ফোন দিয়ে টাকা পাঠানোর জন্য বলা হতো আরাহা কথা না শুনলে শুরু হত মারধোর। দুইবারে আরাহার বাবা চার লক্ষ টাকা পাঠালে এবার আর পাঠাননি। তাই ইমতিয়াজ রাগে বাসা থেকে বাহির হয়ে গেল। রাত্রে ফিরে এসে আসলো এক বন্ধুকে নিয়ে বন্ধুর কাছে অনেক দেনা ছিলো।তাই রাত্রিবেলা আরাহাকে বন্ধুকে ভোগ করার জন্য দিয়ে দেওয়া হলো। আরাহা অনেক বাধা দেওয়ার চেষ্টা করল কিন্তু পশুদের শক্তির কাছে অসহায়।

পরেরদিন সকালে আরাহা একটি চিঠি লিখে দেশে পাঠালো। আর চিঠিতে লিখা আজ রাত্রেই সে সুইসাইড করবে। এমন ভয়াবহ পরিণিতি যেন আর কারো না হয়। তার মত কোন মেয়ের জীবন যেন এমন না হয় সেই আকুতি ছিলো। চিঠিটা তার মৃত্যুর এক সাপ্তাহ পর দেশে এসে তার বাবার হাতে পৌছায়।কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে মেয়েকে বাচানোর কোন চেষ্টাই করতে পারেন নাই। এর মধ্যে অনেক দেরি হলেও আরাহার মৃত দেহ দেশে এসে পৌছায়।

আমেরিকান পুলিশ ইমতিয়াজকে খুজে বেড়াচ্ছে। ইমতিয়াজের বন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ইমতিয়াজের বন্ধু পুলিশের জেরাতে সব স্বীকার করেছে। আমেরিকান পুলিশের ধারণা ইমতিয়াজ দালাল চক্রের মাধ্যমে আমেরিকা থেকে পালিয়ে অন্য কোন দেশে আশ্র‍্যয় নিয়েছে।

আজ আরাহার মৃত্যুর ১ বছর পূর্ণ হলো। এখনো ইমতিয়াজ পলাতক। আরাহার পরিবার এখনো আরাহাকে হারানোর শোক কাটিয়ে উঠতে পারেনি। আরাহার বাবা আরাহার কথা ভেবে ভেবে শরীরটা অনেক দুর্বল করে ফেলেছেন।ডাক্তার নিষেধ করেছেন চিন্তা না করতে কিন্তু নিজের মেয়েকে তিনি হারিয়েছেন সে কথা কী করে ভুলে যাবেন।

Top