টানা বর্ষণে রাঙ্গুনিয়া ইকোপার্কের ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫ কোটি

received_332181473888747.jpeg

জাহেদুর রহমান সোহাগ,রাঙ্গুনীয়া প্রতিনিধি :
টানা বর্ষণে চট্টগ্রামের আকর্ষনীয় রাঙ্গুনিয়া শেখ রাসেল এ্যাভিয়ারী এন্ড ইকো পার্কের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে । অতিবৃষ্টিতে পানির ঢলে পার্কের ৪ ও ৫ নম্বর টাওয়ারের নিচের মাটি ধসে গিয়েছে। বন্ধ রয়েছে পার্কের প্রধান আকর্ষন ক্যাবল কার (রোপওয়ে)। এছাড়াও পার্কের ৬নম্বর ডিজি রুম ও রেষ্ট হাউজের কর্ণার পাহাড় ধসের ফলে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে এবং পার্কের অধিকাংশ রাস্তা পানিতে ধসে গিয়ে বেহাল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
এই পার্কের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ফলে এবার ঈদে পর্যটক ছিল আশানুরুপ। পার্কের এমন বেহাল দশার ফলে ঈদ উপলক্ষে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে পর্যটক আসলেও ক্যাবল কার ও পার্কের বিভিন্ন সৌন্দর্য উপভোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন তারা।

সকালে পার্ক পরিদর্শনে আসা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফারিয়া জান্নাত জানান, “পার্কে প্রথমবারের মতো বান্ধবীদের নিয়ে এখানে বেড়াতে এসেছি। ইচ্ছে ছিল ক্যাবল কারে চড়ে পুরো পার্কের সৌন্দর্য উপভোগ করবো। কিন্তু এখানে এসে ক্যাবল কার বন্ধ পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে।
বন বিভাগের চট্টগ্রাম দক্ষিণ বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম চৌধুরী জানান, ‘প্রবল বর্ষণে শেখ রাসেল এ্যাভিয়ারী পার্কে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে এবারের ঈদে ক্যাবল কার চলাচল বন্ধ ছিল। পার্কের আভ্যন্তরীণ যোগযোগ ব্যবস্থাসহ রোপওয়ের গোড়া থেকে পাহাড় ধসের ফলে মাটি সরে গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠে। এভাবে পার্কের প্রায় ৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতির বিষয়ে বন অধিদপ্তর বরাবর লিখিতভাবে অবিহত করা হয়েছে।
পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও রাঙ্গুনিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা প্রহলাদ চন্দ্র রায় জানান, ‘টানা বৃষ্টির ফলে পার্কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। একদিকে আভ্যন্তরীণ ক্ষতি অন্যদিকে পর্যটক শূন্য থাকায় পার্কের অবস্থা খুবই নাজুক। পার্কের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা মেরামত করে পার্কটি আবার সচল করতে কাজ করতে হবে। ’
এদিকে সোমবার (১০ জুলাই) রাঙ্গুনিয়া শেখ রাসেল এ্যাভিয়ারী এন্ড ইকো পার্কের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে এসে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ড. হাছান মাহমুদ জানান পার্ক মেরামত করতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে । সেই সময় বনবিভাগের চট্টগ্রাম দক্ষিণ বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম চৌধুরী, সহকারি বন সংরক্ষক (এসিএফ) কাজল তালুকদার, চন্দ্রঘোনা-কদমতলী ইউপি চেয়ারম্যান ইদ্রিছ আজগর, হোছনাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান মির্জা সেকান্দর হোসেন, রাঙ্গুনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ ইমতিয়াজ মোহাম্মদ আহসানুল কাদের ভূঁঞা সহ প্রমুখ পার্কটি পরিদর্শন করেন ।

Top