পর্যটকের পদভারে মুখরিত ইনানী সৈকত

received_1051472321623007.jpeg

কায়সার হামিদ মানিক,উখিয়া::
এবারের ঈদুল ফিতরের ছুটিতে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের ইনানী বিচে নেমেছে পর্যটকদের ঢল। এর প্রভাব পড়েছে হোটেল-মোটেলেও। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কক্ষ খালি নেই ইনানীতে অবস্থিত হোটেল সী-প্যারালসহ প্রায় সব হোটেল-মোটেলগুলোর। ভিড় লেগে রয়েছে সমুদ্র সৈকত, বিপনী কেন্দ্র ও রাস্তাঘাটে মানুষ আর যানবাহনে। পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ব্যবসায়ীদের যেন দম ফেরার ফুরসত নেই।
এবারের ঈদে ইনানীসহ কক্সবাজারে কয়েক লাখ পর্যটক বেড়াতে এসেছে বলে জানিয়েছে বিচকর্মীরা। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন জলপথে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় সেন্টমার্টিন ভ্রমণেচ্ছু পর্যটকেরা হয়েছেন হতাশ।
পর্যটন স্পটগুলো সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, এবারের ঈদুল ফিতরের ছুটি উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকেরা দলে দলে বেড়াতে আসছেন ইনানীতে। মূলত ঈদের পরদিন থেকে নেমেছে পর্যটকদের ঢল। গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ইনানীতে কোন হোটেলের কক্ষ খালি নেই বলে জানান, ইনানী প্যাবেল স্টোন হোটেলের ম্যানেজার । এসব পর্যটকের আনাগোনায় ইনানী সৈকত ছাড়াও শহর ও পার্শ্ববর্তী পর্যটন ডুলাহাজারায় বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক, হিমছড়ি ঝর্ণা, দরিয়ানগরসহ অন্যান্য পর্যটন স্পটগুলোতে দেখা দিয়েছে দারুণ প্রাণ চাঞ্চল্য।
হোটেল মালিকদের মতে, ঈদের ছুটিতে গত দুইদিনে আড়াই লাখ থেকে ৩ লাখ পর্যটক কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছেন। চলতি সপ্তাহজুড়ে আরো প্রায় ৩ লাখ মানুষ ইনানীসহ কক্সবাজারে বেড়াতে আসবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
সরেজমিন বুধবার বিকালে সমুদ্র সৈকতে কথা হয় ঢাকা নারায়নগঞ্জ থেকে বেড়াতে আসা পর্যটক দম্পতি সুমন হায়দার ও সামিমা হায়দার জানান, সকালে কক্সবাজার পৌছে, এরপর তারা হিমছড়িসহ কয়েকটি পর্যটন স্পট ভ্রমণ করে ইনানী সৈকতে এসেছেন। এই গরমের দিনে থেমে থেমে হালকা বৃষ্টিপাতের কারণে কক্সবাজার ভ্রমণ তাদের কাছে বেশ উপভোগ্য মনে হচ্ছে। তবে সামুদ্রিক আবহাওয়া বিরূপ থাকায় তারা সেন্টমার্টিন ভ্রমণে যেতে পারছেন না বলে বেশ খারাপ লাগছে।
ঈদের দিন থেকে একেবারে হালকা বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এ কারণে গরমের মাঝে ভ্রমণ বেশ উপভোগ্য লাগছে। কিন্তু সেন্টমার্টিনে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল করছে না বলে প্রবাল দ্বীপে বেড়ানোর আশা এবার পূরণ হচ্ছে না।
ইনানী সৈকতের ব্যবসায়ী রহমত উল্লাহ জানান, ঈদের দিন থেকে ইনানী পর্যটন স্পটে পর্যটকদের ঢল নেমেছে। ঈদের দিন কক্সবাজার অঞ্চলের লোকজন এবং পরদিন থেকে দেশের অন্যান্য এলাকার পর্যটকরা ইনানীতে ভিড় করছেন।
উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল খায়ের বলেন, পুুুলিশের পাশাপাশি ট্যুরিস্ট পুলিশ পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা ভেবে সমুদ্র সৈকতসহ অন্যান্য পর্যটন স্পটগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পর্যটকদের এই ভিড়ের মাঝেও এখন পর্যন্ত অপ্রীতিকর কোন ঘটনা ঘটেনি।

Top