আলী আছগর ইমন
জগন্নাথপুর(সুনামগঞ্জ)প্রতিনিধিঃঃ
সারাদেশে নদ-নদী, খাল ও প্রাকৃতিক জলাশয় দখলমুক্ত করতে গতকাল সোমবার থেকে স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান শুরু হয়েছে।
এই অভিযানের অংশ হিসেবে গতকাল সুনামগঞ্জে জগন্নাথপুর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহফুজুল আলম মাসুমের নেতৃত্বে উপজেলা সদরের নলজুর নদীরপাড় থেকে একটি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। তবে ওই স্থাপনার মালিক জানিয়েছেন তাঁরা সরকারিভাবে লিজ নিয়ে স্থাপনা তৈরী করেছেন।
অভিযানকালে চিহিৃত করা হয়েছে অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা। অচিরেই এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে।
সম্প্রতি জগন্নাথপুর উপজেলা প্রশাসন নদী দখলদার শতাধিক ব্যক্তির নামের একটি তালিকা জেলা প্রশাসনের নিকট প্রেরণ করেছে। এদের বিরুদ্ধে এখনও কোন অভিযান শুরু হয়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জগন্নাথপুর সদর বাজার দিয়ে বয়ে যাওয়া নলজুর নদীটি একসময় ব্যবসায়ীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত। এ নদী দিয়ে মালবাহী বৃহদাকারের নৌকায় কম খরচে রাজধানী ঢাকা, সিলেট, সুনামগঞ্জ, আজমিরীগঞ্জ, শিল্পনগরী ছাতকসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা থেকে সহজে মালামাল পরিবহন করা যেত। খননের অভাবে নদী ভরাট হয়ে গেলে এটি শিকার হয় ব্যাপক দখলবাজির। এখন এটা নদী না খাল চেনার উপায় নেই। এছাড়াও এলাকাবাসীর অভিযোগ নলজুর নদীতে বাজার এলাকার যাবতীয় ময়লা আর্বজনা হোটেল রেস্তোরার বর্জ্য ফেলে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে । সম্প্রতি জগন্নাথপুরের ১০০ জন নদী দখলদারের নামের তালিকা স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন চিহিৃত করে এদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের নিকট পাঠানো হয়েছে।
জগন্নাথপুরের পৌরসভার সফিকুল হক বলেন, নলজুর ও কুশিয়ারা নদীসহ জগন্নাথপুরের বেশ কয়েকটি নদী, খাল, ছড়া দখল করে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ করে বহাল তবিয়তে আছেন দখলদাররা। নদী রক্ষায় এসব দখল মুক্ত করে পরিবেশ সুরক্ষায় প্রশাসনকে এগিয়ে আসতে হবে।
জগন্নাথপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহফুজুল আলম মাসুম বলেন, গতকাল থেকে নদী রক্ষায় অভিযান শুরু করেছি। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে আমরা দখলদারদের তালিকা তৈরী করে জেলা প্রশাসকদের নিকট পাঠানো হয়েছে।#