নিজস্ব প্রতিবেদক :
একাওরের রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রশান্ত সরকার (৭৬)’র মরদেহ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়েছে।,
তিনি দিনাজপুরের হাকিমপুরের হিলি গ্রামের বাঙালী বনেদী পরিবারে প্রয়াত প্রমোদ সরকার-লতিকা সরকার দম্পতি ছেলে।
প্রসঙ্গত,জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে অবিবাহিত অবস্থায় তিনি ৫নং সেক্টরের তৎকালীন সুনামগঞ্জ মহকুমার তাহিরপুর থানার টেকেরঘাট সাব সেক্টরের অধীনে ওয়ারল্যাস অপারেটর হিসাবে দায়িত্বরত থেকে পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে বেশকয়েকটি সম্মুখযুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখেন।,
ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার ধাইরপাড়া গ্রামে শনিবার বেলা আড়্টাার দিকে অন্তেষ্ট্রিক্রিয়া পরবর্তী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে সাত সদস্যের থানা পুলিশের একটি চৌকস টিম তার মনদেহে গার্ড অব অনার প্রদান শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পারিবারীক সমাধীস্থলে এ বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সমাহিত করা হয়।,
এরপুর্বে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার জয়রামকুড়া খ্রীষ্ট্রান মিশনারীজ হাসপাতালে শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।,
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী (অব. সপ্রাবি শিক্ষক) শীলাবতী রেমা, তিন মেয়ে সহ অসংখ্য আত্বীয় স্বজন ও গুণগ্রাহি রেখে গেছেন।,
এ দম্পতির তিন মেয়ের মধ্যে জেষ্ট মেয়ে ডা.খ্রীষ্টিনা মৌরীসরকার স্বাস্থ্য সেবায়, মেঝো মেয়ে জেনিথ মৌসুমী সরকার ইন্ডিপেন্ডেন্ট কন্্সালটেন্ট, কনিষ্ঠ মেয়ে মৌটুসী সরকার গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতায় মাষ্টার্স সম্পন্নকরার পর অষ্ট্রেলিয়া হতে উচ্চতর ডিগ্রি সম্পন্ন করে বর্তমানে একটি বেসরকারী সংস্থায় কর্মরত আছেন।
উল্ল্যেখ যে, মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পর এ বীরযোদ্ধা ময়মনসিংহের ধোবাউড়ার ধাইরপাড়ার প্রসান্ন কুমার রেমা-অরুণাবালা রেমার জেষ্ট মেয়ে শীলাবতি রেমার (সপ্রাবি শিক্ষক)’র সাথে বৈবাহিকজীবন শুরু করে সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।,
ব্যক্তিগত জীবনে মুক্তিযোদ্ধা প্রশান্ত সরকার কয়েকবছর শিক্ষকতা করারপর একটি বেসরকারি অর্গানাইজেশনে কর্মরত থেকে অবসরে যান।, তিনি গারো ব্যাপ্টিষ্ট কনভেনশান’র সেন্ট্রাল বোর্ডের প্রেসিডেন্ট ও জিবিসি’র জেনারেল সেক্রেটারীর দায়িত্ব পালন করেন।,
প্রশান্ত সরকারের মরদেহ’র অন্তেষ্ট্রিক্রিয়া ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদানকালে, ধোবাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.রাফিকুজ্জামান, মুক্তিযোদ্ধা ও নির্বাহী পরিচালক দি জিবিসি সি,এইচ,পি, তরুন কুমার দারিং, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা নুর হোসেন, থানা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সাবেক কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা রফিক উদ্দিন ভুঁইয়া, সাবেক ডেপুটি কমান্ডার মীর ইব্রাহীম, থানার এসআই মো. আনোয়ার হোসেন,গারো ব্যাপ্টিষ্ট কনভেশন প্রেসিডেন্ট পাষ্টর পংকজ মরাক, জেনারেল সেক্রেটারী পাষ্টার অভয় চিসিম, ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার এ্যাসোসিয়েশন চেয়ারম্যান মি. এডওয়ার্ড নাফ্াক সহ ক্ষুদ্র নৃ-তাত্বিক জনগোষ্ঠী,সাংবাদিক ,রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্ধ,বিভিন্ন শ্রেণিপেশার লোকজন উপস্থিত ছিলেন। ##