অরিত্রির আগেও একই ঘটনায় আরেক ছাত্রী চৈতী আত্মহত্যা করেছিল

IMG_20181206_121957.jpg

হাসান মাহমুদ ইলিয়াস ঃ
ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্রী অরিত্রী অধিকারীর বাবা-মা’র সঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ ও শিফট ইনচার্জ নির্মম-নির্দয় আচরণ করেন। যা অরিত্রীকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে এবং তাকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করে।
শিক্ষকদের অপমানে শিক্ষার্থী অরিত্রি অধিকারীর (১৫) আত্মহত্যার ঘটনায় প্রথমবারের মত তীব্র ক্ষোভের ঘটনায় পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে এমন ঘটনা এবারই প্রথম নয়। এর আগেও স্কুলটিতে ছাত্রী আত্মহনন ঘটেছে বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, এর আগেও স্কুলটিতে ‘তোর কি এত মেধা আছে? তুই তো গাধা। তুই বিজ্ঞানে কীভাবে পড়বি?’ শিক্ষকদের এমন অপমানের মুখে বিজ্ঞান বিভাগে পড়তে না পেরে ২০১২ সালে আত্মহত্যা করে নবম শ্রেণির ছাত্রী চৈতী রায়। শিক্ষকদের এমন রূঢ় মন্তব্যে তীব্র অভিমান বুকে নিয়ে ঘুমের বড়ি খেয়ে চিরতরে না-ফেরার দেশে চলে যায় চৈতী।
অথচ ভিকারুননিসা নূন স্কুল থেকেই জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৪.৬০ ফল নিয়ে উত্তীর্ণ হয় সে। তার ইচ্ছা ছিল নবম শ্রেণিতে উঠে সে বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করবে। ভবিষ্যতে ডাক্তার হবে। তবে তার সে ইচ্ছায় বাদ সাধেন স্কুলের শিক্ষকরা।
তাকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়, ‘তুমি বিজ্ঞান পড়তে পারবে না। তোমার জেএসসির ফল ভালো নয়। কেবল মেধাবীরাই বিজ্ঞান পড়তে পারবে।’ চৈতীকে পড়তে দেওয়া হয় ব্যবসায় শিক্ষা, যা সে মন থেকে মেনে নিতে পারেনি।
২০১২ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি ঘুমের ওষুধ খেয়ে চিরঘুমের দেশে পাড়ি দেয় চৈতি। হতভাগ্য এই ছাত্রীর বাবা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গণসংযোগ কর্মকর্তা রবীন্দ্রনাথ রায় এখনও মেয়ের শোকে যখন-তখন ঢুকরে কেঁদে ওঠেন। তার মৃত্যুর শোক এখনও কাঁদাচ্ছে তার পরিবার ও সহপাঠীদের।
অভিভাবকদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক বিদ্যালয়ে, ক্লাসে অহরহই নির্মম, নিষ্ঠুর মন্তব্য ছুড়ে দেন। এমনকি মাত্র ১৫ দিন আগেও বেইলি রোড মূল শাখার একজন শিক্ষিকা ক্লাসে এক ছাত্রীকে উদ্দেশ্য করে উক্তি করেন- ‘এই পাগল-ছাগলের বাচ্চা, তোরে যে কইছি তুই শুনছ নাই?’ ক্লাসে অমনোযোগী হয়ে নোট তুলতে না পারায় দ্বিতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি এ উক্তি করেন। শিক্ষিকার এমন আচরণে ওই ছাত্রী বাসায় গিয়ে ‘ঐ ম্যাডামের ক্লাসে যাবে না’ বলে কান্নাকাটি জুড়ে দেয়। পরে অভিভাবক অনেক বুঝিয়ে-শুনিয়ে কিছুটা জোর করেই ক্লাসে পাঠান তাকে। এভাবে অপমান অপদস্ত করা হলেও নম্বরের ভয়ে শিক্ষার্থীরা মুখ খুলতে পারেন না।

Top