” নির্বাচন নিয়ে তরুণদের ভাবনা”– তানভীর রণি

1111-Copy.png

———————–
তারুণ্যকে কোনো বয়সের ফ্রেমে বাঁধা যায় না ঠিক, কিন্তু তরুণদের মধ্যে যদি তারুণ্য না থাকে তাহলে দেশ সামনের দিকে এগোবে কিভাবে? তারুণ্যের কোনো বয়স, স্থান-কাল-পাত্র নেই। মানসিক শক্তি তারুণ্যকে ধরে রাখতে পারে। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে আমাদের শক্তি হিসেবে কাজ করেছে আমাদের তারুণ্য। এখানে বয়স কোনো বাধা ছিল না, ছিল না লিঙ্গ, অঞ্চল কিংবা অন্য কোনো বাধা। যে তারুণ্যের মধ্যে ছিল তরুণ-তরুণী, মাঝ বয়সী এবং নানা শ্রেণিপেশার মানুষ। এদের আমরা কোন ফ্রেমে বাঁধব? যে তরুণ তার জীবন বাজি রেখে দেশের জন্য যুদ্ধ করেছে, যে তরুণী তার নিজের সম্ভ্রম বিলিয়ে দিয়ে দেশের স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছে, যে বৃদ্ধ তাঁর সামর্থ্য যা-ই থাকুক না কেন, স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছেন, তাঁদের আমরা কিভাবে ভুলব। কত না কৌশল তাঁদের পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আর এ দেশীয় দোসরদের বিরুদ্ধে অবলম্বন করতে হয়েছে। কখনো বা রোগী সেজে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে, আবার সাজতে হয়েছে হকার কিংবা আরো কত কি। এমন অভিনয় করে তথ্যপাচার কিংবা নিজেকে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছানো। লক্ষ্য ও প্রতিপাদ্য একটি স্বাধীনতা অর্জন। দীর্ঘ ৯ মাসের সংগ্রাম ও ত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি আমাদের স্বাধীনতা। আজ বিজয়ের মাসে গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি অগণিত মুক্তিযোদ্ধাকে, যাঁদের ত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি আমাদের দেশ, প্রিয় মাতৃভূমি।

নির্বাচন নিয়ে আমরা আর কী ভাববো? এটা যাদের ভাবা দরকার তারাই ভাবতে থাক। আমরা তো আর নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো না। এমন অভিমানী কত কথা বের হয়ে আসে আপামর জনগণের মুখ থেকে। কথাটা সত্য বলে যথেষ্ট মনে করি। কেননা, নির্বাচন নিয়ে যে কার্যকলাপ চলে, তা দেখে দেখে বেসামাল আর অস্থির হয়ে পড়েছে দেশের জনগণ। আর এমনটা দেখেই তারা নির্বাচন নিয়ে ভাবতে নারাজ।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হাওয়া ক্রমশ বেগবান হচ্ছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বক্তব্য, চিন্তা-ভাবনা, নির্বাচনকালীন সরকার, নির্বাচনী জোট, সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা প্রভৃতি বিষয় নিয়ে গণমাধ্যম সরগরম। নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং তাতে প্রধান দলগুলোর অংশগ্রহণ নিয়েও নানা জল্পনা-কল্পনা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, যথাসময়ে নির্বাচন হবে এবং তাতে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো অংশগ্রহণও করবে। এ নির্বাচনে রাজনৈতিক মেরুকরণ বা জোট, উন্নয়ন, সুশাসন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পাশাপাশি নতুন ভোটারদের গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব থাকবে বলে অনেকে মনে করছেন। কেবল নির্বাচন নয়, যে কোনো সমাজের একটি বড় শক্তি এই তরুণ সমাজ। বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির মূলেও তরুণ সমাজের ভূমিকা সর্বাধিক। দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ তরুণ। তারুণ্যের সম্মিলিত শক্তি একটি সমাজের আমূল পরিবর্তন করে দিতে পারে। শাহবাগ আন্দোলন (২০১৩), কোটাবিরোধী আন্দোলন এবং সাম্প্রতিক নিরাপদ সড়কের আন্দোলনে আমরা তারুণ্যের শক্তি প্রত্যক্ষ করেছি। আগামী নির্বাচনেও তরুণ সমাজের ভাবনা, পছন্দ-অপছন্দ, সমর্থন কিংবা বিরোধিতা ভোটের ফলাফল নির্ধারণ করে দিতে পারে।

তরুণরা তাদের মেধার মূল্যায়ন চায়, তরুণরা নিরাপদ জীবন চায়, দূষণমুক্ত পরিবেশ চায়, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা চায়, শিক্ষা, শান্তি ও প্রগতি চায়। দুর্নীতি, জঙ্গিবাদ ও মাদকমুক্ত বাংলাদেশ দেখতে চায়। স্বপ্ন দেখতে ও স্বপ্ন দেখাতে চায়। একটি উন্নত বাংলাদেশের তীব্র আকাঙ্ক্ষা নিয়ে তরুণরা দেশপ্রেমের মন্ত্রে উজ্জীবিত হতে চায়। সব ধরনের কুসংস্কার, রক্ষণশীলতা ও জড়তা কাটিয়ে তাদের জীবনের জয়যাত্রার গল্প শোনাতে চায়।

এবারের নির্বাচনে ভোট প্রয়োগের মাধ্যমে তরুণরা যেমন তাদের নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চায়, তেমনি উন্নত মানবিক ধারণা প্রয়োগ করে দেশ ও মানুষের কল্যাণে নিজেদের আত্মনিয়োগ করতে চায়।

তরুণরা পেছনের সব গ্লানি মুছে ফেলে আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তুলবে এটিই আমাদের প্রত্যাশা। এ জন্য তরুণদের বাস্তববাদী হয়ে প্রকৃত স্বাধীনতার চেতনায় অনুপ্রাণিত হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে হবে। তবেই নির্বাচন মহোৎসব হয়ে তরুণদের জীবনকে বদলে ফেলবে।

মোঃতানভীর আহম্মেদ রনি

বিবিএ, হিসাব বিজ্ঞান বিভাগ ,২য় বর্ষ

উত্তরা আনোয়ারা মডেল ইউনিভার্সিটি কলেজ

Top