বরিশালের ৬ টি আসনেই ছিটকে পড়েছে নতুনরা, পুরাতনে আস্থা আঃ লীগের

ele-5-20181125204344.jpg

নিউজ ডেস্ক /একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বরিশালের ৬টি সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ আর লবিং চালিয়েও মনোনয়ন পাননি নতুনদের কেউ। পুরাতন প্রার্থীদের ওপরেই আস্থা রেখেছে আওয়ামী লীগ।

গত কয়েক মাস ধরে নিজ নিজ এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ ও প্রচারণা চালিয়েছেন তরুণ মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। নির্বাচনকে সামনে রেখে এলাকায় যাতায়াত করেছেন। নিয়মিত রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেয়ার পাশাপাশি যোগ দিয়েছিলেন বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে। তরুণ মনোনয়ন প্রত্যাশীরা গত কয়েক মাস ধরে এলাকায় প্রার্থিতা জানান দিতে পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুনে শুভেচ্ছা জানানো এবং আপ্যায়ন করছেন সাধ্যমতো। নির্বাচনে অংশ নিতে দলীয় মনোনয়নপত্রও সংগ্রহ করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন দৌড়ে ছিটকে পড়লেন তারা।

রোববার সকালে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে দলীয় মনোনীত প্রার্থীদের চিঠি দেয়া শুরু হয়। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এ চিঠি বিতরণ করেছেন। প্রার্থী তালিকায় বরিশাল জেলার ৪টি আসনে বর্তমান ৪ সংসদ সদস্যের নাম রয়েছে। এতে ঠাঁই হয়নি নতুনদের।

তবে বরিশাল-৫ আসনে (মহানগর-সদর) দুইজন মনোনয়ন প্রত্যাশীর নাম শোনা যাচ্ছে। তারা হলেন- বর্তমান সংসদ সদস্য মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য প্রয়াত শওকত হোসেন হিরনের স্ত্রী জেবুন্নেছা আফরোজ এবং জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এখানকার ৪টি আসনে আওয়ামী লীগ এবং একটি করে আসনে জাতীয় পার্টি ও ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী নির্বাচিত হন।

তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করেছিল বিএনপি। ফলে ওই নির্বাচনে জয়ের পথ অনেকটা সহজ হয়েছিল আওয়ামী লীগ ও তার শরিক দলগুলোর।

বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনে এবারও মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ। আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে শক্তিশালী অবস্থানের কারণে বরিশাল-১ আসন থেকে হাসানাত আবদুল্লাহর বিপক্ষে দল থেকে কেউ মনোনয়ন সংগ্রহ করেননি।

বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনের বর্তমান এমপি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনুস। এবারও তিনি আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন। এ আসন থেকে মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ আর লবিং করেছেন অন্তত ২২ জন। ইউনুস ছাড়াও দলের দলের সমর্থন পেতে প্রার্থিতার দৌড়ে ছিলেন সাবেক এমপি মনিরুল ইসলাম মনি, ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি শাহে আলম, অগ্রণী ব্যাংকের সাবেক পরিচালক বলরাম পোদ্দার, বানারীপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক, উজিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান ইকবাল, জেলা আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক বানারীপাড়া পৌর মেয়র সুভাষ চন্দ্র শীল, আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য হাবিবুর রহমান খান এবং শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের দৌহিত্র ফাইয়াজুল হক রাজু, ক্যাপ্টেন (অব.) মোয়াজ্জেম হোসেনসহ অন্তত ২২ জন। মনোনয়ন পান এদের মধ্যে কেউ।

বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ) আসনে দলীয় মনোনয়নের চিঠি পেয়েছেন বর্তমান এমপি স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ নাথ।

এ আসনে অন্তত ১০ জন দলীয় মনোনয়ের আশায় মাঠে নেমেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত তালিকায় ঠাঁই হয়নি তাদের। এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীর তালিকায় ছিলেন- আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহমেদ, বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আফজালুল করিম, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাহেব আহম্মেদ, ২০০১ সালে মনোনয়ন পাওয়া মেজর (অব.) মহসিন সিকদার, লায়ন মো. মজিবুর রহমান হাওলাদারসহ অন্তত ১০ জন নেতা।

বরিশাল-৫ আসনে (মহানগর-সদর) দুইজন মনোনয়ন প্রত্যাশীর নাম শোনা যাচ্ছে। তারা হলেন- বর্তমান সংসদ সদস্য মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য প্রয়াত শওকত হোসেন হিরনের স্ত্রী জেবুন্নেছা আফরোজ এবং জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম।

দলের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, মনোনয়নের তালিকা অনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। চূড়ান্ত তালিকায় বরিশাল-৫ আসনে (মহানগর-সদর) কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম বা জেবুন্নেছা আফরোজ দুইজনের মধ্য থেকে একজন অন্তর্ভুক্ত হবেন। অপর জন বাদ যাবেন।

এ আসনটিতে মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ আর লবিং করেছেন বেশ কয়েকজন নেতা। মনোনয়ন দৌড়ে ছিলেন- বঙ্গবন্ধু পরিষদের কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উদ্দিন আহম্মেদ (বীরবিক্রম), মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সদর উপজেলা চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল ও আওয়ামী লীগ নেতা মশিউর রহমান খানসহ অনেকে।

বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীর দৌড়ে ছিলেন- জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য সাবেক অতিরিক্ত সচিব সিরাজউদ্দিন আহমেদ, যুবলীগের কেন্দ্রীয় সহ-সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান, অগ্রণী ব্যাংকের সাবেক পরিচালক বলরাম পোদ্দার, বাবুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি কাজী এমদাদুল হক দুলাল ও মুলাদী উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এম এ বারীসহ অন্যান্যরা।

বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দৌড়ে ছিলেন- দলের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য মেজর জেনারেল আবদুল হাফিজ মল্লিক (অব.), উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি উপজেলা চেয়ারম্যান শামসুল হক চুন্নু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র লোকমান হোসেন ডাকুয়া, প্রয়াত সাবেক এমপি মাসুদ রেজার স্ত্রী জেলা পরিষদ সদস্য আইরিন রেজা, দলের কেন্দ্রীয় নেতা ড. মোয়াজ্জেম হোসেন মাতুব্বর, বুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতিসহ অনেকে। তবে এ আসনটিতেও দলীয় প্রার্থী দেয়নি আওয়ামী লীগ। শরিকদের জন্য ছেড়ে দেয়া হয়েছে আসনটি।

এছাড়া বরিশাল ৩ ও ৬ আসনের জন্য দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেনি আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করতে শরিকদের এসব আসন ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তাই আসন দুটিতে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করা হয়নি।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনুস বলেন, বরিশাল জেলার ৬টি সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগ থেকে অর্ধশতাধিক নেতা মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। তবে দল যাদের যোগ্য মনে করেছেন তাদেরই মনোনয়ন দিয়েছেন। এখন উচিত হবে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করে তার বিজয় নিশ্চিত করা।

Top