নীলফামারী-১আসনে আফতাবের বিকল্প নেই

nilphamari-1-nirbachan-23.11.18.jpg

ডিমলা(নীলফামারী)প্রতিনিধি :
এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন, সুখে দুঃখে জনগণের পাশে থাকা, মাদক ও জঙ্গিমুক্ত সমাজ গড়ার কারীগর মুক্তিযোদ্ধা আফতাব উদ্দিন সরকারকেই আবারো চায় (ডোমার-ডিমলা) নীলফামারী-১ আসনের সাধারন জনগণ। আসন্ন ১১তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নীলফামারী-১(ডোমার-ডিমলা) আসনে জোট গতভাবে প্রার্থী হিসেবে একাধিক প্রার্থীর নাম শোনা গেলেও এলাকায় জন সাধারনের সমর্থনে এগিয়ে রয়েছেন আওয়ামীলীগের বর্তমান সাংসদ মুক্তিযোদ্ধা আফতাব উদ্দিন সরকার।

নীলফামারী -১ আসন (ডোমার-ডিমলা) উপজেলা নিয়ে গঠিত এ এলাকা এক সময়ে জাতীয় পার্টির ঘাটি হিসেবে পরিনত ছিলো। ডোমার ডিমলার মাটি ও মানুষের নেতা হিসেবে পরিচিত মুক্তিযোদ্ধা আফতাব উদ্দিন সরকারের যোগ্য নেতৃত্বের কারনে আসনটি আওয়ামীলীগের ঘাটিতে পরিনত হয়েছে।
২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে(ডোমার-ডিমলা) আসনে ৮০ হাজার ৪৩০ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আওয়ামলিীগের প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা আফতাব উদ্দিন সরকার। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবার পর অবহেলিত নীলফামারী-১(ডোমার-ডিমলা) আসনের বাস্তব চিত্র পাল্টে দুটি উপজেলার রাস্তা ঘাট পুল কালবার্ট স্কুল কলেজ মসজিদ মাদ্রাসা মন্দির স্বাস্থ্য সেবার ব্যাপক উন্নয়ন অব্যাহত রেখে আমূল পরিবর্তন এনেছেন সাংসদ আফতাব উদ্দিন সরককার। দুই উপজেলার প্রতিটি ওয়ার্ডে সভা সেমিনার করেন মাদক বাল্য বিবাহ ও জঙ্গির বিরুদ্ধে। মাদক ব্যবসা ও মাদক সেবন না করার জন্য শপথ করিয়ে মাদক করেছেন নির্মুল। এলাকার সাধারন ভোটারদের মনে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। আসন্ন ১১তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ডোমার-ডিমলা আসনটিতে জোট গতভাবে মনোনয়ন প্রত্যাশী একাধিক প্রার্থীর নাম শোনা গেলেও সাধারন ভোটাররা তাদের সমর্থন দিচ্ছেন আওয়ামীলীগের আফতাব উদ্দিন সরকারের পক্ষে।
ডিমলা উপজেলার ব্যবসায়ী নুর আলম,সিরাজুল ইসলাম,আকবর আলী,ভ্যান চালক ইব্রাহিম আলী, সুলতান আলী, শ্রমিক হরি কুমার, দিলিপ কুমার, আইয়ুব আলী, বাদশা মিয়া, শিক্ষক নারায়ন চন্দ্র রায়, ডোমার উপজেলার ব্যবসায়ী জাবেদ জামাল, সুলতান মাহমুদ, হারুন মিয়া, শ্রমিক মিন্টু মিয়া, জাকির হোসেন, ভ্যান চালক দুলাল মিয়া, হযরত আলী, আবুল কাশেম, শিক্ষক তরনী কান্ত, আব্দুল মালেক বলেন, আফতাব উদ্দিন সরকারের আগে (ডোমার-ডিমলা) আসনে যারা জোট এবং আওয়ামীলীগের এমপি নির্বাচিত হয়েছেন তাদের দ্বারা এলাকার উন্নয়নতো দূরের কথা এমপি হওয়ার পর এলাকায় তাদের দেখাও মেলেনি তারা ছিলেন জনগণ হতে বিচ্ছিন্ন। আফতাব উদ্দিন সরকার ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হয়ে এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর হতে জনগণের সাথে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে, তিনি এলাকার যথেষ্ট উন্নয়ন করেছেন, আমরা প্রাকৃতিক দূর্যোগসহ সকল বিষয়ে তাকে যথা সময়ে কাছে পেয়েছি। আমরা (ডোমার-ডিমলা) আসনে জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে আবারো আফতাব উদ্দিন সরকারকে মনোনয়ন দেয়ার দাবী করছি। নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় জোটগতভাবে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে এলাকায় তাদের কোন অবস্থান নেই, তাদের আগে কখনো এলাকায় দেখা যায়নি, তারা কেউ কখনো ডোমার-ডিমলার মানুষের উপকারে আসেনি, তাই তাদের পক্ষে আমাদের কোন সমর্থন নেই। আফতাব উদ্দিন সরকারকে আমরা ডোমার-ডিমলার সাধারন মানুষ দলমত নির্বিশেষে তাকে সুখে দুঃখে কাছে পেয়েছি। আফতাব উদ্দিন সরকারের যোগ্য নেতৃত্বে ডোমার-ডিমলার চিত্র বদলে গেছে, দলে কোন প্রকার দ্বিধা বিভক্তি নেই। এবং ডোমার-ডিমলার উন্নয়নে নীলফামারী-১ আসনে আফতাবের কোন বিকল্প নেই। আমরা সকলেই আবার ডোমার-ডিমলার উন্নয়নে ১১তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আফতাব উদ্দিন সরকারকে দেখতে চাই। জননেত্রী শেখ হাসিনার মনোনীত প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে গত ২০ নভেম্বর ডিমলা উপজেলায় ও ২১ নভেম্বর ডোমার উপজেলায় কর্মি সমাবেশের আয়োজন করেন আফতাব উদ্দিন সরকার। সেই কর্মি সমাবেশের উপস্থিতি জনসভায় পরিনত হয়। সেখানে ডোমার-ডিমলা উপজেলায় ২০ ইউনিয়নের নেতাকর্মীসহ উপস্থিত সাধারন ভোটাররা আবারো নীলফামারী-১ আসনে আফতাব উদ্দিন সরকারকেই মনোনয়ন দেয়ার দাবী তোলেন।
নীলফামারী-১ জাতীয় সংসদের ১২ তম আসন এই আসনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন প্রথম,পঞ্চম,অষ্টম ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির জাফর ইকবাল সিদ্দিকি মহাজোটের প্রার্থী হয়ে ১লাখ ৭৯ হাজার ৬৫৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তবে প্রাপ্ত ভোট তিনি পেয়েছিলেন মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে। যেখানে আওয়ামীলীগের ভোট সংখ্যা ছিলো বেশি। তার নিকট তম প্রতিদ্বন্দি ছিলেন বিএনপি’র রফিকুল ইসলাম, তিনি পেয়েছেন ৬৭ হাজার ১৯০ ভোট। দশম জাতীয সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের আফতাব উদ্দিন সরকার ৮০ হাজার ৪৩০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকট তম প্রতিদ্বন্দি জাতীয় পার্টির জাফর ইকবাল সিদ্দিকী পেয়েছেন ১৫ হাজার ৮৪৮ভোট।
উল্লেখ্য, উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাশ করে আফতাব উদ্দিন সরকার ছাত্র রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৬৮-১৯৬৯ সালে তৎকালীন নীলফামারী মহকুমা ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পেয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে পালন করেন। ১৯৭১ সালে তিনি সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদের ডিমলা উপজেলার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় বঙ্গবন্ধুর ডাকে সারা দিয়ে ভারতের হাফলং মিলিটারী ট্রেনিং ক্যাম্পে মুজিব বাহিনীর সদস্য হিসেবে সক্রিয় মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭৩ সালে ডিমলা উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশের ইউনিয়ন পরিষদ পদ্ধতি চালু হবার পর তিনি ডিমলা ইউনিয়ন পরিষদের প্রথম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে ১৯৭৩-১৯৮৩ সাল পয্যন্ত পরপর দুবার ইউপি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৫-১৯৯০ সাল এবং ২০০৯- ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি ডিমলা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত কাউন্সিলের মাধ্যমে ডিমলা উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের নেতা কর্মিদের সমর্থন নিয়ে ডিমলা উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন কোন প্রকার দ্বিধা বিভক্তি ছাড়াই। বর্তমানে ডিমলা উপজেলায় দলকে শক্তিশালী ও আওয়ামীলীগের দূর্গে পরিনত করেছেন এই নেতা। বর্তমান সাংসদ আফতাব উদ্দিন সরকার বলেন,আমি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী। আবারো আওয়ামীলীগ সরকার গঠন করতে আমার নেত্রী ডিজিটাল বাংলার রুপকার গণতন্ত্রের মানষকন্যা বাংলাদেশের সফল প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা যাকে আওয়ামীলীগের পক্ষে মনোনয়ন দেবেন, আমি তার পক্ষেই কাজ করে আওয়ামীলীগের বিজয় নিশ্চিতে প্রানপন চেষ্টা করবো। আমি আওয়ামীলীগ করি তাই নেত্রীর সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত, মনোনয়নের বিষয়ে আমার ব্যক্তিগত কোন অভিমত নেই।

Top