চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়ার মাতামুহুরী ব্রীজ হচ্ছে ৬ লেন বিশিষ্ট

download-1-Copy.jpg

ফাইল ছবি

কথিত খতিয়ানে ক্ষতিপূরণের টাকা উত্তোলনের প্রক্রিয়ায় প্রভাবশালীরা-

সাঈদী আকবর ফয়সাল,চকরিয়া:
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়ার ৬লেন এর মাতামুহুরী ব্রীজ এলাকায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধিগ্রহনকৃত জায়গায় নামে-বেনামে কথিত বিএস খতিয়ান সৃজন করে ব্রীজ ও সড়ক নির্মাণকে কেন্দ্র করে ফের ক্ষতি পূরণ নেওয়ার পায়তারা চালাচ্ছে প্রভাবশালী মহল। এমনকি ভোগ দখলীয় ভূমি মালিকদেরকে কথিত খতিয়ান ব্যবহার করে ক্ষতিপূরন থেকে বঞ্চিত করে নিজেদের আয়ত্তে ক্ষতিপূরণ ভাগিয়ে নেওয়ার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এসব সংঘবদ্ধ চক্র। ইতিমধ্যে চকরিয়ায় ৬ লেন বিশিষ্ট মাতামুহুরী ব্রীজের কাজের প্রক্রিয়া শুরু হয়েগেছে।
কক্সবাজার এলএ শাখা এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানায়, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়ার মাতামুহুরী পুরাতন ব্রীজটি নির্মাণকালে ৬৬টি দাগের আন্দরে প্রায় ৩১ একর জমি অধিগ্রহণ করে জমির স্ব স্ব মালিক পক্ষকে ক্ষতিপূরণ প্রদান করেছিলেন। পূর্বের জমি মালিকরা ইতিপূর্বে নামে-বেনামে অতিকৌসলে একাধিক বিএস খতিয়ান সৃজন করে রাখেন। বর্তমানে ওই ব্রীজের স্থলে ৬ লেন বিশিষ্ট নতুন ব্রীজ টেন্ডার হওয়ায় অধিগ্রহণ হয়ে যাওয়া জমি মালিকরা কথিত সৃজিত এসব খতিয়ান দেখিয়ে ফের ক্ষতিপূরণ উত্তোলনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এমনকি অনেকাংশে জমির এ্যাওয়াজ বদল করে ভিন্ন এলাকায় দখলে থাকা ব্যক্তিরাও নির্মাণাধীন ব্রীজ এলাকার সড়কের জমিতে ক্ষতিপূরণ নেওয়ার পায়তারা চালাচ্ছে। ফলে এ্যাওয়াজ বদলকৃত ভোগ দখলীয় মালিকরা রীতিমত আতংকে ও উদ্বেগ উৎকন্ঠায় রয়েছে। মাতামুহুরী ব্রীজের জন্য বিগত সময়ে অধিগ্রহণকৃত জমির মধ্যে রয়েছে; এলএ মামলা নং ৩৯ (৫৭-৫৮), চিরিংগা মৌজা জেএল নং ৪২, আর খতিয়ান নং ৫৬৮, ৫৬৯, ৫৫৯, ৫৫৭, ৭০৮, ৭১০, ৭১২, ৭৩৮, আর এস দাগ নং ৫৩৪, ৫৩৫, ৫৩৬, ৫৩৮, ৫৪১, ৫৪৩, ৫৪৬, ৫৬৬, ৫৭০, ৭৩৯, ৫৭১/৭৪০,৭৪১ এ ৯.৭৭ একর এবং এলএ মামলা নং ৫৬ (৫৪-৫৫) আর এস দাগ নং ১৫৪, ১৭৮, ১৭৯, ১৮০, ১৮১, ১৮৩, ১৮৪, ১৮৫, ১৮৬, ১৮৯, ১৯০, ১৯৬, ১৯৭, ১৯৮, ১৯৯, ২০১, ২২১, ২২২, ২২৪, ২৩৮, ২৩৯,৩৯০, ৭০৭, ৪০৮, ৪১৪, ৪১৫, ৫০১, ৫০৭, ৫০৮, ৫০৯, ৫১৮, ৫১৯, ৫২০, ৫২৪, ৫২৭, ৫২৮, ৫৩০, ৫৩১, ৫৩৫, ৫৩৬, ৫৪১, ৫৪২, ৫৪৩, ৫৪৬, ৫৪৭, ৫৫৩, ৫৫৮, ৫৬৭, ৫৭১, ৫৭৫, ৬১৮, ৬২০, ৬২৪, ৬২৫, ৬৩১, ৬৩২, ৬৩৩, ৬৩৪, ৬৩৫, ৬৫৩, ৬৫৬, ৬৯৪, ৭৪২, ৭৬২ এর জমির পরিমাণ ২৩.০৭একর সর্বমোট ৩১.৮৪এরকর জমি অধিগ্রহণ করা হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকজন ব্যক্তি জানিয়েছেন, অতীতে জমির এ্যাওয়াজ বদল করে ভিন্ন জায়গায় জমি দখলে রয়েছেন। কিন্তু সড়ক লাগোয়া এ্যাওয়াজ বদলকৃত ভূমি মালিকরা পূর্বের কিংবা ও কথিত খতিয়ান দেখিয়ে ক্ষতিপূরণের টাকায় আদায়ের চেষ্টা চালাচ্ছে। যার তাদের জন্য অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক হবে বলে মনে করেন। তাই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের চকরিয়া উপ-সহকারি প্রকৌশলী আবু আহসান মো: জুবায়ের বলেন, বিগত সময়ে মহাসড়কের মাতামুহুরী নদীর উপর এই ব্রীজ ও সড়ক নির্মাণের সময় সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর জমি অধিগ্রহন করে ক্ষতিগ্রস্ত জমি মালিকদের ক্ষতিপূরণ দিয়েছিল। কিন্তু এরপরও নামে-বেনামে বেশ কিছু সংখ্যক বিএস খতিয়ান সৃজন করে সড়ক লাগোয়া জমি অবৈধভাবে জবর দখল করে রেখেছিল। ইতিপূর্বে বেশ কয়েকবার উচ্ছেধ অভিযানও চালানো হয়েছে। বর্তমানে ব্রীজটি ঝুকিপূর্ণ হওয়ায় এবং মহাসড়কে ৪ (চার) লেন বিশিষ্ট চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক নির্মাণকাজ হাতে নেওয়ায় মাতামুহুরী নদীর ব্রীজের উত্তরে প্রায় আধা কিলোমিটার ও দক্ষিণে আধা কিলোমিটার জায়গায় ৬ (ছয়) লেন বিশিষ্ট হবে। তাই এসব জমি অধিগ্রহণের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। এজন্য সংশ্লিষ্টদের জমির মৌজা মূল্যের ৩ গুন ক্ষতিপূরণ দেবেন সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর। কিন্তু এক্ষেত্রে নামে-বেনামে তৈরীকৃত কথিত বিএস খতিয়ান দিয়ে ক্ষতিপূরণের টাকা আদায়ের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে কতিপয় মহল। ##

Top