ঢাবির শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা: প্রয়োজন সুষ্ঠু গবেষণা।

received_331788107637718.jpeg

———————-
আজ হিরো আলম নমিনেশন পেপার কিনছে,পার্লামেন্ট নিবার্চন করছে!
এ নিয়ে আমাদের আলোচনা ,সমালোচনার শেষ নেই!
তেমনি আমাদের দেশে প্রত্যেকটি মিডিয়া ,নিউজ,নিউজ পেপার বিশেষ ভাবে আলোচনা করছে!
এই আলোচনার বাদ যাননি আমাদের দেশের জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তিরাও! পিছিয়ে নেই বিভিন্ন বিষয়ের রাজনৈতিক গবেষকরাও! প্রতিনিয়তই কারণ খোঁজাখুঁজি হচ্ছে ,কেন হিরো আলম নির্বাচন করছে?কিসের জন্য করছে?কি করতে করছে?

কিন্তু দুঃখ হয় এখানেই……..!
এমন একটা সাধারণ বিষয় নিয়ে বাংলাদেশের প্রত্যেকটা ক্ষেত্রের আলোচনা হচ্ছে!

তবে,সব কিছুর অন্তরালে থেকে যাচ্ছে সমাজের ,দেশের হাজারো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ।যা নিয়ে কারো মাথা ব্যাথা আসে না,আসতেও চায় না!
যাইহোক, আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কে দেশ সেরা বিদ্যাপিঠ হিসেবে বিবেচনা করি।এখান থেকে সারাদেশের মানুষ যেমন ভালো কিছু আশা করে তেমনি যে ছাত্র টি এখানে ভর্তি হয় তারো থাকে বুক ভরা স্বপ্ন।এই স্বপ্ন দেখা থেকে পিছিয়ে থাকে না তার পরিবার! এই ছাত্রটিকে নিয়ে এক রাশ আশা থাকে তার পরিবারের এবং আশেপাশের মানুষগুলোর।
সেই ছাত্রটির আত্নহত্যার খবর বের হয় হঠাৎ করে একদিন!পত্রিকার পাতা,সংবাদ মাধ্যম গুলো থেকে এ নিয়ে একটা নিউজ বের হয় অথবা একটা নিউজ পড়া হয়!আড়ালে থেকে যায় আত্মহত্যার কারণ!আমাদের সামজিক মাধ্যম গুলোর মধ্যে দু’তিন দিন এ নিয়ে বিভিন্ন মতামত বের হয়।কয়েক দিন পর সামাজিক মাধ্যম গুলোর আড়ালে পড়ে যায় সে আত্নহত্যার কাহিনী ।যে ছাত্রটিকে নিয়ে মানুষ স্বপ্ন দেখত ,যারা তাকে ভালো বলত ,তারাই বলে দোযখে যাবে সে !কারণ আত্নহত্যা করেছে!এটাই আমাদের সামাজ আর পারিপার্শ্বিকতা ।অনেকেই বলে প্রেমিক অথবা প্রেমিকার প্রতারণার জন্য এমন হয়েছে।একটা মানুষ কি প্রেমের জন্যই শুধু আত্মহত্যা করতে পারে?এটা ভাবতে আমাদের লজ্জা করা উচিৎ!
ঠিক সে সময় আমাদের দেশের জ্ঞানীগুণীদের এবং গবেষকদের খোঁজে পাওয়া যায় না।আড়ালে লুকিয়ে থাকেন তাঁরা।ভেসে আসেন হিরো আলমের মতো লোকেরা নির্বাচন করলে।কারণ নির্বাচনের আড়ালে ব্যবসা থাকে কিন্তু আত্নহত্যার আড়ালে ব্যাবসা নেই!নিউজ ,নিউজ পেপার ও সংবাদ মাধ্যম গুলোরো থাকে না কোনো প্রকার বেনিফিট!
এভাবেই চলছে আমাদের সমাজ আর সামাজিক মাধ্যমগুলো।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যাবলির কথা আসি।
প্রথমে আমাদের সম্মানিত স্যারদের কথা বলি।
আমার এক বন্ধু তার ৪র্থ সেমিস্টারে ক্লাসে উপস্থিতির পরিমাণ ২% ! একটা সেমিস্টারে ২%ক্লাস করেছে একটা ছাত্র অথছ তার খোঁজ নেয়ার মতো কেউ নেই!কোনো স্যার জানতেও চাননি কেন ক্লাস করেনি সে?কিসের জন্য ক্লাস করে না?কি করে সে ,ক্লাস না করে? এটা কি একজন শিক্ষকের দায়িত্ব নয়,একটা ছাত্রের প্রতি?
আমার আর এক বন্ধু ৩য় সেমিস্টারে ফেল করে থেকে যায় আবার ২য় বর্ষে।অথচ তার ফেল করার কারণ কি ?কোন শিক্ষককেই জানতে চাননি!এটা কি জানা দরকার ছিল না ?যে ,একটা ছাত্র কেনো ফেল করলো!
কিছু দিন পর পর আত্নহত্যা করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।অথচ কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ! কেনো আত্নহত্যার পথ বেচে নিচ্ছে তারা?কিসের জন্য আত্নহত্যা করছে?কেনো আত্নহত্যা করছে? এই বিষয়গুলো কি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের খোঁজা নেয়া দরকার নয়?দরকার নয় কি এই দিনে দিনে বেড়ে যাওয়া আত্নহত্যার মিছিল থামানো?হয়ত, এই বিষয় গুলো ভাবার সময় তাঁদের নেই।যমন নেই আমাদের,সমাজের,রাষ্ট্রের বা সরকারের!

আরো অনেক কথাই ছিল বলবার কিন্তু এ নিয়ে সময় নষ্ট করার মতো সময় আমারো নেই!কেননা আমিও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন!

মনোয়ার হোসেন হিরন,
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ ,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ।

Top