রামুকে মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ মুক্ত করতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে ওসি ‘আবুল মনছুর’

IMG_20181122_144813.jpg

দিদারুল আলম (জিসান), কক্সবাজার:

কক্সবাজারের রামু থানাকে মাদক,সন্ত্রাস,জঙ্গীবাদ, ছিন্তাই,রাহাজানি সহ বিভিন্ন অপরাধ মুক্ত করতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন রামু থানা অফিসার ইনচার্জ আবুল মনছুর।

তিনি যোগদান করার পর থেকে রামু থানায় এখন অপরাধের অনেকটাই চেহারা পাল্টে গেছে ধারণা করতেছে সাধারণ জনগণ। রামু থানা পুলিশের বরাত দিয়ে জানা যায়, ওসি আবুল মনছুর একজন সৎ ও সাহসী যোগ্য অফিসার। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে শুরু করে সারাদিন পার হওয়ার পরেও অনেক রাত জেগে তিনি অফিসে ডিউটি পালন করেন।

তিনি জানান, মানুষের বিপদ-আপদ বেশিরভাগ রাত্রে হয়ে থাকে। সরকার আমাদেরকে জনগণের জান মালের নিরাপত্তার জন্য বেতন ও ভাতা দিয়ে যাচ্ছেন। আমরা দেশ ও জনগণের সেবক। সেবা ও শান্তি আমাদের একমাত্র কাম্য। গভীর রাত্রে এসেও যেন কোন অসহায় সাধারণ জনগণ পুলিশি সেবা থেকে বঞ্চিত না হয় সে বিষয়ে আমরা সজাগ থাকি।

রামু উপজেলায় ১১টি ইউনিয়নের মধ্যে বেশিরভাগ জনগণ পুলিশের সেবা পাচ্ছে। বিশেষ করে ঈদগড় ইউনিয়ন, গর্জনিয়া ইউনিয়, দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়ন ও খুনিয়া পালং ইউনিয়ন সহ কয়েকটি ইউনিয়ন ডাকাতির এলাকা হিসাবে চিহ্নিত। সেই সব এলাকায় রয়েছে নিরাপত্তার জন্য ২৪ ঘন্টা পুলিশের টহল টিম। প্রতিটি পাড়া গ্রামে, মাদ্রাসা ও স্কুলের দেওয়ালে টাঙ্গানো হয়েছে ডিউটি অফিসার ও ওসির নাম্বার সহ স্টিকার। যেন সাধারণ জনগণ যে কোন মুহুর্তে প্রয়োজনের জন্য পুলিশকে যে কোন তথ্য দিতে পারে।

গত ১৫ই আগস্ট ২০১৮ হইতে ৩রা নভেম্বর পর্যন্ত মাদক ব্যবসায়ী, চোর ও ডাকাত বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। টানা বেশ কয়েকদিনের অভিযানে মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ৫৮,৫৭১ পিচ ইয়াবা, ৩০ কেজি গাজা, ৩২২ কেজি বাংলা ছোলাই মদ উদ্ধার করা হয়। এসব মাদকের অপরাধে প্রায় ৩৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাছাড়া ১০ ডাকাত গ্রেফতার সহ ২টি দেশীয় তৈরী বন্দুক উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে বিভিন্ন অপরাধের গ্রেফতার করা হয় ৪৬৫জন কে। মোবাইল কোটের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করে খুচরা মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারী সহ অন্যান্য অপরাধে জন্য শাস্তি দেওয়া হয়েছে ১৮ জন কে।

এছাড়াও উল্লেখ যোগ্য হিসাবে কয়েকটি বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন ওসি আবুল মনছুর। বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে ১। প্রতি পাড়া মহল্লায়, গ্রামে ওসি এবং ডিউটি অফিসারে মোবাইল নাম্বার সহ পোষ্টার লাগিয়ে জনগণকে পুলিশি সেবায় আগ্রহী করার চেষ্টা। ২। মহল্লায় ও গ্রামে গিয়ে পুলিশি সভা করে জনগণকে অপরাধমূলক কর্মকান্ড থেকে বিরত সহ অপরাধীদেরকে তথ্য দিতে উদ্ভোদ্ধ করা । ৩। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে কথা বলে তাদেরকে সন্ত্রাসী জঙ্গীবাদের কূফল সম্পর্কে সতর্ক করা। ৪। রামু থানায় আগত সেবা প্রার্থীদের তাৎক্ষনিক আইনী সহায়তার মাধ্যমে রামু থানাকে জনসেবা বান্ধব থানা হিসাবে গড়ে তুলার চেষ্টা। ৫। চোর, ডাকাত, সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ ও মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতারের মাধ্যমে রামু থানার অপরাধ দ্রুত কমিয়ে আনার চেষ্টা। ৬। অন্যান্য ধর্মাবলন্বীদের জন্য সুষ্টভাবে দূর্গাপূজা ও প্রভারণা পুর্ণিমায় সর্বাত্মক নিরাপত্তার চেষ্টা।

রামু থানার সচেতন মহল বলেন, ওসি আবুল মনসুরের একজন সাহসী পুলিশ অফিসার পুলিশের গর্ব।

Top