ঝালকাঠি -২ আসনে আ.লীগে অপ্রতিদ্বন্দ্বী আমির হোসেন আমু।

f0327a269229be28f43000ba1e9d1a25.0.jpg

জাহিদুল ইসলাম পলাশ,ঝালকাঠি প্রতিনিধি।।
ঝালকাঠি সদর ও নলছিটি উপজেলা নিয়ে ঝালকাঠি-২ আসনটি ১০ বছর ধরে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য প্রভাবশালী নেতা আমির হোসেন আমুর দখলে। ২ লাখ ৭৭ হাজার ভোটার অধ্যুষিত দুটি পৌরসভা ও ২০টি ইউনিয়ন নিয়ে এই নির্বাচনী এলাকাটি বারবার হাতবদল হয়েছে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির মধ্যে।

তবে খাদ্য এবং শিল্পমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকালে সাংগঠনিকভাবে আওয়ামী লীগকে শক্ত জায়গায় নিয়ে গেছেন আমু। বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীকে দলে ভেড়ানো ছাড়াও ইউনিয়ন ওয়ার্ড পর্যায়ে দল সংগঠিত। ক্ষমতাসীন দলের এই শক্ত অবস্থানের বিপরীতে মনোনয়ন প্রশ্নে বিভক্তি রয়েছে বিএনপিতে। আওয়ামী লীগে আমির হোসেন আমু একক প্রার্থী হিসেবে মাঠে থাকলেও আরো ৪ জন দলীয় মনোনয়ন পত্র ক্রয় করছেন।অন্যদিকে বিএনপির মনোনয়ন ক্রয় করছেন ৯ জন।

এ আসনে আওয়ামী লীগে কোনো গ্রুপিং নেই। আমুর নেতৃত্বে একাট্টা সবাই। ১৯৯৬ সালের আগে যেখানে ওয়ার্ড পর্যায়ে আওয়ামী লীগের কমিটি করার মতো লোক পাওয়া যেত না সেখানে দুই উপজেলাতেই ইউনিয়ন পর্যন্ত রয়েছে দলের শক্ত অবস্থান। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে টেকনোক্র্যাট খাদ্যমন্ত্রী হন আমু। তখনই দল গোছানো কাজে হাত দেন। এর আগে বিশেষ করে নব্বইয়ে পট পরিবর্তনের পর ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হন সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান জাতীয় পার্টি থেকে বিএনপিতে আসা গাজী আজিজ ফেরদৌস। ১৯৯৬ সালে এমপি হন জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব জুলফিকার আলী ভুট্টো। ২০০০ সালে জুলফিকার আলীর মৃত্যু হলে উপনির্বাচনে বিজয়ী হন আমির হোসেন আমু। ২০০১ সালের ভোটে বিজয়ী হন জাতীয় পার্টি থেকে বিএনপিতে আসা প্রয়াত জুলফিকার আলী ভুট্টোর স্ত্রী ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো। ২০০৮ ও ২০১৪ সালের ভোটে বিজয়ী হন আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থী আমু। আগামী নির্বাচনে তিনি দলের একক শক্তিশালী প্রার্থী। ২০০৮ সালে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোটে আমু ৯৬ হাজার ভোট পেয়ে বিজয়ী হন এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইলেন ভুট্টো পান ৫৫ হাজার ভোট।

ঝালকাঠি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সরদার মো. শাহ আলম বলেন, ‘আমাদের দলে একক প্রার্থী আমির হোসেন আমু। তার কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই।’ বছরখানেক আগে থেকেই বিভিন্ন সভা-সমাবেশে নৌকায় ভোট চাচ্ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। উন্নয়নমূলক কাজের ফিরিস্তি তুলে ধরে নির্বাচিত হলে আগামীতে আরও কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তারা। ঝালকাঠি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খান সাইফুল্লাহ পনির বলেন, ‘এ আসনে আওয়ামী লীগ অনেক শক্তিশালী। ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটিগুলো নির্বাচনের জন্য কাজ শুরু করেছে। খেটেখাওয়া মানুষ থেকে শুরু করে সমাজের এলিট শ্রেণীও আমুর জন্য কাজ করছেন। আগামী নির্বাচনে ঝালকাঠি-২ আসনটি শেখ হাসিনাকে উপহার দিতে পারব।

Top