চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে পুনরায় মাল্টি চ্যানেল স্লিপওয়ে নির্মাণ শুরু

sleepway-5.jpg

জে.জাহেদ, চট্টগ্রাম ব্যুরো:

অনুমোদনের দীর্ঘ ৯বছর পর পুনরায় চট্টগ্রাম জেলার কর্ণফুলী উপজেলার ইছানগরের মৎস্য বন্দরে নির্মাণ করা হচ্ছে অ্যত্যাধুনিক মাল্টি চ্যানেল স্লিপওয়ে। বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসির) এর অধীনে একটি উন্নয়ন প্রকল্প এটি।

২০১৩ সাল হতে তিনধাপে প্রকল্পটির কাজ বন্ধ থাকার পর বর্তমানে কর্ণফূলী নদীর দক্ষিণ তীরে চট্টগ্রাম মৎস্য বন্দরে তা বাস্তবায়িত হচ্ছে। পুরোদমে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এ বারিক স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এন্ড এফএমসি জে.বি কোম্পানী।

তথ্যসুত্রে জানা যায়, শুষ্ক মৌসুমসহ সারা বছর ছোট ও মাঝারী সাইজের জাহাজ, বার্জ, ট্রলার মেরামত ও ডকিং এবং জেটি ও পন্টুন নির্মাণ সুবিধার্থে দুই-চ্যানেল বিশিষ্ট এ স্লিপওয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে।

এতে মাসে ৪টি বছরে ৪৮টি ট্রলার/জাহাজ ডকিং-আনডকিং ও মেরামত সুবিধা প্রদান করা সম্ভব হবে। প্রকল্পটি চালু হলে চুক্তিভিত্তিক ৩৪ জন জনবলসহ প্রায় ৫৫০ জন দক্ষ-অদক্ষ জনবলের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। ইতিমধ্যে প্রকল্পের গ্রাউন্ট লেবেল সমতল করার কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং অবশিষ্ট কাজ নির্মানাধীন রয়েছে।

যদিও নদীর পাশে রির্টানিং ওয়াল তৈরীর কাজে অনিয়মের অভিযোগ ওঠেছে। অনেক জায়গায় ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। কাজটি পুনরায় ৮০ফুট দৈর্ঘ্যর ও ৩১ফুট উচ্চতায় নির্মাণ করার তাগিদ দিয়েছে বলে জানা যায়। এ মাল্টি চ্যানেল প্রকল্পে টু চ্যানেল স্লিপওয়ে, শীভ ব্লক তৈরী ও উইঞ্চহাউস নির্মাণ করার কথা রয়েছে।

এতে মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয় কতৃক প্রকল্প ব্যয় ধরা হয় ২৭ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ডে দেখা যায়, ১ কোটি ৪৪ লাখ ৪৪ হাজার ৪শত ৪৪ টাকা। ২০১৩ সালের ৩০শে জুলাই ইছানগরে চট্টগ্রাম মৎস্যবন্দরে এ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আবদুল লতিফ বিশ্বাস।
স্লিপওয়েটির নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান এফএমসি ডক ইয়ার্ড লিমিটেডের এক মুখপাত্র বলেন, ‘দ্রুত সময়ে কাজ সম্পন্ন করা হবে। চট্টগ্রাম অঞ্চলের সব জাহাজ ও ট্রলারকে সময়মত ডকিং সুবিধা প্রদানের জন্য মাল্টিচ্যানেল স্লিপওয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, নির্মিতব্য দুটি চ্যানেলে বছরে প্রায় ৫০/৬০টি ট্রলার/জাহাজ ডকিং মেরামত করা সম্ভব হবে।

বিএফডিসি সুত্রে জানা যায়, প্রকল্পটি গত ২০০৯ সালের ১১ই অক্টোবরে অনুমোদিত হয়। পুরা প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় ছিল ৪২.৭৮ কোটি টাকা এবং বাস্তবায়নকাল ছিল ২০১৭ পর্যন্ত। কিন্তু প্রকল্পের উপদেষ্টা এবং ওয়েট লেভেলের চ্যানেল নির্মাণে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের অনুমতি প্রাপ্তির বিলম্বের জন্য প্রকল্পটির বাস্তবায়ন যথাসময়ে সম্ভব হয়নি বলে জানান।

Top