“অধিকার”- জিনাত তামান্না

PicsArt_11-19-03.02.35.png

কোনো পড়াতেই আজ মন বসছে না হামনার।কাল গ্রাম থেকে দাদু আসবেন ,দাদুর সাথে কতো গল্প করবে !পুরো শহর ঘুরে বেড়াবে ,মজার মজার খাবার খাবে আরো কতো কি পরিকল্পনা তার ছোট্ট মনে!
তার পরেও কি আর করা ?কিছুদিন পরেইতো ওর প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা ,পড়া ছাড়া কি কোনো উপায় আছে ওর ?অনেক চেষ্টায় অল্প কিছু প্রশ্ন পড়েই আজ খুব তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়লো হামনা।ঘুমিয়ে ঘুমিয়েও যেন শুধু দাদুকেই স্বপ্নে দেখছে । বেশ কয়েকবার ঘুম ভাঙলো কিন্তু সময় যেন যেতেই চায় না। উফঃ সকাল হতে কেনো যে এতো দেরি হচ্ছে কে জানে ?এমনিতেই প্রতিদিন খুব ভোরে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস ওর।আজ একটু বেশি তাড়াতাড়ি উঠে ,ওযু করে ফজরের নামাজ আদায় করে নিয়মমতো সামনের বেলকুনিতে কোরআন পড়তে বসলো।কোরআন পড়া শেষ না হতেই ওর চোঁখ পড়লো নিচের মেইন গেটের সামনে। গেটের বাইরে দাদু দাড়িয়ে আছেন !!!হামনা যেন নিজের চোঁখকেই বিশ্বাস করতে পারছিলো না !
এক দৌড়ে মার কাছে গিয়ে বললো ___
মা !তাড়াতাড়ি মেইন গেটের চাবি দাও ,দাদু বাইরে দাড়িয়ে আছেন গেটে তালা লাগানো তাই ভিতরে ঢুকতে পারছেন না। ওর মা বললেন দাড়াও দিচ্ছি।কিন্তু একি ??চাবি কোথায় গেলো ??? যেখানে ছিলো সেখানে তো নেই !হামনা আর ওর মা মিলে পুরো বাসা খুঁজেও চাবিটা পেলো না।ঐ দিকে দাদু কতক্ষন ধরে দাড়িয়ে আছেন !
হামনার তো প্রায় কাঁদো কাঁদো অবস্থা।
মা বললেন ___হামনা !তুমি এক কাজ করো ,রওজাদের কাছে ও তো মেইন গেটের চাবি আছে ,জলদি যাও ওদের চাবিটা একটু চেয়ে আনো। রওজারা আর ওরা পাশাপাশি ফ্ল্যাটেই থাকে। মায়ের কথা শুনে হামনা কিছু না ভেবেই দৌড়ে গিয়ে রওজাদের কলিংবেল চাপলো।এতো সকালে কলিংবেলের শব্দে রওজা খুব তাড়াতাড়ি এসে দরজা খুলে দেখে হামনা খুব হাঁপাচ্ছে!কি ব্যপার ?এতো হাঁপাচ্ছো কেনো হামনা ?প্রশ্ন করলো রওজা।আপু !তোমাদের মেইন গেটের চাবিটা একটু দিবে ?আমাদের চাবিটা খুঁজে পাচ্ছি না।আমার দাদু গেটের বাইরে দাড়িয়ে আছেন ,একটু তাড়াহুড়ো করেই হামনা উত্তর দিলো।হ্যা হ্যা আছে ,তুমি দাড়াও আমি এনে দিচ্ছি ,বলেই রওজা ভিতরে গিয়ে চাবিটা এনে হামনার হাতে দিতেই রওজার ছোটো বোন রাইহা বললো ___বাড়িওয়ালা চাচা সবার ফ্ল্যাটেই একটি করে চাবি দিয়েছেন ,ওদেরকে ও তো দিয়েছেন!তাহলে আমাদের চাবি কেনো ওদের দিবো ?ওদের কাছে কি চাবি নেই আপু ?
হামনার সামনে রাইহার এই আচরণে খুব লজ্জা পেলো রওজা।
চাবি হাতে পেয়ে হামনা এক দৌড়ে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে গেলো ।রাইহা আর হামনা একই স্কুলের একই ক্লাসে পড়ে।আর এ জন্যই ওদের দুই পরিবারের মধ্যে সম্পর্কটা একটু বেশিই ছিলো !
হামনা চলে যাওয়ার পর রওজা তার ছোটো বোন রাইহাকে বললো ___রাইহা …ছোটো আপু আমার !আজ যদি আমাদের দাদু গ্রাম থেকে এসে গেটের বাইরে দাড়িয়ে থাকতেন আর ওদের মতো আমরাও যদি আমাদের চাবিটা খুঁজে না পেতাম তখন তোমার আর আমার কাছে কেমন লাগতো ?
খুব কষ্ট হতো আপু !আমিতো কেঁদেই দিতাম !একটু জোরেই কথাটা বলে উঠলো রাইহা।ওদের দু’বোনের কথা শেষ না হতেই হামনা ওর দাদুকে নিয়ে ওপরে চলে আসলো।হামনার দাদুকে সালাম দিয়ে কুশল বিনিময় করলো রওজা।হামনা বললো __এই নাও আপু চাবি।হঠাৎ রাইহা বলে উঠলো, আমার ভুল হয়ে গেছে হামনা!তখন তোমাকে ঐ কথা গুলো শুনানো আমার উচিত হয় নি।তুমি কিছু মনে করোনা ।
রওজা বললো ___শোনো তোমরা ,আমরা কিন্তু একে অপরের প্রতিবেশী !আর এক প্রতিবেশীর ওপর অন্য প্রতিবেশীর রয়েছে অনেক অধিকার যেগুলো আমরা মোটেই জানি না বা জেনেও মানি না।আর এই অধিকার কিন্তু স্বয়ং আল্লাহ আমাদের দিয়েছেন!সূরা নিসার 36নং আয়াতে আল্লাহ প্রতিবেশীর সাথে উত্তম ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন।তাছাড়া হযরত জিব্রাঈল (আ)ওসিয়ত করেছেন প্রতিবেশীর হক আদায় সম্পর্কে !

Top