প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনি পরীক্ষায় অনিয়ম-দুর্নীতি

46450839_187325668871004_6365822817564360704_n.png

হাসান মাহমুদ,স্টাফ রিপোর্টার :
আজ রবিবার (১৮ নভেম্বর) শুরু হয়েছে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা |
আজকের প্রথম দিনে অনিয়ম-দুর্নীতিরর অভিযোগ উঠেছে বাগেরহাট জেলার শরণখোলা উপজেলার পরীক্ষা কেন্দ্র গুলোতে| শরণখোলা উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের ৮টি পরীক্ষা কেন্দ্রে উপজেলার ১১৪ টি প্রাথমিক, ৫৯ টি আনন্দ এবং ২০টি মাদ্রাসার ২ হাজার ৬’শ ৮৪ জন শিক্ষার্থী পিইএসসি (সমাপনী) পরিক্ষায় অংশ নেয়।

উত্তর তাফালবাড়ী মান্নান হাওলাদারের বাড়ী, উত্তর তাফালবাড়ী ফারুক হাওলাদারে বাড়ী, উত্তর তাফালবাড়ী লুৎফর রহমানের বাড়ী, ক্ষিতিশি চন্দ্রের বাড়ী, কদমতলা এমাদুল হকের বাড়ী, উত্তর তাফালবাড়ী হক ফরাজী বাড়ী, কাঞ্চন জোমাদ্দার বাড়ী, রনজিৎ হাওলাদার বাড়ী, মুজিব রহমানের বাড়ী, রায়েন্দা বাজার তৌহিদের বাড়ী, ডাঃ সাইয়েদুর রহমানের বাড়ী, দক্ষিণ আমড়াগাছিয়া আঃ আজিজ মোল্লার বাড়ী, মালিয়া দেলোয়ার মোল্লার বাড়ী,রাজাপুর আলী হোসেনের বাড়ীসহ অন্যান্য আনন্দ স্কুলের অংশ নেয়া উপজেলার জনতা মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দ্বিতীয় তলার ৫, ৬ ও ৭ নং কক্ষে ১৩৩৮, ১৭৭২, ৭৩, ৭৪, ৭৫, ৭৬, ৭৭, ৭৮, ৭৯, ৮০, ৮১, ৯৩, ১৬৯৪, ৯৫, ৯৬, ৯৭, ৯৮, ৯৯, নং রোল নম্বরের প্রায় ৩০/৩৫ জন শিক্ষার্থী প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নিলেও এদের অধিকাংশ উপজেলার আর,কে,ডি,এস পাইলট বালিকা বিদ্যালয়, জনতা মাধ্যমিক বিদ্যালয, সুন্দরবন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সুন্দরবন মাদ্রাসা, তাফালবাড়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্কুলের ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।
নাম প্র্রকাশে অনেচ্ছুক এক শিক্ষক নিউজ ভিশন কে জানান,“ স্কুলকে টিকিয়ে রাখতে প্রতি বছর কতিপয় অসাধু শিক্ষকদের একটি শক্তিশালী চক্র বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেনীর শিক্ষার্থীদের ছাত্র সাজিয়ে পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করানো হয়।”

এ ব্যাপারে ঐ কেন্দ্রের হল সুপার জাকির হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন,“ আনন্দ স্কুলের পক্ষে পরীক্ষায় অংশ নেয়া পরীক্ষার্থীদের দৈহিক গঠন দেখলেও বুঝা যায় এরা মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থী। কিন্তু উপযুক্ত প্রমানের অভাবে পরীক্ষা থেকে ঐসকল শিক্ষার্থীদের বাঁধা প্রদান করা যাচ্ছেনা। ”

এ সম্পর্কে আনন্দ স্কুলের অত্র উপজেলার দায়িত্বরত কর্মকর্তা আলমগীর হোসেনের বক্তব্য নিতে তাকে একাধিকবার তার মুঠোফোনে(০১৭১১০১৪৬৭৩) ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি শিক্ষকদের যোগসাজশের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, “আনন্দ স্কুলের কেউ অনিয়ম করলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিংকন বিশ্বাস জানান,“ অভিনব এ জালিয়াতির বিষয়ে তিনি অবগত নন। তবে, খোঁজখবর নিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে বলে তিনি জানান।”

Top