অস্তিত্ব সংকটে উভয় পক্ষের শিক্ষার্থীরা

46292856_1931560263812961_6351698306510356480_n.png

-মুহাম্মদ হাসান মাহমুদ :

মানুষ স্বাধীনভাবে স্বাধীন সত্তা নিয়ে জন্মগ্রহন করে।দার্শনিক ইম্যানুয়েল কান্টের দর্শনে ও পাওয়া যায় যদি কোনো অসত্য জোর করে স্বাধীন সত্য সত্তার উপর চাপিয়ে দেয়া হয় তবে সেটা মানা সম্ভব নয় ।আপনা থেকেই সে তার এ শৃঙ্খল থেকে বেরিয়ে আসতে চেষ্টা করে ।কখনো সে এটাকে মেনে নিতে পারেনা।তাকে এভাবে বেঁধে রাখা সম্ভব হয়না।কারন সে পরাধীনতার গ্লানিকে সহ্য করতে পারেনা।প্রত্যেকের একটি স্বতন্ত্র ব্যক্তি সত্তা আছে।সে সত্তা কে কেউ বিসর্জন দিতে চায়না ।পারেনা।আর সেটা যদি সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত হয় তাহলে তো কোনো কথাই নেই।
মূল প্রসঙ্গে যাওয়ার আগে আরো একটি কথা বলে নেই।আমরা সাধারণত প্রতিটি ক্ষেত্রে একটি পক্ষে এবং একটি বিপক্ষে গ্রুপ দেখি।যেমন ,সরকারী দল-বিরোধী দল,মামলা মোকাদ্দমায় বাদি-বিবাদি এরকম ভাবে প্রতিটি ক্ষেত্রে রয়েছে দুটি গ্রুপ ।তবে এটি থাকা ভালো যদি এটা আলাদাভাবে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যে আলাদা ভাবে থাকে।কিন্তু সেটা নিজের এক দল হিসেবে একটি প্রাণ যাকে বিবেচনা করা হয় সেখানে যদি থাকে ,গ্রুপ থাকে ,বিচ্ছিন্নতা থাকে,ফাটল থাকে তবে এর লক্ষ্য বস্তু কি?এরকম একটি প্রাণে আলাদা উদ্দেশ্য, আলাদা বৈশিষ্ট্য থাকলে কখনো মূল লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হয় কি?যদি একজন ডানে যাওয়া স্বাচ্ছ্যন্দ বোধ করেন আর অন্য জন্য বামে গিয়ে ,তবে কিভাবে শান্তি আসতে পারে এ একটি প্রাণের সকল অঙ্গে?
আমরা জানি, সমস্যা সেটিকে বলা হয় যার সমাধান আছে।কিন্তু যার সমাধান নেই, সেটাকে কি বলা যেতে পারে?তবে কখনো কি বিরোধ মিটিয়ে এক করা সম্ভব কখনো?এতক্ষণ বলছিলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং সাত কলেজ বিরোধের কথা ।১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে ৭টি কলেজ ( ঢাকা কলেজ,ইডেন মহিলা কলেজ,সরকারি শহীদ সোহারাওয়ার্দী কলেজ,মিরপুর সরকারি বাংলা কলেজ,সরকারি তিতুমীর কলেজ, বেগম বদরুন্নেছা সরকারি মহিলা কলেজ, কবি নজরুল কলেজ) কে অন্তর্ভূক্ত করা হয়। তখন থেকে সমস্যার শুরু হয় লেগে থাকে ঝামেলা ।শুরু হয় ঢাবি বনাম সাত কলেজ ম্যাচ।যদিও এ সকল প্রতিষ্ঠানে সকল মেধাবীরা চান্স পায়।কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে আলাদা এক ইতিহাস আলাদা এক গর্ব।যেখানে চান্স পাওয়া সবার ই স্বপ্ন থাকে।আর এ স্বপ্ন পূরণের জন্য আবার অনেকে অবৈধ পন্থা অবলম্বন করে হলেও চান্স পেতে চায়।যদিও এরা সফল হতে পারেনা।যে চান্স পায় অনেক কষ্ট করে পড়াশুনা করে চান্স পায়। তাই মূল কথা হল, যে ছেলেটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে সে কখনো চায় না যে অন্য কেউ এখানে চান্স না পেয়েও ,না পড়েও তার সমকক্ষ হোক,তার সমান সুযোগ সুবিধা পাক।যেটা তাদের ইগো তে খুবই বাধে।আর বাধার ই কথা।গত ১৫ নভেম্বর ২০১৮ বিশ্ব দর্শন দিবস ছিল।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে সাত কলেজ সে অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহন করে।মজার ব্যাপার হল-সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী কে সাত কলেজের এক ম্যাম জিজ্ঞেস করেছিল,‘তুমি কোন কলেজের?’এভাবে হয়ত জিজ্ঞেস করতে পারত যে তুমি কি এখানকার ? ঢাবির না কলেজের?কিংবা কোথাকার শিক্ষার্থী?তা না করে একজন ম্যাম হয়ে ও সে এভাবে বলেছে।আবার অন্যদিকে যে সকল শিক্ষক আমাদের পূর্বে ক্লাস নিয়েছেন এখন রিটায়ারে আছেন বা ডিপার্টমেন্টে অন্যদের ক্লাস নেন আমাদের এখন ক্লাস নেন না তাদের সাথে দেখা হওয়ায় সালাম দিলে তাঁরাও বলে বসেন,“ তোমরা কি আমাদের? নাকি সাত কলেজের?”এখন এমন অবস্থা হয়েছে যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে এখন আর এক নামে কেউ চিনেনা।প্রশ্ন চলে আসে সাত কলেজ কিনা?ফলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যেমনটি তার ইউনিক পরিচিতি হারাচ্ছে,তার সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে।অন্যদিকে সাত কলেজ ও কিছু ক্ষেত্রে সুবিধা পেলেও অনেক ক্ষেত্রেই বৈষম্যের শিকার হচ্ছে।তারাও তেমন ভালো নেই,যদিও এখন তারা ঢাবির নাম বিক্রি করতে পারেন।ফেইসবুকে তো অনেকে শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় লিখে রাখেন,আন্ডার আর কলেজের নাম বাদ দিয়ে।
অতএব কেউ ভালো নেই।আর অন্য কোনো বিকল্প পথ না বের করলে ,সমাধান না হলে এমনটি আজীবন চলবে। উভয় পক্ষের শিক্ষার্থীরা আজ খুবই অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। আমি শুধু আমার ডিপার্টমেন্টের কথা বলছি তার মানে এটা শুধু আমাদের সাথে হচ্ছে তা নয়।যদি পরিসংখ্যান করা হয় তবে দেখা যাবে ৯৯% এর উপরে শিক্ষার্থীর সাথে এটি ঘটছে।ফেইসবুক টাইমলাইনে এ সমস্যাটি নিয়ে পোস্ট দিচ্ছে।আমি এ বিষয়টি নিয়ে লিখতে চাচ্ছিলাম না ,কারন পূর্বেও এ বিষয়টির সমাধানের জন্য অনেক আন্দোলন হয়েছে।কিছু সমাধান ও দেয়া হয়েছে।কিন্তু আসল সমস্যা রয়েই গেছে।

লেখকঃ মুহাম্মদ হাসান মাহমুদ
শিক্ষার্থী,দর্শন বিভাগ,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

Top