নির্বাচন প্রসঙ্গ : “প্রচারণা যেন প্রতারণা না হয় ”

download-3-4.jpg

নাজমুল অাহসানঃ

নির্বাচন মানে উৎসব মুখর পরিবেশে নানান উত্তেজনায় ভরপুর কৌতুহলের ছড়াছড়ির একটি অানন্দঘনময় মুহুর্ত। সাথে নির্বাচন মানে নানা অপপ্রচার সহ গুজব ছড়ানোর সূবর্ণ সুযোগ বটে। নির্বাচন মানে জনগণের আশার প্রতিফলন ঘটানো। নির্বাচন হল কোন এক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের গণতন্ত্রের অন্যতম বহিঃপ্রকাশ। কোন রাষ্ট্রকে তখনই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসাবে গণ্য করা যায় যখন কোন জনগণ তার পছন্দের দল কিংবা ব্যক্তিকে সুষ্ঠু পরিবেশে ভোটদানের মাধ্যমে নির্বাচিত করতে পারেন। অন্যথায় কখনও এর বহির্ভূত দেশকে গণতান্ত্রিক দেশ বলা সমুচিত নহে। কারণ ভোট প্রদান করাটা জনগণের কাছে গণতন্ত্রের অন্যতম এবং প্রধান বিবেচ্য বিষয়।

অাসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে বর্তমানে সারাদেশ এমন একটি চাঞ্চল্যকর পরিবেশের মধ্যে আছে যার আভাস ছড়িয়ে পড়েছে কক্সবাজার -২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনের জনগণের মধ্যেও। যার ফলে প্রাথমিক ভাবে এলাকা জুড়ে শুরু হয়েছে নানা মুখী প্রচারণা। কিন্তু এখনও মূল প্রচারণা আরম্ভ হয়নি। এরপরেও জনমনে শুরু হল নানা আকাংঙ্কা এবং আশার আলো। কে পুরণ করবে তাদের আশা? এটাই এখন সবার প্রশ্ন। এদিকে প্রার্থীরাও কৌশলে স্বার্থ অাদায়ের জন্য তাদের প্রচারণার মূল প্রতিপাদ্য বিষয় তৈরী করে রেখেছে অনেক অাগে থেকে। সময়ে ছড়িয়ে দিবে, জানিয়ে দেবে জনগণকে এই লক্ষ্যে।

প্রচারণা হল নির্বাচনে জয় লাভের অন্যতম গুরুত্বপূর্ন কৌশল এবং পন্থা। কিন্তু কোন কোন ব্যক্তি ও ক্ষেত্র বিশেষে ক্ষমতার লোভে এই প্রচারণার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে দিয়েছে প্রতারণা শব্দটিও। সহজ সরল জনগণকে প্রচারণার মধ্য দিয়ে প্রতারণার ফন্দিতে আটকে রেখে মুষ্টিমেয় অসাধু প্রার্থীরা নিজেদের স্বার্থ বজায় রেখে জয় ছিনিয়ে নিতে চায়। তারা শেষ পর্যন্ত যে করেই হোক বা যে উপায়ে হোক জয় ছিনিয়ে নিতে পারলে ঠকে যায় সাধারণ জনগণ। প্রার্থীর প্রচারণায় ভবিষ্যত উন্নয়ন ও ইতিবাচক পরিবর্তনের আশ্বাসের কথা যতটা বিশ্বাস করে জনগণ, তারচেয়ে বেশি আশাও করে। যার কারণে এই মহেশখালী-কুতুবদিয়ার মানুষ ইতোপূর্বে অনেকবার প্রতারণার শিকার হয়েছে নিজেদের সরলতার কাছে।

বিগত সময় গুলোতে তেমন কোন আশার আলো দেখেনি এ অঞ্চলের জনসাধারণ। একেবারে উন্নয়ন হয়নি এমনটি বলা যায় না। উন্নয়ন হয়েছে টিকই কিন্তু প্রান্তিক জনগণ এসব উন্নয়নের ফল থেকে বঞ্চিত হয়েছেও বেশি। এই অঞ্চলকে আধুনিক সিঙ্গাপুর করা হবে বলে আভাস পাওয়া গেলেও তা এখনও তেমন লক্ষ করা যাচ্ছে না। তবে সিঙ্গাপুরের বাতাস জনগণের গায়ে না লাগলেও লেগেছে বড় বড় নেতা, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের গায়ে, তাদের ঘরে, ব্যাংকে এবং পকেটে।

এখানকার পুরোনো স্থাপনা গুলোর মধ্যে অন্যতম জেটিঘাট, ঠাকুরতলা রশিদ মিয়া ব্রিজ সংস্কারের অভাবে আজ ধ্বংসের শেষ প্রান্তে। বিগত সময়গুলোতে রাস্তার উন্নয়নের নামে বার বার জনগণকে ধোঁকা দেয়া হয়েছে। হালকা পিচের ডালায় দিয়ে সবসময় বোকা বানানো হয়েছে অবুঝ জনগণকে। ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তার দুপাশে শক্ত বেড়িবাধ না দিয়ে বার বার করা হয় প্লাস্টিকের বস্তার সমন্বয়ে কাঁচা হাতের কারুকার্য। যা কাজ শেষ না হতেই ভাঙ্গতে শুরু করে। বর্ষাকালে যা জনগণের দূর্গতির শেষ থাকে না।

স্বাস্থ্য সেবা পেতে সাধারণ মানুষ ছুটে যায় একমাত্র অাশ্রয়স্থল মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সরকারী এ হাসপাতাল ছাড়া এ দ্বীপে বিকল্প হাসপাতাল না থাকায় বাধ্য হয়ে ঐ হাসপাতালেই সেবা নিতে হয় সবাইকে। এ হাসপাতালে সরকারী ভাবে একটি অ্যাম্বুলেন্স দেয়া থাকলেও তা চালকের অভাবে তৎকালীন সময় থেকে অকার্যকর পড়ে অাছে। তাছাড়া রয়েছে নানা অনিয়ম। কিন্তু একটি কথা বলতে হয় অতীতের চেয়ে অনেক পরিবর্তন এসেছে এ দ্বীপে। যা যুগোপযোগী হওয়া বাধ্যতামূলক ছিল। চোখে পড়ার মত উন্নয়ন হয়নি এখানে।

সাম্প্রতিক সময়ের একটি আলোচিত বিষয় মেগা প্রকল্পের নামে যে জমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে তার নায্য ক্ষতিপূরণ কি আদৌ সঠিকভাবে প্রকৃত মালিকরা পাচ্ছে? অধিগ্রহণের নাম দিয়ে যেন এই অঞ্চলকে বিক্রি করে দেওয়া না হয় সেদিকে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির খেয়াল রাখা দরকার।

অপরদিকে সরকার ও জনগণ উভয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর মাদক বিরোধী অভিযান। এ অভিযান অনেকাংশে সফলতার মুখ দেখেছে। অাস্থা অর্জন করেছে জনসাধারণের। তবে এখনো মহেশখালীর বিভিন্ন জায়গায় মাদক উৎপাদন, বিক্রি, সরবরাহ, সেবন করে অাসছে উঠতি বয়সী যুবক সহ বৃদ্ধরা। এসব কর্মকান্ডও চালানো হচ্ছে কোন না কোন রাজনৈতিক নেতার ছত্রছায়ায়। এসব অপকর্ম বন্ধ করে যুব সমাজকে বাঁচাতে হবে সবার। যাক, জানিনা কতটা দাবি পুরন করার প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রার্থীগণ তাদের প্রচারণায় নেমেছেন। পূর্বে বেশ কয়েকবার অামরা প্রতারণার শিকার হয়েছি। এবারও কি ধোঁকায় পড়বে মহেশখালী-কুতুবদিয়ার আপামর জনসাধারণ? সবকিছু মিলিয়ে তাদের মনের কথা একটাই, “প্রচারণা যেন প্রতারণা না হয়”।

ছাত্র
চট্টগ্রাম সরকারী সিটি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ
সদস্য,মহেশখালী রিপোর্টার্স ইউনিটি

Top