একজন আদর্শ শিক্ষকের দ্বায়িত্ব ও কর্তব্য

received_330582114399944.jpeg

এনামুল হক মাহিন ঃ

আদর্শের ইংরেজি প্রতিশব্দ Model।অনুকরণীয় ও অনুস্মরণীয় বিষই হলো আদর্শ।শ্রষ্টার শ্রেষ্ট মানুষ হিসেবে আমরা সারা জীবন ছাত্র ও শিক্ষক।জীবন ব্যাপী আমরা শিখি অথবা শেখাই।যেনতেনভাবে কোনকিছু গলগদ করাকে আহার বলে না।তেমনিভাবে কোন কিছু জানাকেও শিক্ষা বলে না।বরং যে শিক্ষা শ্রষ্টা ও তার সৃষ্টির মাঝে সংযোগ স্থাপন করে,মনুষ্যত্বের বিকাশ ঘটায়,মানব কল্যান সাধিত করে সেটাই আদর্শ শিক্ষা।আর আদর্শ শিক্ষা অর্জনের প্রকৃত মাধ্যম হলো আদর্শ শিক্ষক।বড় হওয়ার প্রবল বাসনা মানুষকে কেবল মাত্রই কল্পনা প্রবন করে তোলে কিন্তু বাস্তব জীবনে আদর্শহীন জীবন মাঝিবিহীন নৌকার মত।তাই আদর্শ মানুষ হওয়ার ক্ষেত্রে আদর্শ শিক্ষকের বিকল্প নেই।শিশু বয়স থেকে মানুষ অনুকরণ করতে শেখে।মানবজীবনে সর্বস্থরে আদর্শের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য।মানুষ যখন কারো সংস্পর্শে আসে তখন শেখা ও শেখানোর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।তাই নেতৃত্ব ও সভ্যতার বিকাশে শিক্ষার গুরুত্ব সর্বাধিক।নেতৃত্বের সম্পর্কও সর্বাধিক জ্ঞানের সাথে সম্পৃক্ত।আল্লাহ মানুষকে শ্রবন, দর্শন ও বোধ শক্তির যেভাবে ভারসাম্য দিয়েছেন সেভাবে অন্যপ্রাণীকে দেওয়া হয়নি।জ্ঞানের শ্রেষ্টত্বের কারণে মানুষ খেলাফতের মর্যাদার আসনে সমাচীন।জাতীয় সংহতি ও ঐক্য সৃষ্টির প্রধান মাধ্যম হলো শিক্ষা। মূলত শিক্ষা হল অজানে জানা।কিন্তু বর্তমান বিশ্বে শিক্ষা বলতে আক্ষরিক জ্ঞান অর্জনকে বোঝানো হয়।শিক্ষা ফর্মাল ও ইনফর্মাল দুইভাবে অর্জিত হতে পারে।ব্যাপক অর্থে প্রত্যেক ব্যক্তি জন্মের পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত আনুষ্টানিক ও অনানুষ্ঠানিক এই দুইভাবে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জনের মাধ্যমে পরিবর্তন হয়।জাতীয় অস্থিত্ব,উন্নতি ও প্রগতি মূলত শিক্ষার ওপর নির্ভরশীল।শিক্ষার মাধ্যমে মানুষ শারিরীক, মানসিক ও নৈতিকতার প্রশিক্ষণ নিতে পারে।
আদর্শ শিক্ষকের কিছু দ্বায়িত্ব দেওয়া হলোঃ

১)হাজিরা খাতায় শিক্ষার্থীর নাম ওঠা।
২)ফলাফল রেজিস্টার খাতায় শিক্ষার্থীর পরিক্ষা প্রোগ্রেস রিপোর্ট তৈরী করা।
৩)শিক্ষক বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা মেনে চলা এবং ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করা।
৪)নিয়মিত প্রাত্যহিক সমাবেশে অংশগ্রহণ করা।
৫)শ্রেণিকার্যক্রম সুষ্টভাবে পরিচালনার জন্য শিক্ষার্থীদের কয়েকটি দলে ভাগ করা।
৬)সুষ্টু গণতান্ত্রিক মনোভাব সৃষ্টির জন্য গোপন ভোট গ্রহন করে ক্যাপ্টেন নির্বাচন করা।
৮)শিক্ষার্থীর সাথ বিশ্বস্ত বন্ধুর মত আচরণ করা।
৯)শিক্ষকের নিজস্ব কোন গঠনমূলক বা সৃজনশীল কোনো পরামর্শ থাকলে তা প্রধান শিক্ষকের পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করবে।
১০)কোন শিক্ষার্থী শ্রেণিতে অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলা করলে শিক্ষক তার অভিভাভক ও প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থ গ্রহণ করা।
১১)শিক্ষার্থী তার লক্ষে পৌছাতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া।
১২)শিক্ষক প্রশিক্ষনে অংশগ্রহণ করে নিজ বিদ্যালয়ে ইন হাউজ ট্রেনিং করা।
১৩)যে বিষয়ে পড়াবেন সে বিষয়ে সুষ্ট জ্ঞান থাকা।
১৪)জ্ঞানকে প্রসারিত করার জন্য অবসর সময়ে লাইব্রেরীতে বই পড়া।
১৫)সকল শিক্ষার্থীর প্রতি সমান দৃষ্টিতে দেখা।
১৬)যথাসাধ্য শিখন নিশ্চিত করা।
১৭)জড়তা ও ভীতিমুক্ত পরিবেশ দূর করা।
১৮)পাঠ যাচাইকালে শিক্ষার্থীর সাথে সহনশীল আচরণ করা,সঠিক বলতে পারলে প্রশংসা করা এবং সঠিন না হলেও সঠিক প্রায় হচ্ছে এমন মনোভাব পোষণ করা।
১৯)শিক্ষার্থীর অপরাগতায় শাস্তুি প্রদানের মনোভাব পরিহার করা।
২০)সবসময় শিক্ষার্থীর প্রতি সহানুভুতিশীল হওয়া।
২১)শিক্ষার্থীর সফল অসফল সকল বিষয়ে উৎসাহ প্রদান করা।
২২)যথাযত উপকরণ ব্যবহার ও পাঠপরিকল্পনার মাধ্যমে অংশগ্রহণমুলক ক্লাস করা।
২৩)শিক্ষার্থীর সাথে কুশল বিনিময়,পূর্ব জ্ঞান যাচাই,পাঠ ঘোষণা,শিখন ফল জানানো,দলিয় বা একক কাজ মূল্যায়নও বাড়ির কাজ সঠিকমত করে কি-না তা যাচাই।
২৪)শিক্ষক শিক্ষার্থীর সম্পর্ক বজায় রেখে শিক্ষার্থীর সুখে দুঃখে সাফল্য ব্যর্থতায় সব সময় পাশে থাকা।
২৬)ফলাফল রেজিস্টার খাতায় শিক্ষার্থীর পরিক্ষা প্রোগ্রেস রিপোর্ট তৈরী করা।
২৭)সবল,দূর্বল,অধিক দূর্বল ও নিত্য উপস্থিতি শিক্ষার্থীর তথ্য সংগ্রহ করা।
২৮)ডাইরিতে শিক্ষার্থীর নাম,পিতামাতার পেশা,মোবাইল নং,বাসার ঠিকানা সংরক্ষণ করা।
৩০)সবকিছু গুছিয়ে বিদ্যালয় ত্যাগ করা।

——————–
লেখকঃ মোঃ এনামুল হক মাহিন
শিক্ষার্থীঃ অর্থনীতি বিভাগ
বান্দরবান সরকারী কলেজ

Top