মুশফিকের প্রথম পছন্দ কিপিং।

46192587_262995297745648_7325638198791503872_n.jpg

মোঃ ছৈয়দুল বাশার ফাহিম।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে অপরাজিত ২১৯ রানের ইনিংস খেলার পরেও কিপিং গ্লাভস হাতে নেমেছেন মুশফিকুর রহিম। দীর্ঘ সময় ক্রিজে থাকার পরেও কেন কিপিং গ্লাভস হাতে মাঠে নেমেছেন মুশফিক সেটি জানিয়েছেন নিজেই।যে কারণে মুশফিকের কিপিং করাটা গুরুত্বপূর্ণ
উইকেটকিপিংটা বড্ড পছন্দ মুশফিকের। বিগত অনেক বছরই স্ট্যাম্পের পেছনে বড় ভূমিকা পালন করেছেন মুশফিক। এত দীর্ঘ ক্যারিয়ারে কিপিং নিয়ে বেশ আলোচনা-সমলোচনা হয়েছে তবুও নিজের পছন্দের কিপিং গ্লাভস ছাড়েননি মুশফিক। বরং খারাপ সময় থেকে ওভারকাম করেছেন তিনি।
উইকেটকিপিংয়ের প্রতি মুশফিকের ভালোবাসা কতটুকু সেটি জানতে বেশিদূর যাওয়ার প্রয়োজন হয়নি। পাঁজরের ব্যথা নিয়ে এশিয়া কাপে কিপিং করেছেন মুশফিক। অবশ্য স্ট্যাম্পের পেছনে বেশ চঞ্চল মুশফিক। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে দেড় দিনের মতো ক্রিজে ছিলেন মুশফিক। হাঁকিয়েছেন ডাবল সেঞ্চুরিও। মুশফিকের ব্যক্তিগত ২১৯ রান করে ইনিংস ঘোষণা করলে অনেকেই ভেবেছিলেন হয়ত বিশ্রামে থাকবেন তিনি। কিন্তু উলটো কিপিং গ্লাভস হাতে দেখা যায় মুশফিককে।
দীর্ঘ সময় মাঠে থাকার পরেও উইকেটকিপিং গ্লাভস হাতে কেন নেমেছিলেন মুশফিক সেটার উত্তর দেন নিজেই। দ্বিতীয় দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে আসেন তিনি। সেখানেই বিশ্রামে না গিয়ে কেন উইকেটকিপিং গ্লাভস হাতে তুলে নিয়েছেন মুশফিক, সেটির কারণ ব্যাখা করেন।
“কিপিং করেছি কারণ, যেন আমি আমার বোলারদের ফিডব্যাক দিতে পারি। এত সময় উইকেটে ছিলাম, আমি যত সহজে উইকেট বুঝতে পারব, অন্যরা পারবে না। এরকম একটা হয়েছিল, তাইজুল যখন একটা প্রান্ত থেকে বল করছিল, আমি বললাম অন্যদিক থেকে করতে। কারণ আমার ব্যাটিংয়ের সময় শন উইলিয়ামস যখন ওই দিক থেকে বল করছিল, বল একটু উঠছিল-নামছিল। তো বললাম, ওই প্রান্ত থেকে বাঁহাতি স্পিন কঠিন হবে। ওই প্রান্ত থেকে তাইজুলের প্রথম বলেই কিন্তু মাসাকাদজা আউট হলো। এটা নাও হতে পারত, কিন্তু এই টেস্ট আমাদের যে কোনোভাবে জিততে হবে। সেটাই ভেবেছি আর কী।”
টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে স্পেশালিষ্ট ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেছেন বেশ কয়েকবার। বিশেষ করে গত ৮ টেস্টের মধ্যে মাত্র দুই টেস্টে কিপিং করেন মুশফিক। মূলত তার উপর থেকে বাড়তি চাপ কমাতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে ভবিষ্যতে তাকে তার এই দায়িত্ব দেয়া হবে কিনা সেটা এখনো নিশ্চিত হয়। তবে চাপের মুখে খেলতেই যে বেশি পছন্দ করেন মুশফিক, সেটিও জানালেন তিনি।
“অনেক সময় কিপিং করে বা ব্যাটিং করে ওয়ার্কলোড বেশি হয়ে যায়। কিন্তু আমি এই চ্যালেঞ্জ উপভোগ করি। আমি এমন একজন মানুষ, চাই না ড্রেসিংরুমে বসে থাকতে। যতক্ষণ মাঠে থাকব, আমি যেন দলের জন্য কিছু করতে পারি, নইলে খারাপ লাগে। সামনে এই দায়িত্ব আমাকে দিলে আমার মনে হয় আমি আরও ভালো ফল দিতে পারব।

Top