“বন্দী খাঁচা” পর্ব -০২

golpo_home.jpg

জিনাত তামান্না।।

ওরা হাটছিলো এক সবুজ বাগানের পাশ দিয়ে ।পিছন থেকে সারা দৌড়ে চলে গেলো বাগানে ফুটে থাকা একটি শিশির স্নাত ফুলের দিকে।পিছন পিছন ছুটলো বাকি সবাই । সকালের মিষ্টি রোদের ঝিলিক গাছের পাতার ওপর খেলা করছিলো আর অতিথি পাখিদের কিচির মিচির শব্দে পুরো বাগানটি জুড়ে যেন কোনো এক অজানা সুরের সংগীত বাঁজছিলো ।ওদের দেখে পাখিদের কিচির মিচির শব্দটা যেন বেড়ে গেলো বহু গুণে!
বুশরা বললো ___একটি পাখি ধরে দাওনা মামা !
সারা ও খুব আবদার করলো মামাদের কাছে !
ভাগ্নিদের বায়না দেখে তারেক ,তানজীল খুব খোঁজা খোঁজি করে ,অনেক কষ্টে সেই ওপরের ডাল থেকে একটি বাচ্চা পাখি নামিয়ে নিয়ে এলো।সারা বুশরা তো আনন্দে আত্মহারা!
খুশিতে সবাই বাড়িতে চলে আসলো।ঐ দিকে সন্তান হারানোর বেদনায় মা পাখিটি ও ওদের সাথে উড়ে এসে ,উঠানের কোনে একটি পেয়ারা গাছে বসে সে কি কান্না !বাড়ির বড়রা বললো __তোমরা বাচ্চাটিকে রেখে আসো ,কিন্তু কে শোনে কার কথা ?উল্টো তারেক ,তানজীল বাজার থেকে একটি খাঁচা কিনে এনে বাচ্চাটাকে খাঁচায় বন্দি করে রেখে দিলো।
সারা ,বুশরা একটু পর পর খাবার খাওয়াচ্ছে ,পানি খাওয়াচ্ছে।আস্তে আস্তে বাচ্চাটি যেন ওদের প্রাণ হয়ে উঠেছে।
আর মা পাখিটা প্রতিদিন পেঁয়ারা গাছটার ডালে বসে করুন সুরে কাঁদতে থাকলো।ঐ দিকে তার আরেকটি বাচ্চা বাসায় ফেলে আসছে তাই একটু পর পর আবার সেই বাগানে চলে যাচ্ছে ।
সারা ,বুশরার নানা বাড়ি গ্রামে হলেও ঘরের মধ্যে সব কিছু প্রায় শহর ডিজাইনের।ভিতরে অনেক গুলো রুম আর দরজাগুলো বেশ মজবুত !তো বিকেল বেলা তিন মামা ও সারা ,বুশরা উঠানে খেলছিলো ।হঠাৎ কি কাজে যেন সারা ঘরের মধ্যে গিয়ে একটি রুমে ঢুকলো আর খেলার ছলে রুমের দরজা বন্ধ করে ফেললো ।অনেক চেষ্টা করেও সিটকানি খুলতে পারলো না।সারার সে কি চিৎকার !ওদের মা ও সামনে বৈঠক খানায় বসা ছিলেন।মেয়ের চিৎকার শুনে খুব তাড়াহুড়ো করে ঘরে ঢুকে দেখেন ,রুমের দরজা ভিতর থেকে আটকানো !মেয়েকে বললেন ,সারা !মা তুমি খুলতে চেষ্টা করো।বুশরার চিৎকারে বাড়ির সবাই একত্র য়ে গেলো।ঐ দিকে সারা কিছুতেই দরজা খুলতে পারছেনা তাই খুব কাঁদছে !দরজার এপাশে দাড়িয়ে কাঁদছে তিন মামা আর ওদের মা ।সারার নানা খুব চেষ্টায় দরজার ছিটকানি ভেঙ্গে প্রায় 15/20মিনিট পর সারাকে বের করে আনলেন।ভয়ে সেই রাতে সারার জ্বর চলে এলো ।
সকাল বেলা সবাই মিলে এক টেবিলে নাস্তা করতে বসে গত কালের ঘটনা নিয়ে কথা বলছিলো।

Top