ঢাবিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে আত্মহত্যা–রাজু আহমেদ

images-4-1.jpg

—————-
বাংলাদেশে দিনদিন আত্মহত্যার পরিমান বেড়েই চলেছে। আজ কালকের আত্মহত্যার পরিসংখ্যান বলে আত্মহত্যাকারীদের এক বড় অংশে রয়েছে, কলেজের গন্ডি পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ছেলে- মেয়েরা।
আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী ফাহমিদা রেজা সিলভী আত্মহত্যা করেছে। তার আত্মহত্যার কোনো সুনির্দিষ্ট কারন এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
কার পরিবার জুড়ে চলছে হাসিমুখে থাকা একটি চাঁদ হারানোর হাহাকার। তার সহপাঠীরাও খুবই মর্মাহত।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দিনদিন আত্মহত্যার পরিমান দিনদিন বেড়েই চলেছো। এইতো কয়েক দিন হলো ঢাবির মেধাবী শিক্ষার্থী জাকির সুইসাইড নোট লিখে আত্মহত্যা করল, তারও কিছুদিন আগে মার্কেটিং বিভাগের ২য় বর্ষের ছাত্রী সারিকা আফিয়া আত্মহত্যা করলো। এইতো কিছুদিন আগেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্র তাঁর ফেইসবুক টাইমলাইনে স্ট্যাটাস দিয়ে ছাঁদ থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। কিন্তু কেন? দেশের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠে অধ্যয়ন করা ছেলেরা কেন আত্মহত্যাকেই সকল সমস্যার সমাধান হিসেবে বেছে নিচ্ছে। এরও কিছুদিন আগে তরুন নামের এক ছেলে ছাঁদ থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করে।

স্বাভাবিকভাবেই জনমনে আত্মহত্যা নিয়ে সংঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন ওঠেছে কেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আত্মহত্যায় লিপ্ত হচ্ছে! এই প্রশ্নও তো আসতেই পারে। যেতে হবে তাদের মনের গভীরে। সেখানে কি চলছে? কেন তারা আত্মহত্যাকে বেছে নিচ্ছে? ঠিক কখন একজন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থী আত্মহত্যার কথা ভাবেন? কিভাবে তাদের কাউন্সিলিং করা যেতে পারে? পরিবারের সদস্যরা কিভাবে তাকে সাপোর্ট করবে? মানসিক অশান্তিগুলো কি কারণে তৈরী হচ্ছে? সেই কারণগুলো সমাধানের উপায় কি?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর আমাদেরই খুজে বের করতে হবে।
অনেক গবেষণা থেকে জানা গিয়েছে যে, আত্মহত্যার পিছনে শুধুমাত্র একটি কারণ থাকে না। মানুষের ব্যক্তিত্ব, পরিবার, আত্মীয়তা ও পরিবেশের উপরেও নির্ভর করে মানসিক ভারসাম্য। কারণ একাকী নিঃসঙ্গ জীবনে ভালো-মন্দ বোঝার ক্ষমতা হারিয়ে যায় ও মানুষের আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরে।

এছাড়াও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা গিয়েছে যে, পরিবারের সদস্য এবং বন্ধুবান্ধবদের থেকে দূরত্ব বাড়িয়ে চলা, কারও অপমানিত বা অকারণে নিগৃহীত হওয়া, খুব সহজেই ভোগ বিলাসের সামগ্রী হাতে পাওয়া, পরিবারে পূর্বে আত্মহত্যার ঘটনা, সমাজে নিজেকে সঠিক ভাবে মেলে ধরতে না পারা ও হীনমন্যতা ও বেকারত্ব ইত্যাদির কারণেও মানুষ হঠাৎ মানসিক বিষাদে আক্রান্ত হয়ে এই পথ বেছে নেয়।

আত্মহত্যার পরিমান কমিয়ে আনতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উচিত হবে, সমাজকর্মী ও মনোবিজ্ঞানীদের সহায়তা নেয়া। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ডিপার্টমেন্ট পেশাদার সমাজকর্মী ও মনোবিজ্ঞানী নিয়োগ দেওয়া। প্রতিটি ডিপার্টমেন্টে কাউন্সিলিং সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা। তারা শিক্ষার্থীদের এই কালো জায়গাগুলো থেকে বের হওয়ার পথ বের করার চেষ্টা করুক। শুধু সমাজকর্মী বা মনোবিজ্ঞানীরা আত্মহত্যা নিয়ে হাজারো গবেষণা করলেই হবে না। আমাদেরও এগিয়ে আসতে হবে। সামাজিকভাবে আত্মহত্যাকে “না” বলে প্রচারণা চালাতে হবে। পাশাপাশি সরকারি- বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে আসতে হবে “আত্মহত্যাকে না বলি” শিরোনামে সেমিনার,কর্মশালা ইত্যাদি নিয়ে।

সর্বোপরি, স্বার্থপরের মতো নিজেকে কিছু খারাপ সময়, কিছু বাজে অভিজ্ঞতা এবং সমাজের কিছু আগাছার কাছে নিজেকে হেরে যেতে দেওয়া ঠিক হবে না। আপনার চোখ দিয়েই হয়তো আপনার বাবা-মা স্বপ্ন দেখেন, আপনাকে ঘিরেই হয়তো আপনার চারপাশের মানুষগুলোর অনেক প্রত্যাশা। তাহলে আপনি কেন হেরে যাবেন? ঘুরে দাঁড়ান, নিজেকে ভালোবাসুন,অন্যকে ভালো রাখুন এবং আত্মহত্যার মতো মহাপাপকে “না” বলুন।

লেথক–ছাত্র,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ৤৤

Top