পাখির বন্ধু লাবু — মোহাম্মদ আবদুল্লাহ মজুমদার

7175.jpg

———————————
লাবুর পাখি খুব ভালোলাগে। কোথাও পাখি পেলে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসে আর আদর যত্নের তো শেষ নেই। পাখিদের কোন দুঃখ কষ্ট লাবু সহ্য করতে পারেনা। পাখিরা তার কাছে এসে কিচিরমিচির শব্দ করতে শুরু করে। তাতে একটুও বিরক্ত হয়না লাবু। এবার লাবু তৃতীয় শ্রেণীতে উঠেছে। ক্লাসের বন্ধুরা তাকে খুব ভালোবাসে। এমনকি ক্লাসের স্যার এবং মেমও খুব আদর করেন।
একদিন লাবু স্কুল থেকে বন্ধুদের সাথে বাড়ি আসার পথে রাস্তার পাশের একটা গাছের ডালের দিকে নজর গেল। সে দেখল একটা দোয়েল পাখি গাছের ডালে বসে কাঁপছে। লাবু তার বন্ধুদের বলল, তোরা একটু দাঁড়া, আমি আসছি। এই বলে লাবু গাছটির কাছে গিয়ে দেখলো দোয়েল পাখিটির একটা পায়ে ক্ষত চিহ্ন। দোয়েল পাখিটা লাবুকে দেখেও উড়াল দিলো না, উড়ে যাবার ততোটুকু শক্তিও যেন নেই। লাবু অসুস্থ দোয়েল পাখিটিকে সুস্থ করার জন্য নীড় থেকে তার বাড়িতে নিয়ে এলো।
বাড়িতে এসে লাবু স্কুল ড্রেস খুলে পাখিটিকে নিয়ে সেবা যত্ন শুরু করলো। মা বললেন লাবু, আব্বু ভাত খাবে না। লাবু বললো, মা এদিকে একটু আসো তো। মা তাড়াতাড়ি লাবুর কাছে এসে দেখেন তার হাতে একটা দোয়েল পাখি। মা জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি পাখিটিকে ধরেছো কেন?
লাবু বলল, পাখিটি খুব অসুস্থ। তার সেবা প্রয়োজন। আমি স্কুল থেকে আসার সময় একে অসুস্থ অবস্থায় দেখে বাড়িতে নিয়ে এলাম।
মা বললেন, খুব ভালো করেছো বাবা।
লাবু বলল, আমি এই পাখিটিকে সেবা যত্ন করে আবার তার বাসায় দিয়ে আসবো।
তারপর পাখিটিকে সাথে নিয়ে ভাত খেল। বিকাল বেলায় তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেল। ডাক্তার আঙ্কেল পাখিটিকে ভালোভাবে চিকিৎসা করে দিলেন। পায়ে একটা ব্যান্ডেজ করে দিলেন। কিছু ওষুধ ও ক্ষতস্থানে লাগানোর জন্য ক্রিম দিলেন। লাবু পাখিটিকে বাড়িতে নিয়ে ডাক্তার আঙ্কেলের পরামর্শ মত সেবা করতে লাগল। দিনের বেলা যখন লাবু স্কুলে যায় সে পাখিটিকে তার মায়ের কাছে রেখে দিত।
রাতের বেলা তাকে খাবার খাইয়ে নিজের কাছে রেখে দিত। লাবু পাখিটিকে খাঁচায় বন্দি না করে মুক্ত অবস্থায় রাখতো। কয়েকদিন এভাবে চলে গেল। অল্প কয়েক দিনে পাখিটির জন্য তার অনেক মায়া লেগে গেল। পাখিটি একবারের জন্যও উড়াল দিলো না। পরের দিন দোয়েল পাখিটা পুরো সুস্থ হয়ে গেল। এবার লাবু ভাবল দোয়েল পাখিটিকে তার বাসায় দিয়ে আসবে। লাবু সেখানে গিয়ে দেখে দোয়েলের বাসাটা বাতাসে ভেঙে গেছে। লাবু পাখিটিকে সেখানে না রেখে তার বাড়িতে নিয়ে এলো। এবার বাড়িতে আসার পর সে পাখিটির জন্য একটা সুন্দর খাঁচা বানালো। কিন্তু লাবু পাখিটিকে সারাক্ষণ নিজের কাছে রাখে। যখন সে স্কুলে যায় তখন সে পাখিটিকে খাঁচার মধ্যে রাখতো। লাবু গোসল করার সময় পাখিটিকেও গোসল করিয়ে দেয়। খাবার খাওয়ার সময়ও পাখিটিকে পাখির খাবার খাইয়ে দেয়। মাঝে মাঝে অবসর সময়ে লাবু তার প্রিয় সখের দোয়েল পাখিটির সাথে খেলা করে। দিনের পর দিন তাদের মধ্যে ভাব, ভালোবাসা ও বন্ধুত্ব বেড়েই চলছে। একদিন লাবু তার স্কুল থেকে বাড়িতে দেরি করে এসেছিল।
পাখিটি সারাদিন মুখে কিছু দেয়নি। খাঁচার মধ্যে সারাক্ষণ ছটফট করতে লাগল। লাবু যখন বাড়িতে এলো দোয়েল পাখিটি খুশিতে ডাকাডাকি করতে লাগল। যেন পাখিটি বলতে চায় তাড়াতাড়ি আমাকে খাঁচাটার দরজা খুলে দাও। লাবু স্কুল ব্যাগটা রুমে রেখেই সরাসরি পাখিটির কাছে চলে এলো। পাখির প্রতি তার মমতা আরো বাড়তে লাগল। পাখিটার ভেতর লাবুর জন্যও অনেক মায়া, বন্ধুত্ব তৈরি হলো। একদিন লাবু তার মামার বাড়িতে বেড়াতে গেল। সাথে তার পাখিটিকে নিয়ে গেল। লাবুর মামা-মামী পাখিটির আচর-আচরণ দেখে তো হতবাক হয়ে গেল। লাবুকে জিজ্ঞেস করাতে সে বলল, শুধু পাখি নয় যে কোনো সৃষ্টির সাথে ভালো ব্যবহার করলে সে আপনার বন্ধু হয়ে যাবে। পাখি তো ক্ষুদ্র প্রাণী মাত্র। এর থেকে অনেক বড় প্রাণীদের সাথে আমার বন্ধুত্ব আছে। লাবুর কথা শুনে মামা-মামী খুব খুশি হলো। লাবু পরের দিন তার পাখিটিকে নিয়ে বাড়িতে চলে এলো। তাদের বন্ধুত্ব আগের মতো অটল থাকলো।

Top