দেশের পরিবহন খাত কোন দিকে এগোচ্ছে?

IMG_20181110_170430.jpg

সিনজাত রহমান সানি ঃ

কার্যকর সড়ক নিরাপত্তার দাবিতে ২৯ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট ২০১৮ পর্যন্ত সংঘটিত হয় একটি গণবিক্ষোভ।

ঢাকায় ২৯ জুলাই সংঘটিত এক সড়ক দুর্ঘটনার প্রেক্ষিতে নিহত দুই কলেজ শিক্ষার্থীর সহপাঠিদের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ পরবর্তীতে দেশের অন্যান্য স্থানেও ছড়িয়ে পড়ে এবং নৌমন্ত্রীর পদত্যাগসহ ৯ দফা দাবিতে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে পড়ে।পরবর্তীতে ৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তৃতীয় মন্ত্রীসভায় একটি খসড়া ট্রাফিক আইন অনুমোদন করে যেটাতে ইচ্ছাকৃতভাবে গাড়ি চালিয়ে মানুষ হত্যায় মৃত্যদণ্ড এবং বেপরোয়াভাবে চালিয়ে কারো মৃত্যু ঘটালে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়;যদিও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বেপরোয়া চালিয়ে হত্যাতেও মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছিল। তবে প্রথম থেকেই এই অাইনের বিরোধিতা করে অাসছিল বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন। তারই পরিপেক্ষিতে প্রথমে স্মারকলিপি দেওয়া হয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট, এতে কাজ না হলে তারা ডাক দেয় ধর্মঘটের।ধর্মঘটের ফলে একটি দেশ স্থবির হয়ে পড়ে,অাসে জনজীবনে ভোগান্তি।দেশের অর্থনীতিতে যার বিরাট প্রভাব পড়ে।

২৮- ২৯ অক্টোবরের ধর্মঘটে শ্রমিক ফেডারেশনের দফা গুলো ছিল:

১. সড়ক দুর্ঘটনায় মামলা জামিনযোগ্য করতে হবে;

২. শ্রমিকদের অর্থদণ্ড ৫ লাখ টাকা করা যাবে না;

৩. সড়ক দুর্ঘটনা তদন্ত কমিটিতে শ্রমিক প্রতিনিধি রাখতে হবে;

৪. ড্রাইভিং লাইসেন্সে শিক্ষাগত যোগ্যতা পঞ্চম শ্রেণি করতে হবে;

৫. ওয়েটস্কেলে (ট্রাক ওজন স্কেল) জরিমানা কমানোসহ শাস্তি বাতিল করতে হবে;

৬. সড়কে পুলিশের হয়রানি বন্ধ করতে হবে;

৭. গাড়ির রেজিস্ট্রেশনের সময় শ্রমিকদের নিয়োগপত্র সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সত্যায়িত স্বাক্ষর থাকার ব্যবস্থা করতে হবে;

৮. সব জেলায় শ্রমিকদের ব্যাপক হারে প্রশিক্ষণ দিয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু করতে হবে এবং লাইসেন্স ইস্যুর ক্ষেত্রে দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধ করতে হবে।

পরিবহন শ্রমিকদের অাট দফা দাবির মধ্যে দেখা যায় ১,২,৩,৪ ও ৫ নম্বর দফা গুলো যাত্রী সাধারণের নিরাপত্তার পরিপন্থী। যার জন্য কোন ভাবেই সমঝোতার পতাকা হলে অাসা যায় না। সংসদে পাশ কৃত অাইন গুলো জনণের স্বাভাবিক জীবনযাপন ও নিরাপত্তার জন্য অত্যাবশ্যক।পাশাপাশি অাইনের কারণে বন্ধ হবে সড়ক দুর্ঘটনাটর পরিমাণ।গত ৪৮ ঘন্টা টানা ধর্মঘটের ফলে রাজধানী সহ সারাদেশ স্থবির হয়ে পড়ে।ধর্মঘটের নামে তারা মানবিকতাকে বিসর্জন দিয়েছে,চলতে দেয় নেই মৃত্যুর সাথে লড়াই করা বিপন্ন জীবনগুলোকে।অাগামী দিনে দাবি অাদায়ে দিয়েছে কঠোর কর্মসূচি,এমতাবস্থায় সরকারের কী কোন করণীয় নেই? সরকার একটি দেশের মূল স্তম্ভ,জনগণের সেবাই যার মূল দায়িত্ব ও কর্তব্য। সরকার কে এই সমস্যার সুরাহা করতে হবে, তবে তা হতে হবে জনগণের কল্যণের স্বার্থেই।

শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

Top