লামায় নদীর মাঝে নৌকায় চলছে রমরমা জুয়ার আসর

received_1396391557161827.jpeg

আরিফুল ইসলাম, লামা উপজেলা প্রতিনিধি:
লামায় অভিনব কায়দায় প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে চলছে রমরমা জুয়ার আসর। নদীর মাঝখানে ইঞ্জিন চালিত নৌকা বেঁধে সংঘবদ্ধ কয়েকটি গ্রুপ প্রতিনিয়ত জুয়া খেলে যাচ্ছে। লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের ইয়াংছামুখস্থ মাতামুহুরী নদীতে দীর্ঘদিন যাবৎ এই জুয়ার আসর চলে আসছে বলে জানায় নদীর দুই পাড়ের অসংখ্য মানুষ। তবে জুয়াড়িদের ভয়ে তাদের নাম কেউ বলতে চায়নি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ইয়াংছামুখস্থ মাতামুহুরী নদীতে দুই-তিনটি ইঞ্জিন চালিত নৌকা নোঙ্গর ফেলে দাঁড়িয়ে আছে। প্রত্যেকটি নৌকার ভিতরে ৭/৮ জন মানুষ জুয়া খেলছে। তাদের সাথে কথা বলতে ডাকলে তারা তীরে না এসে নৌকা চালিয়ে পালিয়ে যায়।

নদীর ওপারের মানিকপুর পুরাতন বাজারের বাসিন্দা জুয়া খেলার নৌকার মাঝি মো. হেলালকে চিনে তীরে আসতে বললে সে ইঞ্জিন চালিত নৌকা নিয়ে দ্রুত স্থান থেকে সরে পরে।

ইয়াংছামুখ এলাকার বাসিন্দা মোজাফ্ফর আহাম্মদ (৫৫), পাইলা পাড়ার বাসিন্দা মো. সেলিম (৩৮), ইয়াংছা মুখ নৌকা ঘাটের মাঝি আব্দুল কাদের (৩৪) বলেন, প্রতিদিন সকাল ১০ হতে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত লামা, আলীকদম ও চকরিয়া উপজেলা হতে অনেক মানুষ এসে এখানে নৌকা ভাড়া করে নদীর মাঝখানে দাঁড় করিয়ে জুয়া খেলে। তারা অনেক প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়না।

নাম প্রকাশ না করা সত্ত্বে কয়েকজন বলেন, এই জুয়াড়ি চক্রটি ইয়াবা পাচার সহ মোটর সাইকেল চুরি ও রাতে গাছ পাচারের সাথে জড়িত। দিনে জুয়া খেলে আর রাতে এইসব অবৈধ কাজে লিপ্ত থাকে। এইসব জুয়াড়িরা ইয়াংছা বাজার হতে ইয়াংছামুখ রোড়ে যাতায়াত করে। যে কোন সময় এখানে আসলে নদীর মাঝখানে দুই/তিনটি নৌকা অবস্থা করতে দেখা যাবে। এই জুয়ার আসর বন্ধ করতে হলে চকরিয়া থানা পুলিশেরও সহায়তার প্রয়োজন আছে বলে জানায় তারা।
স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার মো. শহিদুজ্জামান বলেন, আমি যতটুকু জানি লামার, আলীকদম ও চকরিয়া উপজেলার বেশকিছু ব্যবসায়ীরা এখানে নদীর মাঝখানে নৌকা রেখে জুয়া খেলে।

এই বিষয়ে লামা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ অপ্পেলা রাজু নাহা বলেন, এই খবরটি আমার জানা নেই। দ্রুত খবর নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। নেশা ও জুয়ার ব্যাপারে কোন ছাড় দেয়া হবেনা।

চকরিয়া থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, নৌকায় জুয়া খেলা ! বিষয়টি জানা ছিলনা। যেহেতু সীমানাবর্তী এলাকা তাই লামা থানার সহায়তা নিয়ে জুয়া খেলা বন্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Top