মাদক ও রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে মতবিনিময়ে টেকনাফকে ইয়াবামুক্ত রাখার অঙ্গীকার

IMG_20181021_184248.jpg

ফরহাদ আমিন::
ইয়াবার উৎস্যভুমি হিসাবে টেকনাফের বদনাম সারাদেশে। আইনশৃংখলা বাহিনীর নানান চেষ্টার পরও টেকনাফকে ইয়াবামুক্ত করতে পারছে না। এক্ষেত্রে গণমাধ্যমকর্মীসহ সমাজের সকল শ্রেণিপেশার লোকজনকে এগিয়ে আসতে হবে। কারা ইয়াবা ব্যবসা করে, কারা সহযোগিতা দেয়- তা স্থানীয় লোকজনেরই জানা থাকে।রোববার (২১ অক্টোবর) দুপুরে টেকনাফের বনবিশ্রামাগারের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্টিত ‘ মাদক ও রোহিঙ্গা সংকট নিরসন’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তারা টেকনাফকে ইয়াবামুক্ত করতে ভুমিকা রাখার অঙ্গীকার করেন।
টেকনাফ পৌর প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক ইউনিটির যৌথ আয়োজনে মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্বে করেন, পৌর প্রেসক্লাবের সভাপতি ও পৌর প্যানেল মেয়র আব্দুল্লাহ মনির। প্রধান ও বিশেষ অতিথি ছিলেন, টেকনাফ ২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক মেজর শরীফুল ইসলাম জোমাদ্দার, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রণয় চাকমা, প্রথম আলো কক্সবাজার আঞ্চলিক অফিস প্রধান আব্দুল কুদ্দুস রানা, টেকনাফ মডেল থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ।বক্তব্য দেন, টেকনাফ সাংবাদিক ইউনিটির সভাপতি সাইফুল ইসলাম সাইফী, পৌর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবদুস সালাম, সাংবাদিক ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক নুরুল হোসাইন।
উপস্থিত ছিলেন, পুলিশ পরিদর্শক (ডিএসবি) মিজানুর রহমান, পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) শরীফ ইবনে আমিন, উপ-পরিদর্শক (এসআই) আতিকুর রহমান, সাংবাদিক ইউনিটির উপদেষ্টা মমতাজুল ইসলাম মনু, মুহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান, পৌর প্রেসক্লাবের সহসভাপতি গিয়াস উদ্দিন, নুরুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুর রহমান, যুগ্ন সম্পাদক নুর হাকিম আনোয়ার, প্রচার সম্পাদক মো. রশিদ, দপ্তর সম্পাদক মো. শাহীন, অর্থ সম্পাদক ফরহাদ আমিন, জাকারিয়া আলফাজ, সাংবাদিক ইউনিটির সহ-সভাপতি ছৈয়দুল আমিন চৌধুরী ও হেলাল উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহফুজুর রহমান, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম মাহমুদ, অর্থ সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিম, সাইফুদ্দীন মামুন, সদস্য আমান উল্লাহ আমান, জাহাঙ্গীর আলম, মোহাম্মদ আমিন, নুরুল আলম, জাফর আলম, রহিম উল্লাহ, শহিদুল ইসলাম শহিদ ও টেকনাফ একমাত্র সংবাদ পত্রের এজেন্ট আব্দুল গণি প্রমূখ।

সভায় বক্তারা বলেন, মাদক ও রোহিঙ্গা এটি এখন জাতীয় সমস্যায় পরিণত হয়েছে। এ দুটি উৎস টেকনাফ থেকে শুরু। রোহিঙ্গাদের সঙ্গে মাদকের সম্পৃক্ততা রয়েছে। এ দূর্নাম মুছতে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে। এই কাজে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে পারবে কলম সৈনিক সাংবাদিকেরা। তাদের লিখনিতে ইয়াবা ব্যবসায়ী বাঁচতে পারবে না। টেকনাফ মডেল থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় রেখে সাংবাদিকদের কাজ করতে হবে। পাশাপাশি সাংবাদিকদের দায়িত¦ ও কর্তব্য পালনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতার থাকবে। তিনি সাংবাদিকদের ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঠিক তথ্য তুলে ধরার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, যেকোনো মুল্যে টেকনাফকে ইয়াবামুক্ত করা হবে। টেকনাফে কোনো ইয়াবা কারবারী থাকতে দেয়া হবে না। ইয়াবার সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। শীঘ্রই ইয়াবা ব্যবসায়ীদের শিকড় তুলে নেওয়া হবে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি) প্রণয় চাকমা বলেন, তিনি এ উপজেলায় যোগদানের পর থেকে মাদক-রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে যাচ্ছেন। এছাড়া তার নেতৃত্বে মাদক ইয়াবাকারবরিদের ঘরে ঘরে অভিযান চালানো হচেছ। টেকনাফকে ইয়াবার দূর্নাম থেকে রক্ষায় সাংবাদিকদের সত্য তথ্য দিয়ে ভুমিকা পালন করতে হবে।
২ বিজিবির মেজর শরীফুল ইসলাম জোমাদ্দার বলেন, মাদক পাচার রোধে বিজিবি সীমান্তে রাত-দিন পাহারা দিয়ে যাচ্ছে, পাশাপাশি রোহিঙ্গা ও মাদক রোধে সাংবাদিকরা আগে থেকে সহযোগিতা করে আসছে। টেকনাফকে মাদক মুক্ত রাখার জন্য সকল শ্রেণী-পেশার মানুষকে এগিয়ে আসার আহবান জানান এবং তার দেখা মতে সাংবাদিকদের এ ধরনের উদ্দ্যেগ এই প্রথম। তাই আয়োজন কারিদের প্রশংসা করেছেন তিনি।
এদিকে সুন্দরবন ও মহেষখালীর ডাকাতদের মতো ইয়াবা ব্যবসায়ীদেরও আত্মসর্ম্পনের মাধ্যমে মুক্ত জীবনের ফিরে আনার দাবি জানান সাংবাদিক নেতারা।
সভার শুরুতে কোরআন পাঠ করেন সাংবাদিক আবুল আলী।

Top