নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ না হলে দুর্নীতি যেমন বাড়বে তেমনি মেধাবীরা হারাবে তাদের মেধার মূল্যায়ন

IMG_20181020_153347.jpg

সিনজাত রহমান সানিঃ

টাকা ছাড়া চাকরি পাওয়া যেন অমাবস্যার চাঁদ হাতে পাওয়া।টাকা দিলে নিয়োগ হয় সে ধরনেই চাকরি হোক। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী থেকে শুরু করে আধা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পিওন পদেও চাকরির জন্যও ঘুষ দিতে হয়।ঘুষ যেন এখন সবার কাছে হয়ে গেছে একটি সাধারণ ও প্রচলিত ব্যাপার । চাকরি ভেদে গুনতে হয় ১০ লাখ থেকে ৫০ লাখ টাকা। যার কারণে প্রকৃত মেধাবীদের মূল্যায়ন হচ্ছে না।এক ঝাঁক তরুন মেধাবীরা চাকরি না পেয়ে হতাশায় দিন যাপন করছে।প্রভাবশলীদের বিশেষ তদবিরে নিয়োগ দান কারী প্রতিষ্ঠান গুলো হাপিয়ে উঠছে।
সরকারি দফতরে,অধিদফতরে এখন সর্বত্রই ঘুষের রাজত্ব। ঘুঘ দিয়ে চাকরি পাওয়া মানুষ গুলো তাদের ঘুষের টাকা উঠানোর জন্য ক্রমেই হয়ে উঠে একজন ঘুষখোর হিসাবে।এমনকি অাবার ঘুষ দিতে হয় হয় অর্থ অাদায়ের লক্ষ্যে ভালো কোন জায়গায় পোস্টিং এর জন্য।এভাবেই চলতে থাকে ঘুষের মহরত এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে।চাকরির অাগ মুহূর্তে হওয়া পুলিশ ভেরিফিকেশনে ঘুষের টাকা দিয়ে নির্ণয় হয় তার চারিত্রিক দিক। যা রাষ্ট্রের জন্য বিপদজনক। দেশের অাইন-শৃঙ্খলা বাহিনীতে এভাবে অযোগ্য প্রার্থী ঢুকে পড়লে দেশের প্রশাসন ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়বে।

বাংলাদেশে ২০১৭ সালে দুর্নীতি তুলনামুলক কমেছে। বৈশ্বিক দুর্নীতি ধারণা সূচকে এবছর বাংলাদেশের অবস্থান ১৪৩ তম। বাংলাদেশ ১০০ এর মধ্যে এবছর স্কোর করেছে ২৮। ২০১৬ বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৪৫ তম, স্কোর ছিল ২৬। তবু বলা যায় পরিস্থিতি উদ্বেগজনক।

বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে শিক্ষার্থীরা অাসে জ্ঞান লাভ করার জন্য কিন্তু সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ হয় সুপারিশ,তদবিরে নয়তে বা টাকার জোরে। তাহলে তারা শিখবে কার কাছ থেকে? একজন নীতিহীন মানুষের কাছে? এভাবেই প্রতিটি জায়গায় ছড়িয়ে রয়েছে দুর্নীতি অার অনিয়মের কালো ছোবল। যার জন্য দায়ী খোদ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করা না গেলে অনিয়ম দুর্নীতে যেমন বাড়বে অন্যদিকে মেধাবীরা হারাবে তাদের মেধার মূল্যায়ন। নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করার জন্য সরকারের যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশেষ বোর্ড গঠনের মাধ্যমে সরকারি, বেসকারি চাকরিতে নিয়োগ দিতে হবে।নিয়াগ দান কারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের স্বজনপ্রীতি ও অর্থের দিক বিবেচনা থেকে সরে অাসতে হবে। কার্যকর দুদক এবং গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। অনিয়ম ও দুর্নীতি ও বিশৃঙ্খলায় জড়িত সহায়তাকারী ও দায়ীদের উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বিচারের আওতায় অানতে হবে। সব ধরনের চাকরিতে যোগ্যতার মাপকাঠিতে নিয়োগ দিতে হবে এতে করে গড়ে উঠবে বৈষম্যহীন সমাজ।

শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ইমেইল: sinjatrahman@gmail.com

Top