সীমান্ত নদী ইছাম‌তিতে ক‌ঠোর নিরাপত্তায় আজ প্র‌তিমা বিসর্জন

20181019_123943.jpg

সাতক্ষীরা কালিগঞ্জ থেকে মোঃ রেজাউল করিম সবুজ:
উৎসবমূখর পরিবেশে কালিগঞ্জ ও দেবহাটার সর্বত্র উদযাপিত হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহ উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। ১৪ অক্টোবর মহাষষ্টীর মধ্য দিয়ে শুরু হয় দুর্গাপূজার মুল উৎসব। আজ (শুক্রবার) শুভ বিজয়া দশমী। দেবী দূর্গা মর্তালোকের পিতৃগৃহ থেকে ফিরে যাবেন কৈলাশে স্বামীগৃহে। সন্তানদের নিয়ে দেবী দুর্গা এসেছিলেন ঘোটকে অর্থাৎ ঘোড়া’য়। আর ফিরছেন দোলায়। কালিগঞ্জের মৌতলার পরমানন্দকাটিতে দুর্গা পূজায় তৈরী করা হয় ১২১ টি প্রতিমাসহ মনোরম প্যান্ডেল। দুরদুরান্ত থেকে দেবী ভক্তরা ভীড় করেন সেখানে। এছাড়াও দক্ষিণ শ্রীপুরের গোবিন্দকাটি হাইস্কুল মাঠে প্রতিবারের ন্যায় এবারও দুর্গা প্রতিমা ও প্যান্ডেল দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকর্ষণ সৃষ্টি করে। নলতা কালীবাড়ি, চাম্পাফুল কালীবাড়ি বাজার, সাইহাটি, পারুলগাছা, ভদ্রখালী, লক্ষ্মীনাথপুর, মহৎপুর শাখারীপাড়া, রায়ের হাটখোলা, রঘুরামপুর, রতনপুর, কাটুনিয়া, কৃষ্ণনগর বাজার পূজা মন্ডপে মহাষ্টমী ও মহানবমীতে দিনব্যাপী ছিল উপচে পড়া ভিড়। প্রায় প্রতিটি মন্ডপে ছিল বর্ণিল আলোক সজ্জা। শান্তিপূর্ণ পূজা অর্চনার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ কালিগঞ্জ উপজেলা শাখার সদস্যসচিব অসিত সেন।
এবছর কালিগঞ্জের ১২ ইউনিয়নে ৪৯ মন্ডপে এবং দেবহাটার ৫ ইউনিয়নে ২১ মন্ডপে আড়ম্বরপূর্ণ পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপিত হয়েছে। সাতক্ষীরা-৩ আসনের এমপি সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আ ফ ম রুহুল হক, একাদশ সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রফেসর ড. আবু ইউসুফ আব্দুল্যাহ আশাশুনি, কালিগঞ্জ ও দেবহাটার বিভিন্ন পূজামন্ডপ পরিদর্শন করেন। এছাড়া সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি এসএম জগলুল হায়দার, মনোনয়ন প্রত্যাশী শ্যামনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম আতাউল হক দোলন, জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক মনোনয়ন প্রত্যাশী শফিউল আযম লেলিন, কালিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি যুদ্ধকালীন কমান্ডার মনোনয়ন প্রত্যাশী আলহাজ্জ্ব শেখ ওয়াহেদুজ্জামান, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মৌতলা ইউপি চেয়ারম্যান মনোনয়ন প্রত্যাশী সাঈদ মেহেদীসহ আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ কালিগঞ্জ এবং শ্যামনগরের বিভিন্ন পূজামন্ডপ পরিদর্শন ও মতবিনিময় করেন।
এদিকে বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জন উপলক্ষে কালিগঞ্জের বসন্তপুরে সীমান্ত নদী ইছামতিতে বসছে মিলন মেলা। ভারত ও বাংলাদেশের প্রতিমা বহনকারী নৌকা ভাসবে ইছামতির বুকে। থাকছে নিñিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ১৭ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) বসন্তপুর ক্যাম্পের ইনচার্জ নায়েক সুবেদার ইব্রাহিম হোসেন জানান, দুপুরের পরপরই প্রতিমা বিসর্জনের জন্য পূজামন্ডপ থেকে প্রতিমা নিয়ে নদীতে আসতে পারবেন সংশ্লিষ্টরা। নিজ নিজ সীমানায় থেকে প্রতিমা বহনকারী নৌকাগুলো বিচরণ করতে পারবে। মাঝ নদীতে সতর্ক অবস্থানে থাকবে তার নেতৃত্বে বিজিবি সদস্য ও হিঙ্গলগঞ্জ ক্যাম্পের ইন্সপেক্টর আরএম মিশ্র’র নেতৃত্বে বিএসএফ সদস্যরা। এর আগে বিজয়া দশমী শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে উদযাপনের লক্ষ্যে ভারতের হিঙ্গলগঞ্জ বিএসএফ ক্যাম্পে শনিবার (১৩ অক্টোবর) বেলা ১১ টায় এক পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ১৭ বিজিবি’র বসন্তপুর ক্যাম্পের ইনচার্জ আসলাম হোসেন, কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরদার মোস্তফা শাহিন, থানার অফিসার ইনচার্জ হাসান হাফিজুর রহমান, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রাজিব হোসেন, মথুরেশপুর ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান গাইন ও ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান অংশগ্রহণ করেন। আর ভারতের বিএসএফ’র হিঙ্গলগঞ্জ ক্যাম্পের ইনচার্জ বিকে সিং এর নেতৃত্বে পতাকা বৈঠকে হিঙ্গলগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান অর্চনা মৃধা, পুলিশ কর্মকর্তা আশিষ মারিয়া, গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য শহিদুল গাজী ও শিক্ষক সুজিত কুমার মন্ডল অংশগ্রহণ করেন।
এছাড়া দেবহাটার টাউনশ্রীপুর সীমান্তে ইছামতিতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রেখে মিলনমেলা আয়োজনের লক্ষ্যে ভারতের টাকী বিএসএফ ক্যাম্পে ১৪ অক্টোবর রোববার বাংলাদেশ সময় সকাল ১০ টায় বিজিবি-বিএসএফ’র মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পতাকা বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে ছিলেন দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ সৈয়দ মান্নান আলী, টাউনশ্রীপুর বিজিবি ক্যাম্প কমান্ডার সুবেদার আমিনুল ইসলামসহ ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দল। ভারতের পক্ষে ছিলেন এসডিপিও মহাকুমা অফিসার আশিষ মর্জি, হাসনাবাদ থানার ওসি সাহেব রাও, টাকী বিএসএফ ক্যাম্পের সিও প্রেম সিংহ, এসআই দেবদুলাল মন্ডল, টাকী পৌরসভার মেয়র সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়, বিএসএফের পোস্ট কমান্ডার হুসিয়ার সিংহ প্রমুখ। এসময় উভয় দেশের প্রতিনিধিবৃন্দ বিজয়া দশমীতে বিকেল ৩ টা থেকে ৫ টা পর্যন্ত নদীতে অবস্থানপূর্বক প্রতিমা বিসর্জনের বিষয়ে ঐক্যমত পোষণ করেন। প্রতিটি নৌযানে নিজ দেশের পতাকা টানিয়ে সীমারেখার মধ্যে অবস্থান করতে হবে। এজন্য বিজিবি ও বিসিএফ কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

Top