ফ্লাইওভারের নিম্নাংশ হোক পরিচ্ছন্ন –ইকবাল আজাদ

44208373_356835124891297_1602515142099075072_n.png

—————————-
যানজট, জনদুর্ভোগ থেকে মুক্তি লাভের জন্য শহরে বন্দরে বিভিন্ন স্থানে বেড়ে উঠেছে নানান দৈর্ঘ্যের ফ্লাইওভার। উঁচু উঁচু স্তম্ভে দণ্ডায়মান বিশাল আকৃতির কৃত্রিম পথগুলোর মাধ্যমে যানজট কিছুটা হ্রাস পেলেও ফ্লাইওভারের নিম্নাংশের যথার্থ ব্যবহার হচ্ছে কি? অধিকাংশ ফ্লাইওভারের পিলারের সন্নিধান জুড়ে রয়েছে ময়লা আবর্জনার স্তুপ। দুর্গন্ধে পিলারের পাশ ঘেঁষে যাত্রীদের পথ চলা যেন এক প্রকার দুর্গতি। ফ্লাইওভারের নিম্নাংশ ঘিরে অহরহ পথ শিশুদের আস্তানা গড়ে উঠেছে। অধিকাংশ পথশিশু এখানে খোলামেলা মাদক দ্রব্য সেবন করে। এমন কি নেশায় বিভোর হয়ে উশৃঙ্খল ভাবে ফ্লাইওভারের নিম্নাংশে শুয়ে থাকে। যা মানুষের চক্ষু যাতনা সৃষ্টি করে। হকার, টোকাই, বিকৃত মস্তিষ্কের মানুষ, পথশিশু এবং রাস্তায় বসবাস করা মানুষের মলমূত্র ত্যাগ করার স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে এই অব্যবহৃত খালি অংশটুকু। ফলে স্থানগুলো ক্রমন্বয়ে নোংরা পরিবেশে পরিণত হচ্ছে।

ফ্লাইওভারের নিচের রাস্তাবিহীন খালি জায়গাটুকুতে যদি আলাদা মাটি ফেলে নিছিদ্র বেষ্টনী দিয়ে ফুল গাছের চারা লাগানো যেত তবে সৌন্দর্য বর্ধনের পাশাপাশি সবুজায়নের চর্চা হতো। স্থান সংকুলানের অভাবে মানুষ পর্যাপ্ত পরিমান ব্যায়াম করার সুযোগ পাচ্ছে না। এইখানের ছোট্ট জায়গাগুলোতে মানুষকে অঙ্গচালনা সুযোগ দেওয়া যেতো। তাহলে আপাতত নেশাখোরদের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ থেকে মুক্তি পাওয়া যেতো। কিংবা খালি জায়গাটুকুতে উপাসনালয়ের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। তবে নির্বিঘ্নে ধর্মভীরু পথচারী মানুষগুলো এখানে সৃষ্টিকর্তার প্রার্থনায় মশগুল হতে পারতো। এসব কিছু সম্ভব না হলে ফ্লাইওভারের নিচের খালি জায়গাটুকু ময়লা আবর্জনামুক্ত, মাদক সেবনের স্থান হিসেবে ব্যবহার করা থেকে বিরত রাখতে হবে। ফ্লাইওভারের অব্যবহৃত নিম্নাংশগুলো পূর্ণ ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবেশের সৌন্দর্যবর্ধন, জনসাধারণের উপকৃত পন্থা অবলম্বনের জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
অব্যবহৃত স্থানগুলোর হোক পূর্ণ ব্যবহার, পরিবেশ হোক সুন্দর এবং স্বাস্থ্যকর।

মুহা. ইকবাল আজাদ
শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

Top