“তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচান”–ইকবাল আজাদ

44243085_256679364923253_2389323983603367936_n.jpg

————————–
সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় সমাজ ধ্বংসের অন্যতম কারণ। একটি সমাজকে তিলে তিলে নষ্ট করার পেছনে এর অবদান ব্যাপক। জুয়া খেলা সামাজিক মূল্যবোধ অবক্ষয়েরই একটি ফল। অনিশ্চিত ভবিষ্যতের সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে দুই পক্ষের অর্থের বিনিময়ে বাজি ধরাই হচ্ছে জুয়া খেলা। ছোটবেলায় তাস, লুডু আর ক্যারাম খেলার মাঝে জুয়া সীমাবদ্ধ দেখলেও বর্তমানে জুয়া ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র। ক্রিকেট, ফুটবল থেকে শুরু করে বাচ্চাদের লাটিম খেলা, ঘুড়ি উড়ানোর মাঝেও জুয়ার ছোঁয়া মিশে গেছে সাম্প্রতিক সময়ে। চায়ের দোকানে বসে ক্রিকেট খেলার প্রতি বলে বাজি ধরা আজকাল শহর কিংবা গ্রামের স্বাভাবিক দৃশ্য। বিভিন্ন ক্লাবের টিভি রুমেও অহরহ চলছে মোটা অংকের জুয়া। ক্রিকেটীয় টি-টোয়েন্টি লীগগুলোকে কেন্দ্র করে প্রচুর জুয়ার আসর বেড়েছে। বাজির টাকায় হেরে হতাশায় দিন শেষে বাসায় গিয়ে ধ্বংসলীলা চালানো কিংবা নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত। জুয়ার টাকা পরিশোধ করতে না পারায় অনেকে জড়িয়ে যাচ্ছেন চুরি-ছিনতাইয়ের মতো অনৈতিক কার্যাকলাপে। শুধু তাই নয়, বাবা-ছেলের একই আসরে বসে জুয়া খেলার নির্মম ঘটনা বর্তমান সমাজে স্বাভাবিকতায় রূপ নিয়েছে। তরুণ সমাজ জুয়ার ছোঁয়ায় বেড়ে উঠছে। শিশু-কিশোর কথায় কথায় বাজি তথা জুয়ার প্রসঙ্গ টানছে। মার্বেল খেলা, ঘুড়ি কাটাকাটি ইত্যাদি বাজির আদলে খেলা শিশু কিশোরদের স্বভাবজাতে রূপ নিয়েছে। কখনো কখনো জুয়ার অর্থ ব্যবস্থা করতে গিয়ে শিশু কিশোররাও নিজের বাসা থেকে অর্থ সরিয়ে নিতে দ্বিধাবোধ করছে না। তরুণ প্রজন্ম এভাবে অন্যায়ের অভিমুখে যাত্রা করলে সমাজ অচিরেই ধ্বংসের মুখে পতিত হবে। সুতরাং আমাদের তরুণ প্রজন্মকে যথাসম্ভব এসব অন্যায় কার্যকলাপ থেকে বিরত রাখতে হবে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের সামনে জুয়া খেলা বা বাজি ধরার কুফলতা তুলে ধরতে হবে। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে জুয়া খেলার পরিণাম প্রদর্শন করতে হবে। অভিভাবককে তার সন্তানদের কর্মকাণ্ডের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে এবং নিজেকেও জুয়া নামক ঘৃণিত শব্দ থেকে বিরত রাখতে হবে। তবে সমাজ উন্নতির সোপান ধরে সামনের পথে অগ্রসর হবে।


মুহা. ইকবাল আজাদ

শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

Top