অতিরিক্ত শাসনে বিগড়ে যেতে পারে শিশুমন

images-4-1.jpg

——————————-
দুরন্ত বাচ্চাকে কথা শোনাতে, বাধ্য আচরণ করাতে কিংবা নিয়মের মধ্যে রাখতে সবসময় শাসন করেন। কখনো কি ভেবে দেখেছেন এই অতিরিক্ত শাসন আপনার সন্তানের জন্য সুফল না কুফল বয়ে আনছে?
শাসনের বেড়াজালে আবদ্ধ করে রাখলেই সন্তান আদর্শ মানুষ হয়ে বেড়ে ওঠে না। বরং আপনার রুক্ষ রূপ ও আচরণ তার সাথে আপনার দূরত্ব আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। সে মানসিকভাবে ক্ষতির শিকার হচ্ছে এবং পাশাপাশি তার মননশীলতার বিকাশ ও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

এক্ষেত্রে ভেবে দেখেছেন কি আপনার অজান্তেই আপনি তার কতটা ক্ষতি করে চলেছেন। আপনার সন্তানের অন্যায় আচরণের জন্য তাকে আপনি সীমিত শাসন করতেই পারেন। তবে তা যেন কখনোই মাত্রা ছাড়িয়ে না যায়। সবসময় শাসনের ভাষা দিয়ে সব ঠিক করা যায় না।বরং ভালবাসা আর মমতা দিয়েও বখে যাওয়া সন্তানকে পথে আনা যায়।

অতিশাসন বাচ্চাদের সাবলীল বিকাশের পথ রুদ্ধ করে দেয়। তার সৃজনশীলতা বিকশিত হওয়ার ক্ষেত্রে বাঁধা সৃষ্টি করে থাকে। সে হীনমন্যতায় ভোগে এবং যেকোন বিষয়েই সিদ্ধান্ত নিতে ভয় পায়। অনেক সময় অনেক শিশু হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়ে। অনেক সময় অতিরিক্ত শাসনের ভয় বাচ্চাকে ভীতু বানিয়ে দিচ্ছে। সে সময় সারাক্ষণ ভয়ে ভয়ে কাটানোর ফলে ভীরুতা নিয়ে বেড়ে উঠছে। এছাড়া আপনার প্রতি তার বিরুপ ধারণা জন্ম নিচ্ছে। অনেক সময় অতি শাসনে শিশু বখে যায়। অবাধ্য আচরণ বেড়ে যায়। জেদ করে একরোখা হয়ে গড়ে ওঠে। সে কথা তো শুনেই না বরং আরও সহিংস কাজকর্মে জড়িয়ে পড়ে। বাচ্চাকে বশে আনার জন্য শারীরিক শাস্তি প্রদান করা হলে সে মনে করবে এটাই সঠিক পন্থা কাউকে বশে আনার জন্য।
সে মন মানসিকতায় সহিংসতাকে সমর্থন করে বেড়ে উঠবে। আর তার মধ্যে ধারণা জন্মাবে যে, সরলরা দুর্বলের উপর সহিংস আচরণ করতেই পারে।

শারীরিক শাস্তির ভয়ে পড়তে বসলেও তা ঠিকমত আত্মস্থ করতে পারবে না। ফলে পড়া ভালভাবে মনে রাখতে পারবে না।সেক্ষেত্রে স্কুলেও প্রত্যাশিত ফলাফল করতে পারবে না। যার ফলে পড়ালেখার প্রতি অমনোযোগী হয়ে পড়বে ।

অতিরিক্ত কোনো কিছুই ভালো না। আর তাইতো শাসনের ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি করবেন না। বাচ্চার অন্যায় আচরণের জন্য তাকে বুঝিয়ে বলুন কিংবা সীমিত ভাবে শাসন করুন। কিন্তু কখনোই গায়ে হাত তুলবেন না। চেষ্টা করুন আপনার সন্তান যেনো ভালবেসেই আপনার কথা শুনে।

মো.ওসমান গনি শুভ
শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

Top