ঢাকার ফুটপাত কবে দখলমুক্ত হবে?—সিনজাত রহমান সানি

IMG_20181015_171716.jpg

—————–
ঢাকা শহরের বেশিরভাগ রাস্তা এখন হকারদের দখলে। যার জন্য প্রতিনিয়ত ভুগতে হচ্ছে পথচারীদের। বিশেষ করে গুলিস্তান, নিউ মার্কেট, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট এলাকা, বায়তুল মোকাররম মসজিদ এলাকা, ফকিরাপুল, নয়াপল্টন, পুরানা পল্টন, দৈনিক বাংলার মোড়, মালিবাগ, মতিঝিল, শাহবাগ, যাত্রাবাড়ী, নীলক্ষেত এলাকা এর মধ্যে অন্যতম। নীলক্ষেত দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ কল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট, কুয়েত মৈত্রী ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হলের শিক্ষার্থীদের সবসময় যাতায়াত করতে হয়,এসব ফুটপাথের কারণে প্রতিনিয়ত শিক্ষার্থীদের পরতে হয় নান ধরনের বিড়ম্বনায়। এসব স্থানে ফুটপাথের পাশাপাশি রাস্তাও দখল করে রেখেছে হকাররা। বারবার উচ্ছেদ অভিযান চালানোর পরেও দখলমুক্ত হচ্ছে না ফুটপাত। উচ্ছেদ অভিযান চালানোর কিছু সময়ে পরেই এসব ফুটপাথ অাবারও চলে যায় হকারদের দখলে। যার পিছনে কারণ হিসাবে রয়েছে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কারণ।

ঢাকা সিটি ম্যানুয়াল-১৯৮২ ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশ ১৯৭৬-তে রাজধানীর ফুটপাথগুলো দখলমুক্ত রাখতে বলা হয়েছে। একই সাথে ফুটপাথ পথচারীদের হাঁটার জন্য উপযোগী করার কথাও উল্লেখ রয়েছে।কিন্তু নেই কোন অাইনগত ব্যবস্থা। হকারদের কাছ থেকে জানা গেছে ফুটপাথে তাদের বসার জন্য গুনতে হয় প্রতিদিন ১৫০-৩৫০ টাকা।যা বিভিন্ন হাত হয়ে চলে যায় ক্ষমতাসীন ব্যক্তিদের কাছে।

বাংলাদেশ ছিন্নমূল হকার সমিতির তথ্য অনুসারে বর্তমানে ঢাকা শহরে এক লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি হকার রয়েছে। এর মধ্যে ৭০ হাজার স্থায়ী এবং ৬০ হাজার অস্থায়ী।
হকাররা ফুটপাথ দখলের ফলে প্রতিনিয়ত নানা ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে।পথচারীদের ব্যবহারের জন্য ফুট ওভার ব্রীজ গুলো দখল করে রেখেছে একদল হকাররা। এসব ফুটপাথের কারণে সেইসব এলাকার পরিবেশ যেমন নষ্ট হচ্ছে অন্যদিকে বাড়ছে মানুষের ভোগান্তি। ছোট ছোট দোকান, ব্যবসাসামগ্রী আর হকারদের ঠেলে গন্তব্যে পৌঁছাতে প্রতিদিনই হয়রানি পোহাচ্ছেন পথচারীরা।ভোগান্তির এক পর্যায়ে তর্কও বেঁধে যায় হকারদের সাথে।

হকারমুক্ত ফুটপাত গড়তে চাইলে দরকার সঠিক পরিকল্পনা,শুধু হকারদের উচ্ছেদ করলেই এই সমস্যার সমাধান হবে না, হকারদের নতুন মার্কেট করে দিতে হবে যাতে তারা স্বাভাবিক ভাবে তাদের জীবিকা নির্বাহ করতে পারে। হকারদের সমস্যার সমাধান না করে দখলমুক্ত ফুটপাথ কখনও সম্ভব নয়।হকারদের নতুন মার্কেট করে দেওয়ার মধ্য দিয়ে এ সমস্যার সঠিক সমাধান খুঁজতে হবে।

শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

Top