চট্টগ্রামে ৩ আসন চায় ইসলামী ফ্রন্ট

received_1934138630013556.jpeg

জাবেদ হাসনাত,চট্টগ্রাম:

বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব মাওলানা এম এ মতিন বলেছেন, শান্তিপ্রিয় সাধারণ মানুষ ও ত্বরিকতপন্থীরা আজ অধিকার হারা। ক্ষমতার হালুয়া রুটি গুটিকয়েক মানুষের হাতে সীমাবদ্ধ। জনগণ তাদের কাছে অসহায়। জনগণের অধিকার জনগণের কাছে ফিরিয়ে দিতে সাধারণ মানুষকে জেগে উঠতে হবে। অনলাইন পত্রিকা নিউজ ভিশন ৭১ কে দেয়া এক সাক্ষাতকারে আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে তাঁর দলের পরিকল্পনা ও নানা সমীকরণ তুলে ধরেন।
১৯৯০ সালের ২১ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠিত সুন্নিপন্থি ইসলামী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট নিজেদেরকে কুরআন ও সুন্নাহর উপর প্রতিষ্ঠিত একমাত্র হক্ব ও সঠিক ইসলামী দল বলে মনে করে থাকে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে, কোরআন-সুন্নাহর আলোকে বাংলাদেশে সুন্নী মতাদর্শ ভিত্তিক ইসলামী সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করাই বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের লক্ষ্য। সঙ্গত কারণেই মওদুদীপন্থি জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশে ও কওমিপন্থি হেফাজতে ইসলামে কড়া বিরোধী হিসাবে এই দলটির পরিচিতি রয়েছে। প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকে দলের হাল ধরে আছেন মাওলানা এম এ মতিন।
মাঝখানে ভাঙ্গা-গড়ায় কিছুটা কঠিন সময় পার করলেও সাংগঠনিক শক্তিশারী অবস্থান প্রমান করে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন পেয়েছে দলটি। বিশিষ্ট ইসলামী গবেষক মাওলানা এম এ মান্নান দলের চেয়ারম্যান ও প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য মাওলানা এম এ মতিন মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন। ২০০৮ সালের ২০ নভেম্বর ৩৫তম দল হিসাবে ইসলামী ফ্রন্ট নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন লাভ করে।
আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের পরিকল্পনা প্রসঙ্গে মাওলানা এম এ মতিন বলেন, জাতীয় পার্টির সঙ্গে সম্মিলিত জাতীয় জোট প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট যুগপৎ আন্দোলনে রয়েছে। ১৯৯১ সালে পঞ্চম সংসদ নির্বাচনসহ কয়েকটি সংসদ নির্বাচনে ইসলামী ফ্রন্ট প্রার্থী দিয়েছে। ভোটের হিসাবে আমরা নিজেদের তৃতীয় শক্তি হিসাবে প্রমাণ করেছি।
তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে জাতীয় পার্টি মহাজোটে থাকলে তারা (ইসলামী ফ্রন্ট) শরিক দল হিসেবে সারাদেশে অন্তত ৯টি আসন চাইবে । এর মধ্যে চট্টগ্রামে তিনটি, কক্সবাজারে একটি ও বাকীগুলো চাঁদপুর, কুমিল্লা, ব্রাম্মনবাড়িয়া, হবিগঞ্জ, নীলফামারি জেলায়। মাওলানা মতিন বলেন, জাতীয় পার্টি ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট থেকে নির্বাচন না করলে হিসাব-নিকেশ অন্যরকম হবে। এক্ষেত্রে সম্মিলিত জাতীয় জোটের ব্যানারে ইসলামী ফ্রন্ট ৭৩ আসনে প্রার্থী দেবে। এ সংক্রান্ত দু’টি পৃথক তালিকা জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানকে দেওয়া হয়েছে হয়েছে। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদও জানিয়েছেন ইসলামী ফ্রন্টকে বাদ দিয়ে তিনি আসন ভাগাভাগিতে যাবেন না।
প্রায় ৩ দশক আগে পীর আউলিয়া ও সুফি দর্শনের অনুসরণে ইসলামী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রতিষ্ঠা হয় চট্টগ্রাম থেকেই। দলের চেয়ারম্যান-মহাসচিবসহ বেশিরভাগ কেন্দ্রীয় নেতার বাড়িও চট্টগ্রামে। যে কারণে চট্টগ্রামে আওয়ামীলীগ, বিএনপির পর এই দলেরই বেশি ভোট রয়েছে বলে মনে করা হয়ে থাকে।
মহাজোটের ব্যানারে নয়টি আসন দাবি উচ্চভিলাষি চিন্তা কিনা এই প্রশ্নে মাওলানা মতিন বলেন, বারো আউলিয়ার পূণ্যভূমি চট্টগ্রামের মাটি, মানুষের সঙ্গে ইসলামী ফ্রন্টের নাড়ির সম্পর্ক। গত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইসলামী ফ্রন্টের ৩১ নেতাকর্মী বৃহত্তর চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। মানুষ ইসলামী ফ্রন্ট ও এই দলের প্রতীক মোমবাতিকে ভালবাসে। এটি পীর আউলিয়ার প্লাটফরম। আগামী সংসদ নির্বাচনেও এর প্রভাব পড়বে।
ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব মাওলানা এম এ মতিনের বাড়ি চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায়। আনোয়ারা ও কর্ণফুলী মিলিয়ে চট্টগ্রাম-১৩ নির্বাচনী আসনের বর্তমান সাংসদ সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ। তিনি বর্ষীয়ান নেতা প্রয়াত আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর ছেলে ও ভূমি মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী। এরকমই ইসলামী ফ্রন্টের প্রস্তাবিত প্রায় সব আসনেই বর্তমানে আওয়ামীলীগের নির্বাচিত সংসদ সদস্য আছেন।
বিষয়টি কিভাবে সুরাহা হবে এ প্রশ্নে মাওলানা মতিন বলেন, আলোচনার সুবিধার্থে একেকজন প্রার্থীর জন্য দুই থেকে তিনটি আসন প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে একজন প্রার্থী একটি আসনেই নির্বাচন করবেন। তিনি বলেন, আমরা মহাজোটের সঙ্গে নির্বাচন করলে ৯টি আসনের কথা বলেছি। তবে কমপক্ষে তিনটি আসন নিশ্চিত করতে চাই। আসনগুলোতে প্রার্থী হবেন , দলের চেয়ারম্যান মাওলানা এম মান্নান, মহাসচিব মাওলানা এম মতিন এবং যুগ্ম মহাসচিব স উ ম আবদুস সামাদ। ইতিমধ্যে এই তিনজনকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, আমারা ভোটের গণ সংযোগ শুরু করেছি। ঘরোয়া সভা, উঠান বৈঠকের মাধ্যমে প্রচারণা শুরু করেছি।

তার দলের ভাল মতোই নির্বাচনের প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, ইতিমধ্যে শুধুমাত্র দক্ষিণ চট্টগ্রামে ১৭টি প্রস্তুতি সভা হয়েছে। দলের নেতাকর্মীরা পাড়ায় পাড়ায় প্রচারণা চালাচ্ছেন।মহাজোট বা জাতীয় জোট যে কোন ব্যানারে নির্বাচন করলে তার দলের প্রার্থীরা বিজয়ের ব্যাপারে তিনি আশাবাদী।

Top