ঠাকুরগাঁওয়ে প্রতিমা শিল্পীদের শেষ মুহুর্তের ব্যাস্ততা।

43878864_2229419877282930_8482679719496515584_n.jpg

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি : ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া থানার মোট ২৬টি পুজো মন্ডপে দুর্গা পুজোর আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ৮টি রুহিয়া উপশহরে, বাকি ১৮টি বিভিন্ন ইউনিয়নে শারদীয় দুর্গাপুজো উদযাপন উপলক্ষে আয়োজন চলছে। এদিকে সনাতন ধর্মাম্বলীদের সবচেয়ে বড় এই শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে এখন ব্যস্ততা বেড়েছে প্রতিমা শিল্পীদের। থানার উপশহরের রুহিয়ায় ৮/১০জন, বিভিন্ন ইউনিয়নে ৩২/৩৫জন প্রতিমা শিল্পী এসব মন্ডপে নিরলস ভাবে দিন রাত এক করে প্রতিমা তৈরির কাজ করে চলেছেন । রুহিয়া থানার রামনাথ হাট, সেনিহারি, উত্তরা বাজার, কাকলী সহ বিভিন্ন ইউনিয়নে সব প্রতিমা শিল্পীরাই ব্যস্তসময় পার করছেন। প্রতিমা শিল্পী অবিনাশ ভাস্কর ২৫ বছর ধরে এ পেশায় জড়িত আছেন বলে জানান তিনি। এদিকে চুয়ামনি বাজার সার্বজনিন দুর্গা মন্ডপের প্রতিমা শিল্পী বিকাশ চন্দ্র রায় বলেন, তিনি ১৫ বছর বয়স থেকেই এ পেশায় জড়িত। কোন কোন সময় পঞ্চমীর রাতের আগেই তাদের প্রতিমার সব কাজ শেষ করতে হয়। বাংলা আষাঢ় মাসের ১৫ তারিখ থেকেই তারা প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু করেছেন। দিনরাত এক করে তারা কাজ করে চলেছেন । প্রতিমা তৈরির শিল্পীরা জানিয়েছেন, একটি প্রতিমা তৈরিতে শিল্পীরা ১০/১৫ হাজার টাকা পান। প্রতিমা তৈরির উকরন কি কি লাগে জানতে চাইলে তারা জানান প্রতিমা তৈরির জন্য দরকার ৪/৫ ভ্যান মাটি। খড়লাগে ৬/৭ পৌন।এছাড়া কাঠ, বাঁশ, দড়ি, পেরেক, সুতা, ধানের তুষ, কয়েক প্রকারের রং। শিল্পীরা জানান, একটি প্রতিমা তৈরি করতে সময় লাগে ১৫/২০ দিন। প্রতিমা তৈরিতে কয়েকজন শিল্পী একসঙ্গে কাজ করেন।একেকজন শিল্পী প্রতিমার এক এক কাজে হাতদেন। সবাইর সম্মিলিত কাজে পুর্ণতাপায় এক একটি প্রতিমা। বাংলাদেশ পুজা উদযাপন পরিষদের রুহিয়া থানার সহ সভাপতি রামকৃষ্ণ রায় বলেন, চলতি মাসের ১৫ অক্টোবর (সোমবার) থেকে ১৯ অক্টোবর (শুক্রবার) পর্যন্ত হিন্দু সম্প্রদায়ের সব থেকে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব পালিত হবে। এ জন্য মন্ডপে মন্ডপে এখন প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গেছে। নিরাপত্তা বিষয়ে জানতে চাইলে রুহিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ প্রদীপ কুমার রায় সাংবাদিকদের জানান সব পুজো মন্ডপে বাড়তি নিরাপত্তা জোড়দার করা হয়েছে। মন্ডপ গুলোতে, আনসার, পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি সাদা পোশাকে থাকবেন গোয়েন্দরা। যানবাহন চলাচল বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, মন্ডপ এলাকায় যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। কেউ যে কোন প্রকার উশৃংখল, সন্ত্রাসী কার্যক্রম করতে না পারে সে জন্য আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রস্তত থাকবে।

Top