রামু থানার ওসি’র কারণে বৃদ্ধা তার সুখ ফিরে পেলো

IMG_20181012_010233.jpg

জাহেদ হাসান, কক্সবাজার।

১০ অক্টোবর বুধবার দৃশ্যপট রামু থানা। সন্ধ্যা ৬ টা। থানা চত্বরের গোলঘরে বসে আছি। কয়েকজন বিচার প্রার্থী মানুষ থানা কম্পাউন্ডে ঢুকলেন। এদের একজন নসিমন বিবি। বয়সের ভারে একেবারে ন্যুজ্য। বয়োবৃদ্ধা নসিমন বিবির সাথে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে কথা বলতেই আবেগে কেদেঁ দিলেন। বললেন ৩ ছেলে ও ১ মেয়ে। মেয়েটি টাঙ্গাইলে বিয়ে দিয়েছেন। তিন ছেলে ও বিয়ে করে আলাদা আলাদা ঘরে বসবাস করছে। স্বামী মারা গেছে অনেক আগে। এখন বয়োবৃদ্ধা নসিমন কে কেউ দেখে না উল্ঠো পুত্র বধুরা নানা অজুহাতে গালিগালাজ ও মারধর করেন। তাই তিনি মানুষের মুখে শুনেছেন কক্সবাজার রামু থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মাদ আবুল মনসুর এবং ওসি তদন্ত মিজানুর রহমান অনেক ভাল মানুষ। যখনই কোন ফরিয়াদি লোকজন আসেন ঘটনা শুনে তৎক্ষনিক একটা বিহীত করেন। গরীব মানুষের আপন জন হিসাবে রামু বাসী ইতোমধ্যে মনের গভীরে স্হান নিয়েছে। তার একমাত্র ভরসা এখন যদি অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আবুল মনসুর এবং ওসি তদন্ত মিজানুর রহমান এখন যদি কিছু একটা করেন। কথা বলতে বলতে থানায় ঢুুকে পড়েন। যেই আশা সেই কাজ। থানা কম্পাউন্ডে ঢুকেই ওসি আবুল মনসুর এগিয়ে এলেন বয়োবৃদ্ধা নসিমন বিবির দিকে। জিজ্ঞেস করলেন সমস্যা আছে কিনা? বৃদ্ধা বললেন- আমার খুবই কষ্টে দিনযাপন চলছে। কেউ আমার খবর রাখে না। সন্তানেরা সবাই আলাদা আলাদা ঘরে সুখে শান্তিতে বসবাস করে আসলে ও বৃদ্ধা নসিমন বিবির দিন কাটে কখনো খেয়ে আবার কখনো না খেয়ে। সাথে সাথে সন্তানদের তলব করে ডেকে পাঠালেন সন্তানদের। ১ ঘন্টার মধ্যে সব ছেলে ও ছেলের বউ হাজির।জিজ্ঞাসা করলেন কেন বয়োবৃদ্ধা নসিমনের উপর ভরনপোষন না দিয়ে উল্টো পুত্রবধুদের হাতে শারিরীক খসরত খেতে হয়।সব পুত্র ও পুত্র বধুরা তাদের অতীতের কৃত কর্মের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করলেন এবং ভবিৎষতে এমন ঘটনা আর হবে না মর্মে লিখিত অঙ্গীকারের ভিত্তিতে বয়োবৃদ্ধা নসিমন বিবি কে তার সন্তানদের হাতে তুলে দেন।এ সময় এ প্রতিবেদকের কাছে বয়োবৃদ্ধা নসিমন বিবি জানান,আগে অনেক পুলিশ দেখেছি কিন্তু বর্তমান অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আবুল মনসুর ওসি তদন্ত মিজানুর রহমানের মতো অফিসার আমার জীবনে দেখি নাই। তাদের যে মা গর্ভে ধারণ করেছে সেই মা সত্যি মহিয়সী নারী।আল্লাহ পাকের দরবারে হাজার শুকরিয়া জানাই আল্লাহ পাক যেন এমন সন্তান দেশের প্রতিটি ঘরে জম্মায়।বয়োবৃদ্ধা নসিমন বিবি আরো জানান, আমি জায়নামাজে বসে সৃষ্টিকর্তার কাছে দু,হাত তুলে প্রার্থনা জানাবো যেন সৃষ্টিকর্তা রহমানুর রাহিম রামু থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আবুল মনসুর ওসি তদন্ত মিজানুর রহমানের দীর্ঘায়ু দান করেন।সন্ধ্যা গডিয়ে রাত।রাত গড়িয়ে গভীর রাত কোন ক্লান্তি নেই রামু থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আবুল মনসুর এবং ওসি তদন্ত মিজানুর রহমান ফরিয়াদি মানুষের বক্তব্য শুনে তাৎক্ষনিক সুরাহা অথবা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা নেওয়ার নির্দেশ দিচ্ছিলেন।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি বছরের গত ১৫ আগস্ট রামু থানার অফিসার ইনচার্জ হিসাবে দায়িত্ব নেন ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ আবুল মনসুর।তিনি যোগদানের পরপরই শুরু করেন গ্রেফতারী পরোয়ানা ভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী, টোকাই, ছিনতাইকারী ও দাগী আসামী গ্রেফতারের বিশেষ অপারেশন। সফলতা ও আসে আশাতীত। একের পর ধরা পড়ে দাগী আসামী।ভেঙ্গে পডেছে চোর, ডাকাত, ছিনতাই, অপহরণ সহ ইয়াবা চোরাচালানী সিন্ডিকেট। অসংখ্য তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী গ্রেফতারের ফলে পুলিশের হাইকমান্ড রামু থানা অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আবুল মনসুরের উপর যে আস্থা রেখেছিলেন তার প্রতিদান দিচ্ছে নিরলস ভাবে। তাই অল্প সময়ের ব্যবধানে রামু থানার অফিসার ইনচার্জ লাভ করেন সাফল্যের পুরস্কার। পর্যটন রাজধানী কক্সবাজারের রম্যভুমি রামু থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আবুল মনসুরের সাহসী ভুমিকার কারনে রামুর মানুষ দারুণ খুশি।ডাকাত কবলিত জনপদ রামুর গর্জনিয়া,কচ্ছপিয়া কাউয়ারখোপ সহ রামুর পুর্বাঞলের রাত দিন আতংকে থাকতো ডাকাতের।শীর্ষ আন্যাইয়া বাহিনী প্রধান আন্যাইয়া সহ বেশ কয়েক জন দুধর্ষ ডাকাত কে নির্মূল করে ডাকাত মুক্ত এলাকায় পরিনত করায় এই জনপদের হাজার হাজার জনগন ওসি মোহাম্মদ আবুল মনসুর কে সাধুবাদ জানিয়েছেন।এসব বিষয়ে রামু থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আবুল মনসুর জানান,রামু থানা বিভিন্ন কারনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন এলাকার লাখ লাখ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাতদিন নিরলস দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে রামু থানা পুলিশ।
সবার সহযোগিতা করলে অচিরেই দেশের মধ্যে রামু হবে একটি উজ্জ্বল মাইল ফলক।

Top