জেলার উপকূলীয় এলাকায় জোয়ারের পানিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, ১দিনের ভারি বৃষ্টিতে পাহাড়ী ঢলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

43788558_156170291998140_961343672324980736_n.jpg

অাবু বক্কর ছিদ্দিক,মহেশখালী :

ঘুর্ণিঝড় তিতলির প্রভাবে সাগরে অস্বাভাবিক জোয়ারের পানি বেড়ে যাওয়ায় কক্সবাজার জেলার উপকূলীয় এলাকা গুলোতে বেড়ীবাঁধ ভেঙ্গে নিম্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে । অন্য দিকে ঘুর্ণিঝড়ের প্রভাবে কয়েক দিন যাবত গুড়ি গুড়ি বৃষ্টিতে বিপন্ন জনজীবন । এরই মধ্যে গতকাল হঠাৎ ভারি বৃষ্টিতে পাহাড়ী ঢলে জেলার ভিবিন্ন স্থানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে । ঘুর্ণিঝড় তিতলির প্রভাবে সাগরে অস্বাভাবিক জোয়ারের পানি বেড়ে যাওয়ায় সব চাইতে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ ও কুতুবদিয়া উপজেলায় । টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের বেড়ীবাঁধ ভেঙ্গে ঐ এলাকার কয়েকটি গ্রাম পানির নিচে তলিয়ে গেছে । শাহপরীর দ্বীপের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মধ্যে রয়েছে , পশ্চিম পাড়া , সাবরাং , দক্ষিণ পাড়া , মাঝর পাড়া , জালিয়া পাড়া সহ বেশ কয়েকটি নিচু এলাকা জোয়ারের পানি প্রবেশ করে এতে ঐ এলাকার ঘর-বাড়ী ও ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ।

বর্তমানে শাহপরীর দ্বীপের বেড়ীবাঁধ ভেঙ্গে সাগরে বিলিন হয়ে যাচ্ছে ঘর-বাড়ী ও ফসলি জমি । এ ভয়ে দিন রাত অাতংকে রয়েছেন ঐ এলাকার মানুষ গুলো । এদিকে ঘুর্ণিঝড় তিতলির মুকাবিলার জন্য সার্বক্ষণিক প্রস্তুত ছিল জেলা প্রশাসন । টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ সহ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা গুলো পরিদর্শন করেছেন টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা । টেকনাফে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা গুলো চিহ্নিত করে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করার জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি । খুব শীঘ্রই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণের ব্যবস্থা করা হবে জানিয়েছেন । অন্য দিকে ঘুর্ণিঝড় তিতলির প্রভাবে সাগরে অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে কুতুবদিয়ার বেশ কয়েকটি নিচু এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে । উপজেলার উত্তর ধ্রুম এলাকার পশ্চিমে জোয়ারের পানিতে বেড়ীবাঁধ ভেঙ্গে ঐ এলাকার কয়েকটি গ্রাম বর্তমানে পানির নিচে তলিয়ে গেছে । এতে ঐ এলাকার প্রায় কয়েকশত ঘর-বাড়ী সহ বহু ফসলি জমি পানিতে ঢুবে যায় । পানিতে ঢুবে গেছে অত্র এলাকার চলাচলের রাস্তা সহ ভিবিন্ন ফসলি জমি । বর্তমানে ঐ এলাকায় শত শত একর পাকা ধান ও শীতকালীন সবজি ক্ষেতের বীজ তলা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এতে কৃষকের মাথার উপর যেন অাকাশ ভেঙ্গে পড়েছে । কুতুবদিয়া ধ্রুম ছমুদিয়া অালিম মাদ্রাসার ইংরেজী প্রভাষক মোঃ অাব্দুল করিম জানান , উত্তর ধ্রুমের পশ্চিমে বেড়ীবাঁধ ভেঙ্গে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে প্লাবিত হওয়ায় কৃষকের পাকা ধান ও ভিবিন্ন সবজি ক্ষেতের বীজ তলা পানিতে তলিয়ে গেছে । এতে কৃষকের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে বলে জানান । তিনি অারো বলেন , কুতুবদিয়ার চতুর্পাশে টেকসই বেড়ীবাঁধ নির্মাণ না করলে অচিরেই বাংলাদেশের মানচিত্র থেকে এ দ্বীপটি মুছে যাবে বলেও জানান । তাই কুতুবদিয়া কে রক্ষা করতে হলে অাগে বেড়ীবাঁধ নির্মাণের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি । কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনোয়ারা বেগম বলেন , কুতুবদিয়ায় ২১ কিঃমিঃ বেড়ীবাঁধ ভাঙ্গা রয়েছে , তার মাঝে গেল ঘুর্ণিঝড় তিতলির প্রভাবে সাগরে জোয়ারের পানি বেড়ে যাওয়ায় ঐ ভাঙ্গা বেড়ীবাঁধ দিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে । ক্ষতিগ্রস্তদের জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে বলে জানান তিনি । এদিকে গত এক দিনের ভারি বৃষ্টিতে চকরিয়া , মহেশখালী , রামু , উখিয়া , টেকনাফ সহ ভিবিন্ন জায়গায় পাহাড়ী ঢলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে । মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া ও হোয়ানকে পাহাড়ী ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কয়েকটি এলাকা । গতকালের ভারি বৃষ্টিতে কালারমারছড়া বাজার এলাকা ও হোয়ানক ইউনিয়নের হরিয়ারছড়া ও ভিবিন্ন এলাকায় পাহাড়ী ঢলে চলাচলের রাস্তা সহ কৃষকের নতুন রোপনকৃত পানের বরজ ও অামন ধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ।

Top