কেমন চাই অামাদের অাগামীর প্রজন্ম !!- সাফওয়ান মু.তারেক অাজিজ

Screenshot.png

—————————————–
নতুন মানুষ এল যারা
খোদার দুনিয়াতে
ছোট্ট অামার পাখির বাসা
দিলাম তাদের হাতে
[কবি ফররুখ অাহমেদ]

অাজ বিজ্ঞানের চরম উৎকর্ষের যুগ! মানুষ পাখায় ভর করে উড়ে যাচ্ছে চাঁদে- পা রেখেছে মঙ্গলে। অাজ ইলেকট্রনিক্স যুগ.! পৃথিবী হয়ে গেছে একটা ছোট গ্রামের ন্যায়। পৃথিবীর সকল কিছু ডিজিলাইটের ছোঁহাই পরিবর্তন হচ্ছে ।
পৃথিবীর সকল কিছু যেমন যুগের তালে পরিবর্তন হচ্ছে-ঠিক তেমনি সমানতালে অামরা মানুষ ও পরিবর্তন হচ্ছি ।
বিজ্ঞান ও অাধুনিকতার ছোঁয়াই অামরা যেমন পৃথিবীকে সহজে নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্য হয়ে উঠছি,ঠিক তেমনি ভাবে ও অামরা পৃথিবীর অযোগ্য তে পরিনত হচ্ছি ।

কেন অামরা পৃথিবীর অযোগ্য হচ্ছি.??

প্রশ্নের উত্তর খুবই সহজ ভাবেই দিয়ে দিচ্ছি.!
হ্যা অামাদের প্রযুক্তিগত উন্নয়নের পাশাপাশি চরিত্রগত শৃঙ্খলতার ধস নেমেছে । অামাদের জ্ঞান অর্জনের নেশা ও পেশা কে প্রযুক্তির নেশায় গ্রাস করে নিয়েছে । অাজ অামাদের চারপাশে অশান্তি-অন্যায়-অরাজকতা-অসাম্য-অস্থিশিলতা”
একদল মানুষ সুখ ও প্রাচুর্য্য ভিতরে অাছে অারেকদল মানুষ অভাব দারিদ্রতাকে নিত্য সঙ্গি করে দিন কাটাচ্ছে। একদল শিশু অানন্দ-হৈ-চৈ করে দিন পার করছে—অারেকদল শিশু বেদনা প্রচন্ড অভাব আর অবহেলায় বড় হচ্ছে ,এই হলো অামাদের সমাজের জীবন-জাপনের চিত্র।।

অামাদের তারুণ্য :
চারদিকে এক ভয়ংকর বিষাক্ত পরিবেশ! কোথায় যেন ছুটছে অামাদের তরুণেরা!
প্রতিদিনের কাগজের পাতা উল্টালে অামাদের তরুণ-তরুণীদের অপরাধের ছবি দেখে চোঁখ অাতঙ্কৃত করে তোলে ।
এই তো সম্প্রতি চট্রগ্রামে দিনে-দুপুরে খুন হয়েছে চট্রগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলের ৯ম শ্রেনীর মেধাবী ছাত্র অাদনান ইসফার ।তার বয়স ১৪-তাকে যারা খুন করেছে তাদের বয়স ১৬–১৮ এর মধ্যে ।
দিনে-দুপুরে একজন কিশোর কে মধ্যমকায়দা নিষ্ঠুর ভাবে নিহত হতে দেখে বরাবরই মানবসমাজ হতবাক । কতটুকু নিষ্ঠুরতা লালন করলে একজন কিশোর কে তার সমবয়সী সহপাঠীরা হত্যা করতে পারে.? কতটুকু ঘৃণা লালন করলে একজন মানুষের প্রাণ কেড়ে নিতে পারে .?
তাছাড়া চট্রগ্রামের কিছুদিনের সবচেয়ে বেশী অালোচিত ঘটনা কক্সবাজার সীমান্ত উপজেলা টেকনাফের মেয়ে তাসফিয়া হত্যার ঘটনা । যা পুরো সচেতন সমাজের বিবেক কে নাড়া দিয়েছে.!!
একজন নবম শ্রেনীর ছাত্রী তাসফিয়া.!! কি অপরাধ তার.?? কেন তার জীবন অকালে ঝড়ে গেল .??
কেন তাসফিয়া তার কিশোর বয়সে বিভ্রান্তির ফাঁদে পড়ে নিজের জীবন কে বিপন্ন করল । মূল কথা হলো এ বিভ্রান্তি-র ফাঁদে পড়ে শুধু তাসফিয়া নই-অারও হাজারো তাসফিয়া– হাজারও অাফনান ইসফার এভাবে ধ্বংসের জোয়ারে তলিয়ে যাচ্ছে ।
কেন তাদের চরিত্রের পতন ?
সমস্যা ১ :ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগব্যবস্থা :
অবশ্যই বর্তমান অামাদের কিশোর-কিশোরী যুব সমাজের নিত্যদিনের সঙ্গি সম্মার্ট ফোন । অার সম্মার্ট ফোনের সাথে ইন্টারনেটের সংযুক্তি মানে পুরো দুনিয়া হাতের মুঠোয় । মুহুর্তে চলে অাসছে ব্যবহার কারীর কাঙ্গিত বিষয়টি , ক্ষণে ক্ষণে জানা যায় নিত্যনতুন অাপডেট , অার এভাবে অামাদের শিশু-কিশোর যুবসম্প্রদায় জড়িয়ে পড়ে পর্নোগ্রাফির মত ভয়াবহ অাসক্তিতে । সাধারন একটি গবেষণায় বলা হয়েছে এবং কিশোর গবেষকদের মতে £ স্বাভাবিক ভাবেই যখন কেউ ঘন্টার পর ঘন্টা ইন্টারনেট ব্রাউজিংয়ে বুদ হয়ে থাকে__ তবে সে নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে । তাকে ইন্টারনেট অাসক্তি পুরো ঘায়েল করে পেলেছে । তখন তার কাছ থেকে নৈতিকবাচক ঘটনা রচনা শুরু করলে তখন তার দ্বারা ভয়ানক অপরাধ ও সংগঠিত হতে পারে ৤

সমস্যা ২ : নৈতিক শিক্ষার অভাব :
কিশোর-কিশোরী দের অপরাধ বিস্তারের প্রথম এবং প্রধানতম কারণ নৈতিক শিক্ষার অভাব ও অনুপস্থিতি , অাজকাল অামাদের স্কুল-কলেজে অনেক কিছু শিখানো হচ্ছে । নিত্যনতুন পদ্ধতি-তে অামাদের শিক্ষার্থী দের পড়ানোর কৌশল রপ্তানি করা হচ্ছে,ডাক্তার, ইন্জিনিয়ার,উকিল,ব্যারিস্টার হওয়ার পথ দেখানো হচ্ছে ।
সহজে GPA-5 পাওয়ার উপাই বলে দেওয়া হচ্ছে“`প্রতিদিন অসংখ্য ছেলে-মেয়ে স্কুলকলেজে যাচ্ছে। বই পড়ছে ক্লাসের পর ক্লাস শেষ করে পার করছে ” কিন্তু এত কিছুতে সত্যিকার মানুষ হবার শিক্ষা পাচ্ছে কি.??

মূল কথা হলো– আমাদের তরুণ-তরুণীদের মানবজীবনের উদ্দের্শ্য সম্পর্কে বেখবর রাখা হচ্ছে । ভাল মানুষ হয়ে কিভাবে জীবন পরিবর্তন করা যায়–সেটির জ্ঞান দেয়া হচ্ছে না । অামাদের বইতে অনেক পড়া অাছে , কবিতা অাছে ,মজার মজার গল্প অাছে
কিনতু.!!সেখানে নেই মানুষ হওয়ার কথা ! নেই উদার হবার কথা , সৎ হওয়ার কথা ,দেশকে ভালবাসার কথা , মা-বাবার প্রতি দায়িত্ব কর্তব্যের কথা– সমাজের প্রতি দায়িত্বের কথা ।
তবে হ্যা অামাদের তরুণ-তরুণীরা ইন্টারনেটে প্রবেশ করে বেশ অাধুনিক হচ্ছে ! জানতে পারছে অনেক কিছু , পাশাপাশি তাদের ভেতর জন্ম নিচ্ছে অসংখ্য অসৎ ইচ্ছা , তারা হয়ে উঠছে অনেকটা বেপরোয়া , অস্বাভাবিকে খুন-খারাবিতেও জড়িয়ে পড়ছে তারা অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে ।
ফলে অামাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষিত কিশোর-কিশোরী তরুণ-তরুণীরা হাজার হাজার [ GPA-5 ] জিপিএ ফাইভ অানতে পারলেও নানা অপরাধমূলক কাজ ও অপকর্মের সাথে তারা জড়িয়ে পড়ছে । খুন-চাদাঁবাজি-ছিনতাই-হত্যা,ধর্ষনের মত ভয়ংকর অভিশাপগ্রস্ত অামাদের অাগামীর এই প্রজন্ম ।

যুব সমাজের এইসব অপরাধে জড়িয়ে পড়ার বিষয় সচেতন সমাজের ভীষণ চিন্তার কারণ হয়ে দেখা দিয়েছি .!
কিনতু কেন ঘটছে এইসব অপরাধমূলক ঘটনা , এর পেছনের কারণ কি.??
এইসবের মূলে কিংবা ইন্দন দিচ্ছে কারা.? এর মুক্তি কি , এই অভিশাপ হতে কিভাবে মুক্তি মিলবে জাতির তরুণ-তরুণীদের.??
চলুন সমাজ বিশ্লেষক ও সচেতন চিন্তাশীল মহলের মুক্তির কিছু সহজ সমাধান বা উপাই বের করেছেন.! তা বিশ্লেষণ করা যাক ।
১* নৈতিক শিক্ষার প্রসার করা
২* নৈতিক শিক্ষার চর্চা বাড়ানো
৩* পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্কের ভির্ত্তিকে মজবুত করা
৪* খেলা ধুলার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা বৃদ্ধি করা
৫* লাইব্রেরী ও পাঠাগার স্থাপন করা
৬*কিশোর-কিশোরী দের অপরাধপ্রবনতা হ্রাস এবং নৈতিকতা রক্ষাত্রে শিক্ষামূলক সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় ভাবে নাটক/বিনোদন মূলক প্রোগ্রাম করা ৤

Top