ফিরে দেখা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট

download-8.jpg

এন আমিন জাহেদ:

হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর রক্ত মাখা দেহ, লাল হয়ে পড়ে রয়েছে ধানমন্ডির ৩২নং বাড়ির সিঁড়িতে।

ভোর ৬টা ১মিনিট বাংলাদেশ বেতারে ঘোষিত হল:

‘আমি মেজর ডালিম বলছি, স্বৈরচারী শেখ মুজিবকে হত্যা করা হয়েছে। খোন্দকার মোস্তাক রাষ্ট্রপতি হলেন। তার পাশে একে একে দাগী ও খুনী আসামিদের কুৎসিত চেহারা মন্ত্রী সভায়।

বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রী সভার মন্ত্রীরাই শপথ নিলেন, উপ-রাষ্ট্রপতি হলেন বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রী সভার সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ উল্লাহ খুনিদের মন্ত্রী সভায় যোগদান করেন। এমনকি আবু সাঈদ চৌধুরী, অধ্যাপক ইউসুচ আলী, ফনিভূষণ মজুমদার, মনোরঞ্জন ধর, আব্দুল মোমেন, আসাদুজ্জামান খাঁন, ডাঃ এ আর মল্লিক, ডাঃ মোজাফফর আহমদ, আব্দুল মন্নান ও সোহরাব হোসেন।

প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, দেওয়ান ফরিদ গাজি, তাহের উদ্দিন ঠাকুর, নুরুল ইসলাম চৌধুরী, নুরুল ইসলাম মঞ্জুর, কেএম ওবাইদুর রহমান, মোসলেম উদ্দিন খান, ক্ষীতিস চন্দ্র মন্ডল, রিয়াজ উদ্দিন আহাম্মদ, সৈয়দ আলতাফ হোসেন ও মোমিন উদ্দিন আহমদ।

আনুগত্যের ভাষায় কথা বললেন, একে একে সেনাবাহিনীর প্রধান কে.এম শফি উল্লাহ, বিমান বাহিনীর প্রধান এ.কে খোন্দকার, নৌ বাহিনীর প্রধান এম.এইচ খাঁন, বিডিআর প্রধান খলিলুর রহমান, পুলিশ প্রধান নুরুল ইসলাম, রক্ষী বাহিনীর উপ-প্রধান লেঃ কর্নেল আবুল হাসান।

সব কিছু যেন ঠিক থাকলো। সবাই থাকলেন, থাকলেন না শুধু একজন, একটি লেখা,একটি ইতিহাস। সে হল মুজিব। সংগ্রামী তিনটি দশক যেন ওরা একটি দিনের দস্যুতায় মু্ছে দিতে চাইলো। বঙ্গবন্ধু নামের কেউ যে কোনদিন ছিলেন না, ওকথা যেন ওরা ভুলিয়ে দিতে চায়।

সেদিন যদি মন্ত্রীরা শপথ না নিতেন , খুনিদের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করতেন, আন্দোলনের ডাক দিতেন, তাহলে প্রবাহিত ইতিহাস কি রায় দিতো। লক্ষ লক্ষ সৈন্যরা সেদিন ঢাকার প্রান্তে নীরবে দাড়িয়ে রইল, আর পরাজয় এসে জাতীর জীবনে কালিমা লেপন করে গেল।

এখন গাইতে থাকি–

‘যতদিন রবে পদ্মা মেঘনা যমুনা গৌরি বহমান, ততদিন রবে কীর্তি তোমার শেখ মুজিবুর রহমান।’

‘যদি রাত পোহালে শোনা যেত বঙ্গবন্ধু মরে নাই। যদি রাজপথে আবার মিছিল হতো
বঙ্গবন্ধুর মুক্তি চাই -মুক্তি চাই।
তবে বিশ্ব পেত এক মহান নেতা,আমরা ফিরে পেতাম জাতির পিতা!!’

লেখক; এন আমি জাহেদ,
প্রবীণ রাজনীতিবিদ,
মহেশখালী,কক্সবাজার।

Top