চাকরি পেতে কি করবেন, জেনে নিন

Successful-Job-Interview.jpg

Successful job interview with boss and employee handshaking

নির্ভুল সিভি, নিখুঁত কাভার লেটার ও আপনার যথাযথ যোগ্যতা কোনটাই আপনার চাকরি নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট নয় যদি না আপনি ইন্টার্ভিউ বোর্ডে ভাল পারফর্মেন্স দিয়ে থাকেন। এখানেই আপনার চুড়ান্ত ফলাফল নির্ধারণ করা হবে। এখানেই আত্ম-প্রকাশের মাধ্যমে অন্যদের থেকে নিজেকে আলাদাভাবে উপস্থাপন করার চূড়ান্ত ও সর্বশ্রেষ্ঠ চেষ্টা করে থাকেন। এখানেই আপনার সুযোগ অন্যদের পিছে ফেলে স্ট্যান্ড-আউট করার।

কোম্পানি সম্পর্কে পূর্ণ ধারণা নেওয়া:

ইন্টার্ভিউর জন্য প্রস্তুতির প্রথম ধাপ হচ্ছে রিসার্চ। আপনি যে কোম্পানি থেকে ইন্টার্ভিউ কল আশা করছেন আপনার প্রথম কাজই হচ্ছে তাদের সম্পর্কে সব তথ্য যোগার করা। তাদের কাজ করার আদর্শ-নীতি ও মূলমন্ত্র কি, তাদের লক্ষ্য কি, তাদের ব্যবসা জগতে তাদের স্থান কোথায় আর শুধু তাই নয় তাদের সাথে সাথে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বীদের সম্পর্কেও কিছুটা ধারনা নিয়ে যাবেন। আপনার এই বৃহৎ জ্ঞানের পরিসর দেখে নিয়োগকারী মুগ্ধ হতে বাধ্য থাকবে।

নিয়োগকারীদের সম্পর্কে জানা:

কোম্পানির পাশাপাশি আপনার নিয়োগকারী বা যারা ইন্টার্ভিউ নিবে তাদের সম্পর্কে কিছু ধারনা নিয়ে যাওয়া ভাল। যদিও অনেক ক্ষেত্রে এই বিষয়ে জানা সম্ভব হয়ে ওঠে না তবুও চেষ্টা করবেন ফাঁকা মস্তিষ্কে না যাওয়ার। নিয়োগকারী কিভাবে চিন্তা করে, তারা কোন কোন যোগ্যতা আশা করবে, তাদের চিন্তাধারা কেমন, আপনার কেমন পারফর্মেন্স আশা করবে এই সব ধারনা থাকলে আপনি আগে থেকে কিছুটা প্রস্তুত থাকতে পারবেন তাদের প্রশ্নসমূহ নিয়ে।

আপনার ব্যবহার ও আচরনে নিয়ে আসুন বৈচিত্র:

আপনার দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও শিক্ষাগত যোগ্যতা সবকিছু নয়। মাঝে মাঝে আপনার চাকরির নিশ্চয়তা নির্ভর করে আপনার কথা বলার ধরন, অঙ্গভঙ্গি, আচরণ ও ব্যবহারের উপর। আপনার আচরণে এমন কিছু থাকতে হবে যা তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী নিজেকে প্রস্তুত করে নিন।আপনি যদি সেলস সম্পর্কিত কোন জব ইন্টার্ভিউ দিচ্ছেন তাহলে একটু বন্ধুত্বপূর্ণভাব নিয়ে কথা বলুন। আবার যদি তারা এইচআর ম্যানেজমেন্ট পোষ্টের জন্য কাউকে খুঁজছেন তাহলে একটু গাম্ভীর্যের সাথে কথা বলুন। সুতরাং কোন পোস্টের জন্য অ্যাপ্লাই করছেন তা অবশ্যই মাথায় রাখুন।

আপনার ব্যক্তিত্বকে শুরু থেকেই আকর্ষণীয় করে তুলুন:

ইন্টার্ভিউ রুমে আপনাকে কোন প্রশ্ন করার আগে থেকেই আপনাকে মার্কিং করা শুরু হয়ে যায় নিয়োগকর্তাদের। তাই আপনার কথার মাধ্যমে তাদেরকে মুগ্ধ করার পাশাপাশি আপনাকে আপনার চাল চলন ও আচরণ দিয়ে আপনার ব্যক্তিত্বকে আকর্ষণীয়ভাবে তাদের কাছে তুলে ধরতে হবে। ইন্টার্ভিউ রুমে ঢুকা থেকে শুরু করে আপনার হাঁটা, চলা ফেরা, বসার ভঙ্গি, আপনার হাত নাড়ানোর ধরন সমস্ত কিছু সর্বক্ষণ পরীক্ষিত হচ্ছে। তাই সার্বক্ষণিক আপনাকে সতর্কতার সাথে থাকতে হবে।

ইতিবাচকভাবে আত্মপ্রকাশ করুন:

আপনার যা যা পসিটিভ গুন ও বৈশিষ্ট্য আছে তা লিস্ট করে নিন এবং এক এক করে প্রতিটি সম্পর্কে একটু বিস্তারিত চিন্তা করুন কিভাবে সেটা সর্বোত্তমভাবে পরিবেশ করা যায়। সাধারনত ইন্টার্ভিউতে নিয়োগকর্তা নিজেই আপনার ইতিবাচক দিক বা শক্তি সম্পর্কিত প্রশ্ন করে থাকে। আর যদি করে নাও থাকে তারপরও আপনি আপনার স্টোরি বলবেন। যেমন আপনি সমস্যার কুইক সমাধান দিতে পারেন তার একটা রিয়াল লাইফ উদাহারন দিয়ে বলুন অথবা আপনি লিডারশীপে ভাল সেইক্ষেত্রে আপনার কোন ভলান্টিয়ার এক্সপেরিয়েন্স শেয়ার করুন।

ইন্টার্ভিউর জন্য সাধারন কিছু টিপস:

আপনার সিভি তে যা আছে তা সম্পর্কে অবশ্যই পূর্ণ ধারনা নিয়ে যেতে হবে যেন সেখান থেকে কোন প্রশ্ন করলে আপনি প্রস্তুত থাকেন।
ফরমাল আর মার্জিত পোশাক পরিধান করুন।
আপনার সিভি, কভার লেটার, সার্টিফিকেট ও অন্যান্য জরুরি দলিলের অতিরিক্ত কপি সাথে রাখুন। মনে করে আপনার মোবাইল অথবা ইমেইলে অবশ্যই সবকিছুর সফটকপি রাখবেন।
মোবাইল ফোন বন্ধ বা অন্তত সাইলেন্ট করে ইন্টার্ভিউ রুমে যাবেন।
অবিরাম আই-কন্ট্যাক্ট ও মুখে হাসি নিয়ে কথা বলুন। এতে আপনার কনফিডেন্স বাড়বে ও নিয়োগকর্তার উপর ইতিবাচক প্রভাব পরবে।
কিছু প্রশ্ন নিজেও প্রস্তুত করে নিয়ে যান। এর মাধ্যমে চাকরির প্রতি আপনার আগ্রহ প্রকাশিত হবে।
কিছু সাধারন প্রশ্নের জন্য প্রস্তুত থাকুন ও নিজে নিজে ঘরে বসে অনুশীলন করুন।

ইন্টার্ভিউর প্রথম দিক ও শেষের দিক খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ইন্টার্ভিউর প্রথম ৫ মিনিটে নিজের বেস্ট উপস্থাপন করুন কেননা এর মধ্যেই নিয়োগকর্তা আংশিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন। আর সবশষে একটা ইতিবাচক উক্তি দিয়ে শেষ করুন যেন আপনাকে নিয়ে নিয়োগকর্তার শেষ ইম্প্রেশানটা ভাল হয়। চাকরির ইন্টার্ভিউ নিয়ে আপনার কোন মতামত অথবা বিশেষ কোন টিপস থাকলে আমাদের সাথে শেয়ার করুন।

Top